সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি: ঘনিয়ে আসছে ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, বাজছে ভোটের দামামা। নির্বাচনী আলোচনায় মেতে উঠেছে শহর থেকে গ্রাম-গঞ্জ এমনকি রাস্তার মোরে মোরে চায়ের আড্ডায়। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে আলোচনার মাত্রাও ততো বৃদ্ধি পাচ্ছে। জুলাই বিপ্লবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বহুবছরের মিত্র দুই দল বিএনপি এবং জামায়াত এখন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে। আর জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনে ভোটের মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন পর বিএনপি তাদের ঘাঁটি পুণর্দখল করতে মাঠে নেমেছে। তবে তাদের ঘাঁটি দখলে আনতে বেগ পেতে হতে পারে।
কারণ ২টি আসনে বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন সহ ইসলামিক দলগুলো জোট হওয়ায় ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে নরসিংদীর পাঁচটি আসনে মোট ৪৬ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন।
অধিকাংশ তরণ ভোটার মনে করেন, এবারের ভোট হবে তারণ্যের শক্তি। নতুন ও তরণ ভোটারদের ভোটের মাধ্যমেই যোগ্যব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। পাশাপাশি যার আমাদের জন্য কর্মসংস্থান ও বেকারত্ব দূরীকরণের চিন্তা করেন তাদেরকেই ভোট দিবে।
বেসরকারি চাকরিজীবী ওসমান বলেন, এবারের ভোট হবে চিন্তা ও ভাবনার। যারা দেশ ও দশের কল্যাণে কাজ করবে পাশাপাশি বৈষম্য দূর করে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তর করতে পারবে তাদেরকেই ভোট দেবে।
নরসিংদী-১ (সদর): স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পালাক্রমে এই আসনে জয় পেলেও এবার আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রল কবির খোকন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. ইব্রাহিম ভূঁইয়া। এ ছাড়া গণঅধিকার পরিষদের নেত্রী এডভোকেট শিরিন আক্তার, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের হামিদুল হক পারভেজ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সাখাওয়াত হোসেন, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মোস্তফা জামান, গণফোরামের শহিদুজ্জামান চৌধুরীসহ মোট আটজন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন।
নরসিংদী-২ (পলাশ): আসনটিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ও এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার দুই হেভিওয়েট নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া আছেন জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি আমজাদ হোসেন। আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হলেও স¤প্রতি নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগ এখানে ধারাবাহিকভাবে জয় পেয়েছে। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের ইঞ্জিনিয়ার মুহসীন আহম্মেদ, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের আসিফ ইকবাল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফারক ভূঁইয়া, জাতীয় পার্টির রফিকুল আলম সেলিমসহ আটজন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
নরসিংদী-৩ (শিবপুর): আসনটিতে নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহীর বিপরীতে রয়েছেন বিএনপির প্রয়াত নেতা আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া পরিষদের সদস্য সচিব, শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দলটির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুল ইসলাম মৃধা। স্থানীয়দের মতে, ভোটের দিনে আসনটি হতে পারে ত্রিমুখী লড়াই। এ ছাড়া রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রাকিবুল ইসলাম রাকিব, জাকের পার্টির আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম আলী পাঠানসহ ১০ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব): এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. জাহাঙ্গীর আলম। টানা চার মেয়াদে আওয়ামী লীগ জয়ী হওয়ায় এবার আসনটি পুনরদ্ধারে মরিয়া বিএনপি।
নরসিংদী-৫ (রায়পুরা): এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবচেয়ে জটিল। বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল ও দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র জামাল আহাম্মদ চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের বদরজ্জামান উজ্জ্বল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান, জামায়াতের সাবেক নেতা মুহাম্মদ পনির হোসেন প্রার্থী হয়ে রয়েছেন ভোটের মাঠে। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তাজুল ইসলাম, স্বতন্ত্র মো. সোলায়মান খন্দকার, স্বতন্ত্র মো. গোলাপ মিয়া, জাতীয় পার্টির মেহেরন নেছা খান হেনা ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।


