সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি: নরসিংদীর চরাঞ্চলে আওয়ামী যুবলীগ নেতারা বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া মিল্লাত মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বন্দুক ঠেকিয়ে পায়ে গুলি করার খবর পাওয়া গেছে। পরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতারা ১০টি গর ও দুটি মহিষ লুট করে নিয়ে গেছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের সাতপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাউয়ুমের সমর্থক নোয়াব আলী মেম্বারের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দীপু ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর জের ধরে সা¤প্রতিক সময়ে দুপক্ষে একাধিকবার পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে যুবদল সভাপতিসহ চারজন নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। ওই সব সংঘর্ষের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের দাপটে বিএনপির তিন শতাধিক নেতা-কর্মী গ্রামছাড়া হয়ে যান। এই শূন্যতার সুযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতারা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা হাবিব, হুমায়ন, হিমেল ও ফারকের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা সাতপাড়া গ্রামের বিএনপি নেতা শিতলের ভাই ফোরকানের বাড়িতে হামলা চালায় এবং দুটি মহিষ ও ১০টি গর লুট করে নেয়। পরে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে গরগুলো উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্তরা। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নরসিংদী সদর মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) এ আর এম আল মামুন বলেন, স্থানীয়ভাবে পদপদবি ও বালু ব্যবসা নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহ আলম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক কাইয়ুম সরকারের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এর জেরে সাধারণ সম্পাদক কাইয়ুম সরকারের লোকজন এলাকায় অবস্থান নেয়-এটা চায় না সভাপতি।
তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনায় আমি তো সেটার সমাধান দিতে পারব না। এ ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত থাকলে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।


