নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এই সিদ্ধান্ত জানান।
নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার মোট ভোটারের অন্তত ১ শতাংশের স্বাক্ষর সংবলিত সমর্থনসূচক তালিকা জমা দিতে হয়। ডা. তাসনিম জারা গত ২৯ ডিসেম্বর প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সংগ্রহ করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে আজ যাচাই-বাছাই শেষে নথিপত্রে ত্রুটি বা তথ্যের অমিল থাকার কারণে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মনোনয়নপত্র বাতিলের এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন ডা. তাসনিম জারা।
মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ জানিয়ে এই স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, আপনারা জানেন যে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিতে হয়। যা দরকার ছিল তার চেয়ে বেশি স্বাক্ষর আমরা জমা দিয়েছিলাম। সেখান থেকে দশজনের তথ্য ভেরিফাই করতে গিয়ে দশ জনেরই সত্যতা খুঁজে পেয়েছেন নির্বাচন কমিশন।
তাসনিম জারা বলেন, কিন্তু দশজনের মধ্যেই দুজনের ক্ষেত্রে তারা দেখেছেন, তারা ঢাকা-৯ আসনের ভোটার না। এই দুজনের যাচাইয়ের কোনো উপায় ছিল না, তারা ঢাকা-৯ আসনের ভোটার কিনা। ওই দুই ভোটারের মধ্যে একজনের এনআইডি কার্ডের ঠিকানা অনুযায়ী তিনি নিজেকে ঢাকা-৯ আসনের ভোটার হিসেবে জানতেন। অন্যজন খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা। এই এলাকাটি ঢাকা-৯ ও ঢাকা-১১ উভয় আসনের মধ্যে পড়ায় তিনিও নিজেকে ঢাকা-৯ এর ভোটার বলে জানতেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী তিনি ঢাকা-১১ আসনের ভোটার।
এই স্বতন্ত্র প্রার্থী আরও বলেন, এই দুটি ব্যতিক্রম বাদে বাকি সব তথ্য সঠিক ছিল। আমরা আপিল করব। আমরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার রাজনীতির লড়াইয়ে নেমেছি, আমাদের সেই লড়াই আমাদের চালু থাকবে।
উল্লেখ্য, তাসনিম জারা এর আগে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাথে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনি তহবিল সংগ্রহ করে আলোচনায় আসেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আজ ও আগামীকাল দেশের সকল আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলবে। যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তারা ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে সেই আপিলসমূহ নিষ্পত্তি করা হবে। চূড়ান্তভাবে বৈধ প্রার্থীরা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
আরও পড়ুন:
মৃত্যুর কারণে বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন কার্যক্রম সমাপ্ত
তারেক রহমানের একান্ত সচিব আব্দুস সাত্তার, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী


