![]() |
মাহিদুল ইসলাম: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শীর্ষ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা অন্যান্য কর্মচারীদের তুলনায় অনেক বেশি হারে বেতন নিচ্ছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কোম্পানির এমডির বেতন অস্বাভাবিক হারে বাড়লেও সেই তুলনায় কোম্পানির মুনাফা বাড়েনি, দেয়নি ডিভিডেন্ট।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে লিজিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা (এমডি) প্রতিমাসে যে পরিমাণ আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন তা কতটুকু যৌক্তিক এবং কোম্পানিগুলোর মুনাফা বৃদ্ধি, ডিভিডেন্ট ঘোষণা এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে সাফল্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে এই রিপোর্টে।
১ম পর্যায়ে আজ তুলে ধরা হলো ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস সম্পর্কে।
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, কোম্পানিটি ৩০০ কোটি টাকা মূলধন নিয়ে দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ২০০৭ সালে তালিকাভূক্ত হয়েছে। কোম্পানির বর্তমান পরিশোধিত মূলধনের পরিমান ২২১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ার ২২ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ২৪৬ এবং রিসার্ভ অ্যান্ড সারপ্লাস রয়েছে (৪০৬৫) কোটি (৯৭) লাখ টাকা।
কোম্পানিটির বিগত ১৩ বছরের ২০১১-২০২৩ বার্ষিক নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) বেতন ভাতা, মুনাফা, ডিভিডেন্ট ও অন্যান্য আর্থিক প্যারামিটার সংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে,
২০১১ সালে কোম্পানিটির এমডি মি.মুস্তাফিজুর রহমান বেতন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাসহ সর্বমোট নিয়েছেন ৬৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা। একই সময় কোম্পানিটির নিট প্রফিট হয়েছিল ৯ কোটি ৮৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছিল .৯৭ টাকা ও শেয়ার প্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ১২.০৭ টাকা। আলোচ্য বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল। বছরে ৯ কোটি টাকা প্রফিট করে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়ে এমডি নিজেই নিয়েছেন ৬২ লাখ টাকা যা প্রতি মাসে ৫ লক্ষ টাকার অধিক।
২০১২ সালে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকা অবস্থায় মি.মুস্তাফিজুর রহমান বেতন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাসহ সর্বমোট নিয়েছেন ৭১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। একই সময়ে কোম্পানিটির নিট প্রফিট হয়েছিল ১১ কোটি ১৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছিল .৬৫ টাকা ও শেয়ার প্রতি নিট সম্পদমূল্য হয়েছিল ১২.১৫ টাকা। কিন্তু আলোচ্য বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। বছরে ১১ কোটি ১৮ লাখ টাকা প্রফিট করেও বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দিয়ে এমডি নিজেই নিয়েছেন ৭১ লাখ ৬০ হাজার টাকা যা মাসিক বেতনে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা।
এছাড়া ২০১৩ সালেও কোম্পানিটির এমডি মি.মুস্তাফিজুর রহমান বেতন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাসহ সর্বমোট নিয়েছেন ৭১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। একই সময়ে কোম্পানিটির নিট প্রফিট হয়েছিল ১০ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছিল .৬৩ টাকা ও শেয়ার প্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ১২.২৮ টাকা। আলোচ্য বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। বছরে ১০ কোটি ৭০ লাখ টাকা প্রফিট করেও বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দিয়ে এমডি নিজেই নিয়েছেন ৭১ লাখ ৬০ হাজার টাকা যা প্রতি মাসে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা।
২০১৪ সালে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চলতি দায়ীত্বে থেকে নেহাল আহমেদ বেতন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাসহ সর্বমোট নিয়েছেন ৭৯ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। একই সময়ে কোম্পানিটির নিট প্রফিট হয়েছিল ১১ কোটি ৭ লাখ টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছিল .৬৫ টাকা ও শেয়ার প্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ১২.৪২ টাকা। কিন্তু আলোচ্য বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। বছরে ১১ কোটি ৭ লাখ টাকা প্রফিট করেও বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দিয়ে এমডি নিজেই নিয়েছেন ৭৯ লাখ ৭৯ হাজার টাকা যা মাসিক বেতন হিসেবে সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা।
২০১১ সালে কোম্পানির লোন্স অ্যান্ড এডভান্স ছিল ১৩৪৯ কোটি ৮ লাখ টাকা যা ২০১৪ সালে হয়েছিল ১৪৪৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। অর্থাৎ বিগত ৪ বছরে ২০১১-২০১৪ পর্যন্ত কোম্পানিটির লোন্স অ্যান্ড এডভান্স বেড়েছে ৯৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
পক্ষান্তরে, ২০১১ সালে কোম্পানিটির ডিপোসিট ও অন্যান্য প্রাপ্তি ছিল ৮৫৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা যা ২০১৪ সালে হয়েছিল ১০৩৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ বিগত ৪ বছরে ২০১১-২০১৪ পর্যন্ত কোম্পানিটির ডিপোসিট ও অন্যান্য প্রাপ্তি বেড়েছে ১৮৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
এছাড়া, ২০১১ সালে কোম্পানিটির সংরক্ষিত আয় ছিল ৮ কোটি ৫৫ লাখ যা ২০১৪ সালে হয়েছিল ৯ কোটি ৪৮ লাখ। অর্থাৎ বিগত ৪ বছরে ২০১১-২০১৪ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটির সংরক্ষিত আয় বেড়েছে ৯৩ লাখ টাকা।
২০১১-২০১৪ পর্যন্ত আলোচ্য ৪টি অর্থ বছরেই কোম্পানির চেয়ারম্যান ছিলেন সিঙ্গার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাহবুব জামিল। পরে ২০১৫ সালের শুরুতে সিংগার বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে তাদের শেয়ার ছেড়ে দিলে তিনি (মাহবুব জামিল) কোম্পানিটি চেয়ারম্যার পদও ছেড়ে দেন। ফলে মি. এম. এ হাশেম ৯-০২-২০১৫ তারিখে গ্রীনল্যান্ড ইকুইটিস লিমিটেডের নমিনেটেড পরিচালক হিসেবে কোম্পানির বোর্ডে আসেন। পরে ৭-৫-২০১৫ তারিখে তিনি কোম্পানির চেয়ারম্যান পদের দায়ীত্ব গ্রহণ করেন। একই সময়ে ৪-৬-২০১৫ তারিখে মি. রাশেদুল হক কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে যোগদান করেন। এখানে যোগদানের পূর্বে তিনি রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডে ডেপুটি ম্যানেচজিং ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রিয় পাঠক, আজ প্রকাশিত হলো প্রথম পর্ব, দ্বিতীয় পর্ব আগামীকাল, সাথেই থাকুন।
© ২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কর্পোরেট সংবাদ সম্পাদক - মোঃ মিজানুর রহমান । উপদেষ্টা সম্পাদক- জেসমিন আক্তার, এফসিএস ই-মেইলঃ corporatesangbad@gmail.com । ফোনঃ ০২২২-৩৩৫৪১২৫ । মোবাইলঃ ০১৭১১০৭৬৮১৫ অফিসঃ ৫৫/বি, নোয়াখালী টাওয়ার, ১১ তলা, সুইট ১১-এফ, পুরানা পল্টন, ঢাকা ১০০০ |
ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে এমডির বেতন বাড়লেও বাড়েনি প্রফিট, দেয়নি ডিভিডেন্ট– পর্ব ১ https://corporatesangbad.com/505436/ |