জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু

Posted on January 12, 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার বিচার প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় পর জাতিসংঘের আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজি) শুরু হচ্ছে। জাতিসংঘের এই আদালত ‘বৈশ্বিক আদালত’ (ওয়ার্ল্ড কোর্ট) নামেও পরিচিত।

রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দেশটির স্থানীয় সময় বেলা ১০টা থেকে (বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা) মামলার শুনানি শুরু হবে। আগামী ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে এই শুনানিপর্ব।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, এক দশকেরও বেশি সময় পর এটিই প্রথম কোনও গণহত্যা–সংক্রান্ত মামলা যা আইসিজে পূর্ণাঙ্গভাবে শুনবে। এই মামলার রায় মিয়ানমারের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা গণহত্যা মামলার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

অবশ্য মিয়ানমার সরকার বরাবরই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। জাতিসংঘের মিয়ানমার–বিষয়ক স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থার প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ান রয়টার্সকে বলেন, এই মামলা গণহত্যার সংজ্ঞা কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা কীভাবে প্রমাণ করা যায় এবং এ ধরনের অপরাধের প্রতিকার কীভাবে দেয়া যেতে পারে— এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করতে পারে।

২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম–প্রধান দেশ গাম্বিয়া আইসিজেতে এই মামলা দায়ের করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশে বসবাসকারী মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটি গণহত্যা চালিয়েছে।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানের ফলে অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। সেখানে তারা হত্যাকাণ্ড, গণধর্ষণ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে।

২০১৭ সালের ওই সামরিক অভিযানে ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড’ অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জাতিসংঘের একটি তথ্য অনুসন্ধানী মিশন সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে। তাদের দাবি, এটি মুসলিম সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার জবাবে পরিচালিত একটি বৈধ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ছিল।

২০১৯ সালে মামলার প্রাথমিক শুনানিতে মিয়ানমারের তৎকালীন নেত্রী অং সান সু চি গাম্বিয়ার আনা গণহত্যার অভিযোগকে ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

রয়টার্স বলছে, আইসিজের চলমান শুনানিতে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের বক্তব্য আন্তর্জাতিক আদালতে শোনা হবে। তবে সংবেদনশীলতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণে এসব শুনানি গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ থাকবে। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) শুনানি শুরু হবে এবং তা টানা তিন সপ্তাহ চলবে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে সেনাবাহিনী নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করার পর থেকেই মিয়ানমার আরও গভীর সংকটে রয়েছে। অভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলন দমন করতে গিয়ে দেশজুড়ে সশস্ত্র বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমানে মিয়ানমারে ধাপে ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে জাতিসংঘসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ও মানবাধিকার সংগঠন এসব নির্বাচনকে স্বাধীন ও সুষ্ঠু নয় বলে আখ্যায়িত করেছে।