ময়মনসিংহে ১১টি আসনে মনোনয়ন জমা দিলেন ৯৪ প্রার্থী

Posted on December 31, 2025

ময়মনসিংহ ব্যুরো: ময়মনসিংহ জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯৪ জন প্রার্থী। এর আগে ১১টি আসনে ১১৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তবে গত দশদিন পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেও জমা না দিয়ে ২৩ জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচনী আমেজ বইতে শুরু করেছে।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাত ৭টার দিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রির্টানিং কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোঃ সাইফুর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর মধ্যে ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে শেষতক জমা হয়েছে ৯টি মনোনয়ন। এর মধ্যে বিএনপি দলীয় প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা রয়েছেন।

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদারসহ ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন ৯ জন। এতে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা রয়েছেন।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার এম. ইকবাল হোসাইন। তার সঙ্গে এ আসনে দলের বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সদ্য বহিস্কৃত আহবায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আহম্মেদ তায়েবুর রহমান হিরন। তাদের নিয়ে এ আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৭ জন প্রার্থী। তারা হলেন- জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা বদরুজ্জামান, নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী হাফেজ মাওলানা আবু তাহের খান, এনসিপির কবি সেলিম বালা প্রমূখ। তবে এ আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন মোট ৮ জন প্রার্থী।

ময়মনসিংহ-৪ (সদর) বিভাগীয় সদরের এই হেভিওয়েট আসনে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রুহ করে শেষতক জমা দিয়েছেন ১০ জন। তারা হলেন ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক (বিভাগীয়) সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, জামায়াতের প্রার্থী কামরুল আহসান ইমরুল, খেলাফত মজলিসের মুফতি কাজী মোশতাক আহমাদ ফারুকী, সিপিবির প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা।

ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ও দলটির দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক জাকির হোসেন বাবলু। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। এ আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন ৬ জন।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনে মোট মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন ১০ জন। তবে জমা দিয়েছেন ৯ জন প্রার্থী। তারা হলেন- বিএনপির আকতারুল আলম ফারুক, জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন, জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থী অধ্যাপক জসীম উদ্দিন প্রমূখ।

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে শেষদিনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য ডাঃ মাহাবুবুর রহমান লিটন। এছাড়াও এ আসনে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেও জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থী।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করে সবাই জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ধানের শীষের প্রার্থী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হয়েছেন শাহ নূরুল কবীর শাহীনসহ প্রমূখ।

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র করে শেষতক জমা দিয়েছেন ১০ প্রার্থী। তারা হলেন- বিএনপির প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী, বাংলাদেশ ডেভলমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁনসহ অন্য দলের প্রার্থীরা।

রাজনীতির উত্তপ্ত জনপদ হিসাবে পরিচিত ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আখতারুজ্জামান বাচ্চু। এ আসনটিতে ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন মোট ১২ জন। তাদের মধ্যে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ছাড়াও বিএনপির একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে।

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফখরুদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চু। তার সঙ্গে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম এবং এনসিপিসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মোঃ গোলাম মাসুম প্রধান এবিষয়ে বলেন, এ জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে ১১৭ প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষতক জমা দিয়েছেন ৯৪ জন। এখন নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসাবে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠ করতে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। কোন অবস্থাতেই নির্বাচনী মাঠে বিশৃঙ্খলা মেনে নেওয়া হবে না।