January 20, 2026 - 12:45 am
তথ‌্য অ‌ধিদপ্ত‌রের নিবন্ধন নম্বরঃ ৭৭
Homeধর্ম ও জীবনপবিত্র রজব মাসের ফজিলত ও ইবাদত

পবিত্র রজব মাসের ফজিলত ও ইবাদত

spot_img

হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।। ‘রজব’ হলো আল্লাহ তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহের মাস। রজব মাস বান্দার গুনাহ মাফের মাস। রজব মাসের সঙ্গে ইসলামের অতীত ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-রজব মাসে আকাশ পানে মেরাজে গমন করেছিলেন। হযরত নূহ (আ.) মহাপ্লাবনের আশঙ্কায় রজব মাসেই কিস্তিতে আরোহণ করেছিলেন। হযরত রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের- কাছে রজব মাসেই প্রথম ওহি আসে।

এছাড়া রজব হলো জান্নাতের তলদেশ প্রবাহিত একটি নদীর নাম। এ নদীর পানি দুধের মতো ধবধবে সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি। যারা রজব মাসে নফল রোজা রাখবে আল্লাহ তায়ালা আখেরাতে ওইসব রোজাদারকে রজব নদীর পানি দ্বারা আপ্যায়ন করবেন। সুমিষ্ট রজব নদীর পানি বরফের চেয়ে শীতল। যারা একবার রজব নদীর পানি পান করবে, তাদের আর কোনোদিন পানির পিপাসা লাগবে না, সুবহানাল্লাহ।

আরবি ১২ মাসের মধ্যে রজব মাস অত্যন্ত সম্মানিত। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আসমান সমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই মহান আল্লাহর বিধানে মাসের সংখ্যা ১২টি, এর মধ্যে চারটি হচ্ছে (যুদ্ধ-বিগ্রহের জন্য) নিষিদ্ধ মাস; এটা নির্ভুল ব্যবস্থা। অতএব, তার ভেতরে (হানাহানি করে) তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করো না। (সুরা তাওবা : ৩৬)।

আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে পুরো আরবে বছরের মধ্যে চার মাস যুদ্ধ-বিগ্রহ বন্ধ থাকত। মহিমান্বিত রজব মাসে আরবে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ ছিল। হযরত রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-সঙ্গী-সাথিদের রজব মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ প্রদান করেছেন। সুনানে বায়হাকি শরিফ ৩/৩১৯-এ বান্দার দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে পাঁচটি বিশেষ রাতের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। পাঁচটি রাতের প্রথমটি হলো জুমার রাত, দ্বিতীয়টি ঈদুল ফিতরের রাত, তৃতীয়টি ঈদুল আজহার রাত, চতুর্থটি রজব মাসের চাঁদ উদয়ের প্রথম রাত, পঞ্চমটি মাহে শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত।

তাফসিরে কুরতুবি ৯/৩৩২-এ উল্লেখ করা হয়েছেথ হযরত কায়েস ইবনে উবাদা বলেন, রজব মাসের ১০ তারিখে আল্লাহ বান্দার দোয়া কবুল করেন। এক কথায় বলা হয়, রজব হলো দোয়া কবুলের মাস। বান্দার ক্ষমা লাভের মাস। রমজানের প্রস্তুতি নেওয়ার মাস।

অন্যান্য মাসের মতো রজব মাসের জন্য বিশেষ কিছু নফল আমল রয়েছে; যা আমলের মাধ্যমে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি লাভ ও জান্নাত লাভের পথ সুগম হয়। হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হযরত রাসূল (সা.) দুই হাত তুলে এ দোয়া পাঠ করতেন এবং সাহাবাদের পড়তে বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজবাও ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা ইলা শাহরির রমাদান। (মসনদে আহমদ)। অর্থ : হে আল্লাহ রজব আর শাবান মাসে আমাদের বরকত দান করে রমজান পর্যন্ত আমাদের জীবিত রাখুন, আমাদের রমজানের ফজিলত অর্জন করার তৌফিক দান করুন।

রজব মাস এলে সাহাবায়ে কেরাম, তাবেইন, তাবে-তাবেইন, আইম্মায়ে মুজতাহেদিন সহ মুমিন বান্দারা বিশেষ কিছু নফল আমল করতেন। আমলিয়াতের কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, এ মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ইবাদত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম বৃহস্পতিবার রাতকে লাইলাতুল রাগায়িব বলা হয়। এ মাসের ১৫ তারিখের রাতকে লাইলাতুল ইস্তিফতাহ বলা হয়। এ মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতকে শবেমেরাজ বলা হয়। হজরত রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের- মাধ্যমে যে কয়েকটি মোজেজা সংঘটিত হয়েছিল, এর মধ্যে মেরাজ হযরত রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের-সর্বোচ্চ মোজেজা। মেরাজের রাতের ফজিলত ও গুরুত্ব অপরিসীম। হযরত রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের- নবুয়ত লাভ-পরবর্তী ঘটনাগুলোর মধ্যে মেরাজ সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা।

হযরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে- হজরত রাসূল (সা.) বলেছেন, হে সালমান! এমন কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিনা স্ত্রীলোক কি নেই যে, এ মাসের প্রথম তারিখে মাগরিব ও এশার ওয়াক্তের মধ্যবর্তী সময় ৪০ রাকাত (অন্যত্র ২০ রাকাত উল্লেখ আছে) নামাজ পড়বে; তা পড়ার নিয়ম হলো, প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতেহার পর তিনবার সূরা ইখলাছ, তিনবার সূরা কাফেরুন পড়বে, এতে আল্লাহতায়ালা ওই বান্দার সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। আর আল্লাহতায়ালা তাকে কেয়ামতের দিন শহীদের দলের সঙ্গে উঠাবেন এবং আল্লাহতায়ালা তাকে বড় আবেদ হিসেবে গণ্য করবেন। আর সে যেন এক বছর নহে, একশ’বছর ধরে ইবাদত-বন্দেগি করেছে এবং আল্লাহ তায়ালা ওই ব্যক্তিকে জান্নাতে হাজারো মর্যাদা দান করবেন।

এ মাসের ২৭ তারিখে রোজা রাখলে আল্লাহ জাহান্নামের আগুনকে রোজাদারের জন্য হারাম করে দেবেন এবং তার ওপর জান্নাত ওয়াজিব করে দেবেন, আর ওই ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার কাছে অবশ্যই গৃহীত হবে। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে রজব মাসের ফয়েজ বরকত লাভের তাওফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমিন।

লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। সাবেক ইমাম ও খতিব কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ্ (রহ.) মাজার জামে মসজিদ কদমতলী সিলেট। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

দিনাজপুরে খায়রুল আনাম ও জাহানারা বেগম ট্রাস্টের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ

কর্পোরেট ডেস্ক: দিনাজপুরে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও খায়রুল আনাম ও জাহানারা বেগম ট্রাস্টের উদ্যোগে অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। ট্রাস্টের...

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮ লাখ ৯৭ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক লাখ সেনা সদস্যসহ মোট...

সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ

পুঁজিবাজার ডেস্ক: সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও...

বেঙ্গল উইন্ডসরের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা

পুঁজিবাজার ডেস্ক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টিক লিমিটেড পর্ষদ সভা আগামী ২৫ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা...

‘ফেস অব ওয়ালটন এসি’ হলেন ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ

কর্পোরেট ডেস্ক: বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান এয়ারকন্ডিশনার ব্র্যান্ড ওয়ালটনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেন জাতীয় দলের নাম্বার ওয়ান তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ। এখন থেকে তিনি ‘ফেস অব...

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় রোডম্যাপ প্রকাশ

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোডম্যাপে আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন বলে...

সিরাজগঞ্জ যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: আগামী শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সিরাজগঞ্জে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলটির আমির ডা. শফিকুর...