চুয়াডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে পিতা-পুত্রকে কুপিয়ে খুন: আটক ২

Posted on August 26, 2025

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে পিতা-পুত্রকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া উইনিয়নের গুলশান পাড়ার মাঠে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন-আলুকদিয়া বাজার পাড়ার মৃত বুদ্দিন আলীর ছেলে তৈয়ব আলী (৪৫) ও তার ছেলে মিরাজ হোসেন (১৬)। ঘটনার পরপরই খুনের সাথে জড়িত ওই এলাকার ত্রাস আলুকদিয়া বাজার পাড়ার আব্দুর রহমানের ছেলে রাজিব হোসেন ওরফে গোল্ডেন রাজু (৩০) ও জহুর উদ্দিনের ছেলে হাসান আলী ওরফে বাবুকে (৪৫) আহতাবস্থায় আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং পিতা-পুত্রের নিহতের ঘটনায় শোকে পরিনত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী আলুকদিয়া বাজার পাড়ার আনোয়ার হোসেন বলেন, সকাল থেকে এলাকার তুফান মিয়ার চাতালে কাজ করছিলাম। চাতালের পাশেই তৈয়ব আলী ও তার ছেলে মিরাজ তাদের নিজের জামিতে পাট শুকাচ্ছিল। বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে রাজু ও বাবু সেখানে যায় এবং তৈয়ব আলী ও মিরাজকে ওই জমি থেকে সরে যেতে বললে উভয়ের মধ্যে বাকবিন্ডার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে প্রথমে লাঠি দিয়ে এবং পরবর্তীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তৈয়ব আলী ও মিরাজকে এলোপাতড়ি কোপাতে থাকে। এতে দু’জনই রক্তাক্ত জখম হয়। স্থানীয় লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিলে চিকিৎসক মিরাজকে মৃত ঘোষণা করেন। তৈয়ব আলীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। আহত তৈয়ব আলীকে সদর হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাখা হলে ঢাকায় নেয়ার প্রস্তুতিকালে বেলা ৩টার দিকে তিনিও মারা যান।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাপলা খাতুন বলেন, তৈয়ব আলী ও মিরাজ নামের দু’জনকে রক্তাক্ত অবস্থায় জরুরী বিভাগের আনা হয়। তাদের মধ্যে মিরাজকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। তৈয়ব আলীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার শরীরে রক্ত দিতে বলা হয়েছে। তৈয়ব আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

এদিকে, তৈয়ব আলীকে সদর হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাখা হলে ঢাকায় নেয়ার প্রস্তুতিকালে বেলা ৩টার দিকে তিনিও মারা যান।

এলাকাবাসীদের অভিযোগ, রাজিব হোসেন ওরফে গোল্ডেন রাজু দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় থাকতেন। বছর খানের আগে ফিরে আসে। বাড়ি ফেরার পরপরই তারই মামাতো ভাই হাসান আলী ওরফে বাবুকে সাথে নিয়ে এলাকার বিভিন্ন মানুষের জমি দখলসহ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিল। এলাকাবাসী অভিযোগ করে আরও বলেন, রাজুর বাবার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রুইথনপুর গ্রামের হলেও ছোট থেকে সে তার মা-বোনকে সাথে নিয়ে তাদের নানা বাড়ি আলুকদিয়া বাজারে বসবাস করে আসছিল। পরবর্তীতে মালয়েশিয়া পারি জমায়। সেখানে বিয়েও করে রাজু। তার স্ত্রীর সাথে ঝামেলার কারনে বছর খানেক আগে মালয়েশিয়া দেশে ফিরে আসে। দেশে ফিরে রাজু ও তার মামাতো ভাই বাবু মিলে এলাকায় বিভিন্ন মানুষের জমি দখল, চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়াতেন। তাদের দু’জনের অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। বিভিন্ন হুমকি-ধামকিতে তাদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেনি।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তৈয়ব আলী ও তার ছেলে মিরাজ নামের দু’জন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যায় এবং খুনের সাথে জড়িত রাজু ও বাবুকে আটক করা হয়। তাদেরকে সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। খুনের কাজে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত বিষয়টি প্রক্রিয়াধিন।

আটক রাজু ও বাবু