জাতীয় শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি

দেশে পৌঁছেছে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশিষ্ট সাংবাদিক, গীতিকার, কলামিস্ট ও সাহিত্যিক আবদুল গাফফার চৌধুরীর মরদেহ ঢাকা পৌঁছেছে। শনিবার (২৮ মে) সকাল ১১টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ‘বিজি ২০২’ ফ্লাইটে লন্ডন থেকে তাঁর মরদেহ দেশে পৌছায়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সরকারের পক্ষে মরদেহ গ্রহণ করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধকালে মুজিবনগর সরকারনিবন্ধিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক জয় বাংলা’র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ আজ দুপুর ১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হবে। সেখানেই গার্ড অব অনারের পর বেলা ৩টা পর্যন্ত সবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। এরপর সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে জানাজার পর বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আনা হবে বরেণ্য এ সাংবাদিকে। বিকেল সাড়ে ৫টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করে হবে।

দেশে পৌঁছেছে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী গত ১৯ মে লন্ডনের একটি হাসপাতালে মারা যান। ২০ মে তার প্রথম জানাজা ইংল্যান্ডের ব্রিকলেন মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া সেখানকার আলতাব আলী পার্কের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী তার মেধা-কর্ম ও লেখনীতে এ দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখেছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সরকার নিবন্ধিত সাপ্তাহিক ‘জয় বাংলা’ পত্রিকায় বিভিন্ন লেখালিখির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছেন। পরবর্তী সময়ে তিনি প্রবাসে থেকেও তার লেখনীর মাধ্যমে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৩৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়ার চৌধুরীবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী। তাঁর বাবা হাজী ওয়াহিদ রেজা চৌধুরী ও মা জহুরা খাতুন। ১৯৫০ সালে গাফ্‌ফার চৌধুরী পরিপূর্ণভাবে কর্মজীবন শুরু করেন। এ সময়ে তিনি ‘দৈনিক ইনসাফ’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। মহিউদ্দিন আহমদ ও কাজী আফসার উদ্দিন আহমদ তখন ‍‘দৈনিক ইনসাফ’ পরিচালনা করতেন। ১৯৫১ সালে ‘দৈনিক সংবাদ’ প্রকাশ হলে গাফফার চৌধুরী সেখানে অনুবাদকের কাজ নেন। এরপর তিনি বহু পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন।

মাসিক সওগাত, দিলরুবা, মেঘনা, ইত্তেফাক, আজাদ, জেহাদ ও পূর্বদেশসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন বরেণ্য এ সাংবাদিক। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সপরিবারে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আগরতলা হয়ে কলকাতা পৌঁছান। সেখানে মুজিবনগর সরকারের মুখপত্র সাপ্তাহিক জয়বাংলায় লেখালেখি করেন। এ সময় তিনি কলকাতায় দৈনিক আনন্দবাজার ও যুগান্তর পত্রিকায় কলামিস্ট হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দৈনিক জনপদ বের করেন। তিনি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’র রচয়িতা।

১৯৭৩ সালে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলজিয়ার্সে ৭২ জাতি জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে যান। দেশে ফেরার পর তাঁর স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হলে তাঁকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে কলকাতা নিয়ে যান। সেখানে সুস্থ না হওয়ায় তাকে নিয়ে ১৯৭৪ সালের অক্টোবর মাসে লন্ডনে যান। এরপর তাঁর প্রবাসজীবনের ইতিহাস শুরু হয়।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস, স্মৃতিকথা, ছোটদের উপন্যাসও লিখেছেন আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী। ‘চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান’, ‘সম্রাটের ছবি’, ‘ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা’, ‘বাঙালি না বাংলাদেশী’সহ তার প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা প্রায় ৩০। এছাড়া তিনি কয়েকটি পূর্ণাঙ্গ নাটক লিখেছেন। এর মধ্যে আছে ‘পলাশী থেকে বাংলাদেশ’, ‘একজন তাহমিনা’ ও ‘রক্তাক্ত আগস্ট’।

কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন গাফ্‌ফার চৌধুরী। ১৯৬৩ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার পান তিনি। এ ছাড়া বাংলা একাডেমি পদক, একুশে পদক, শেরেবাংলা পদক, বঙ্গবন্ধু পদকসহ আরও অনেক পদকে ভূষিত হয়েছেন।

আরো খবর »

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ফল প্রকাশ

Tanvina

ঈদে ট্রেনের ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু আগামীকাল

Tanvina

পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান