সারাদেশ-টুকিটাকি

নেতাদের ছত্রছায়ায় কিশোর গ্যাং

সাদ্দাম হোসেন মুন্না, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

নারায়ণগঞ্জে এবার কিশোর গ্যাং নিয়ে নতুন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। চিন্তায় পড়েছে অভিভাবক মহল। বিপাকে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিশোর গ্যাংয়ের উৎপত্তি স্থল কতিপয় রাজনৈতিক নেতা থেকে। তা অকপটে স্বীকার করেছে একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ প্রশাসন। বর্তমানে উঠতি বয়সের ছেলেরা মোবাইলে আশক্ত হয়ে সংঘবদ্ধ ভাবে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে কিশোর গ্যাংয়ে পরিনত হচ্ছে।

বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, উঠতি বয়সের ছেলেরা স্কুল কলেজ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন খোলা জায়গায় বা বিভিন্ন পার্কে বসে এমনকি নদীর তীরের ওয়াকওয়েতে সংঘবদ্ধ ভাবে আড্ডাবাজি করছে। আর মোবাইল ফোনের চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে ব্যস্ত রয়েছে। আর এভাবে উঠতি বয়সের ছেলেরা ধাবিত হচ্ছে বিপথে। এ সকল কিশোরদের অভিভাবকরা মনে করেন তার সন্তান স্কুল বা কলেঝে রয়েছে, শিক্ষা গ্রহণ করছে কিন্তু তারা জানেনা তার সন্তান কোথায় রয়েছে, কি করছে। এভাবে তারা আশক্ত হয়ে পড়ছে মাদকসহ জঘন্য অপরাধে। যা থেকে আর ফিরে আসার উপায় থাকে না। আর একাণে অশান্তি শুরু হয় এবং ধ্বংস হয়ে যায় একটি পরিবার।

একজন জনপ্রতিনিধি বলেন, কিশোর গ্যাং আমরাই তৈরী করছি। নিজেদের আধিপত্ব বিস্তারে উঠতি বয়সের ছেলেদের হাতে তুলে দিচ্ছে ধারালো অস্ত্র ও তাদের অপকর্মকর্তার জন্য টাকা। আর এ সুযোগে তারা হয়ে উঠছে ভয়ঙ্কর অপরাধী। তারা ঘটাছে হত্যার মত বড় বড় ঘটনা।

পুলিশ প্রশাসনের এক কর্তা ব্যক্তি বলেন, কিশোর গ্যাং বলতে কিছু নেই। এটা কোন আলাদা বাহিনী নয়। এরা আমাদের সন্তান, আমাদের আত্বিয়। তাদের সঠিক পথে পরিচালনা করা আমাদের দায়িত্ব। অভিভাবকরা সচেতন হলে এ সকল কিশোর অপরাধের প্রবনতা কমে আসবে। মোবাইল আশক্তির কারণে অনেক অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরকারের নির্দেশনা রয়েছে ১৮ বছরের নিচে কোন ছেলে-মেয়েকে মোবাইল ব্যবহার করতে না দেয়া। যেহেতু মোবাইলে গুগল করলে বিশ্বের সব কিছু জানা যায়। এর যেমন ভাল দিক রয়েছে তেমনই খারাপ দিক রয়েছে। উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েরা খারাপ দিক গুলি বেশী দেখে আর অপ্রাপ্ত প্রেমের ফাঁদে পড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় এবং হত্যাকান্ডসহ ধর্ষণের শিকার হয়। এর জন্য দায়ি অভিভাবকদের অসচেতনতা।

এ জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আর যে সকল রাজনীতিবিদ বা জনপ্রতিনিধি উঠতি বয়সের ছেলেদের প্রশ্রয় দিচ্ছে তাদের সামাজিক ভাবে বয়কট করা উচিৎ। নারায়ণগঞ্জে ২টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে একটি প্রেম সংক্রান্ত অপরটি আধিপত্ব বিস্তার নিয়ে। আর ঘটনা দুটি ঘটিয়েছে কিশোর অপরাধীরা। সম্প্রতি ফতুল্লায় ঘটেছে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা।

যা ঘটিয়েছে কিশোর গ্যাং। বর্তমানে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় দেখা যায়, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত। কেউ কিছু বলতে পারেনা কারণ তারা কোন না কোন রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে হোন্ডা বাহিনী যাদের অনেকে বড় ভাইয়ের লোক বলে জানে। তাদের কিছু বললে নেমে আসবে চরম দুভোর্গ। হতে হবে অপহরণ বা কাধে নিতে হবে মোটা অংকের চাঁদার বোঝা। তাই অনেকে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত দেখলেও না দেখার ভান করে এরিয়ে যান। আর এ সকল কারণে এখন কিশোর গ্যাং সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বন্দর থানায় ওপেন হাউজডে অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুষ্ঠানে বন্দর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু, কলাগাছিয়া ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার প্রধান অকপটে স্বীকার করেন, কিশোর গ্যাং তৈরীতে কিছু রাজনৈতিক নেতা বা জনপ্রতিনিধিদের হাত রয়েছে। তাদের ছত্রছায়ায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে কিশোর গ্যাং। আর মাদক ব্যবসাও কিশোর গ্যাংয়ের আরেকটি উৎপত্তি স্থল বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, কিশোর গ্যাং প্রতিহত করতে হলে প্রথমে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। তাদের সন্তানদের খোঁজ রাখতে হবে। তাদের সন্তান কোথায় যায়, কি করে তার খবর রাখতে হবে। আর মাদক নিয়ন্ত্রণে সবাই পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে তা হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব।

বন্দর থানার ওসি দিপক চন্দ্র সাহা বলেন, বাংলাদেশে পুলিশ এখন অনেক আধুনিক। বর্হিবিশ্বের চেয়ে আমাদের সেবার মান কোন অংশে কম নয়। ভারতের চেয়েও বাংলাদেশে পুলিশ সেবা উন্নত।

তবে কোথায়ও কোন অপরাধ দেখেলে তাৎক্ষনিক ৯৯৯ নাম্বারে কল দিলেই তাৎক্ষনিক পুলিশী সেবা পাওয়া যায়। তবে কিশোর গ্যাং দমনে সামাজিক আন্দোলনের বিকল্প নেই। আর মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সার্বক্ষনিক কাজ করেই যাচ্ছে।

এসময় তিনি হুশিয়ার করে দিয়ে বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের ও কিশোর গ্যাংদের গডফাদারদের ছাড় দেয়া হবে না। তাদের আইনের আওয়তায় আনার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। তবে সব শেষে দেখা যায় বর্তমানে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসন বিপাকে পড়েছে।

কিশোর গ্যাংয়েরে বিরুদ্ধে কোন আইন না থাকায় তাদের দমন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। আর এ জন্য প্রতিটি মহল্লায় পুলিশী টহল জোরদার করতে হবে বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ।

আরো খবর »

সিরাজগঞ্জে ফাঁকি দিয়ে মহাসড়কে ৩ চাকার গাড়ি, ঈদ যাত্রায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

৬ দফা দাবিতে বরিশালে শ্রমিকদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত 

Arif Hasan

পটুয়াখালীতে ভোটগ্রহনকালে নিহত হুমায়ুনের পরিবার পেলেন ১০ লক্ষ টাকা

Arif Hasan