শেয়ার বাজার

আজ থেকে ২% সার্কিট ব্রেকার আরোপের সিদ্ধান্ত বিএসইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে পতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। পুঁজিবাজারের মন্দাবস্থায় পূণ:রায় তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সিকিউরিটিজ দর কমার সর্বোচ্চ সীমা ২% করল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। যা আজ থেকে কার্যকর হবে।

বুধবার (২৫ মে) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এর স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই নির্দেশনায় দেয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সিকিউরিটিজের ধারা ২০-এ দ্বারা প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগে এবং বিনিময় অধ্যাদেশ ১৯৬৯ (১৯৬৯ সালের অধ্যাদেশ নং XVII), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এতদ্বারা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড (সিএসই) নিম্নগামী মূল্য পরিবর্তন সীমা (সার্কিট ব্রেকার) ৫% এর পরিবর্তে ২% আগের ট্রেডিং দিনের বন্ধ মূল্যের উপর ভিত্তি করে কার্যকর করতে হবে।

বিএসইসি কর্মকর্তারা বলছেন, আজ, বৃহস্পতিবার (২৬ মে) থে‌কে সা‌র্কিট ব্রেকা‌রের নতুন নিয়ম অনুযায়ী শেয়ার দর স‌র্বোচ্চ বাড়‌তে পার‌বে ১০ শতাংশ। আর শেয়ার দর স‌র্বোচ্চ কম‌তে পার‌বে ২ শতাংশ পর্যন্ত।

এর আগে গত ৮ মার্চ শেয়ারবাজারের নেতিবাচক অবস্থা সামলাতে দর কমার সর্বোচ্চ সীমা ১০% থেকে কমিয়ে ২% করেছিল কমিশন। যা পরিবর্তন করে ২০ এপ্রিল ৫% করেছিল। আজ ৫% থেকে কমিয়ে পূণ:রায় ২% এ নামিয়ে আনা হল।

এর আগে ২০ এপ্রিল এক আদেশে, সার্কিট ব্রেকারের নিম্নসীমা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়।

এরও আগে ২০২১ সালে সর্বোচ্চ পতনের ২% সীমা বেঁধে দিয়েছিল কমিশন। ওই বছরে ১ম ও ২য় দফায় ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া কোম্পানিগুলোর উপর এই সীমা আরোপ করা হয়েছিল।

২০২০ সালে দেশে মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরু হলো শেয়ার বাজারে ভয়াবহ ধস নামে। শেয়ারবাজারে পতন ঠেকাতে ওই বছরের ১৯ মার্চ সে সময়ের কমিশন প্রতিটি কোম্পানির শেয়ারের সর্বনিম্ন দাম বেঁধে দিয়ে ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করে দেয়।

এরপরে ২০২১ সালের ৭ এপ্রিল ১ম দফায় ৬৬টি ও ৩ জুন ২য় দফায় ফ্লোর প্রাইসে থাকা বাকি ৩০ কোম্পানি থেকে ফ্লোর প্রাইসের নির্দেশনা প্রত্যাহার করে নেয় কমিশন। ওইসময় ফ্লোর তুলে নেওয়া কোম্পানিগুলোর শেয়ার এক দিনে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ কমতে পারবে বলে জানায় কমিশন। তবে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে আগের মতোই ১০ শতাংশ সীমা বহাল রাখে। এরপরে ১৭ জুন সব সিকিউরিটিজের উপর স্বাভাবিক সার্কিট ব্রেকার আরোপ করে।

উল্লেখ্য, দর পতনের ক্ষেত্রে ২% এর নতুন নির্দেশনার আগে ২০০ টাকার মধ্যে থাকা সিকিউরিটিজের উত্থান-পতনের সীমা (সার্কিট ব্রেকার) ১০ শতাংশ ছিল। অর্থাৎ যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বা ইউনিটের দাম ২০০ টাকার মধ্যে, সেসব শেয়ার বা ইউনিটের দাম একদিনে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়তে বা কমতে পারবে।

সার্কিট ব্রেকারের অন্য নিয়মগুলো – ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে থাকা সিকিউরিটিজের সার্কিট ব্রেকার ৮.৭৫ শতাংশ, ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার ৭.৭০ শতাংশ, ১০০০ থেকে ২০০০ টাকার সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার ৬.২৫ শতাংশ, ২০০০ থেকে ৫০০০ হাজার টাকার সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার ৫ শতাংশ ও ৫০০০ টাকার ওপরে সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার ৩.৭৫ শতাংশ।

আরো খবর »

এবি ব্যাংকের এজিএমে ৫ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন

aysha akter

এমডি খুঁজছে উত্তরা ফাইন্যান্স

aysha akter

চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আইপিও অনুমোদন

Tanvina