শীর্ষ সংবাদ শেয়ার বাজার

ফরচুন সুজে স্বাধীন পরিচালক নিয়োগে অনিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক: তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে স্বাধীন পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয় কোম্পানির গাইড হিসেবে কাজ করার জন্য। একজন স্বাধীন পরিচালকের ভূমিকা হলো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিস্তৃতভাবে কর্পোরেট বিশ্বাসযোগ্যতা এবং শাসনের মান উন্নত করা। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানে একটি ওয়াচডগ হিসাবে কাজ করা। সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য কোম্পানি কর্তৃক গঠিত বিভিন্ন কমিটিতে স্বাধীন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। চাইলেই যে কেউ তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে স্বাধীন পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত থাকতে পারবেন না।

কথা বলছি ট্যানারী শিল্প খাতের কোম্পানি ফরচুন সুজের স্বাধীন পরিচালকের নিয়োগ নিয়ে। কোম্পানিটির স্বাধীন পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত আছেন মোঃ রুহুল আমিন মোল্লা। তিনি কর্পোরেট গভোর্নেন্স কোডের কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে কোম্পানির স্বাধীন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন? আদৌ তিনি স্বাধীন পরিচালক নিয়োগ প্রাপ্ত হওয়ার যোগ্য কিনা সেটাই উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে।

পর্যবেক্ষনে দেখা যায়, স্বাধীন পরিচালক নিয়োগের জন্য কর্পোরেট গভর্নেন্স কোডের ৫টি ক্যাটাগরির কোনটি থেকেই যোগ্য নন মোঃ রুহুল আমিন মোল্লা। কোম্পানি কর্তৃক বলা হয়েছে, মোঃ রুহুল আমিন মোল্লার সেলস্ এন্ড মার্কেটিং ও ফিন্যান্সের ওপর কয়েক বছরের বিশেষ অভিজ্ঞতা আছে। এবং ইনফরমেশন টেকনোলজি‘র (আইটি) ওপর দেশি-বিদেশি অনেক প্রশিক্ষনও করেছেন তিনি। এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে দেখানো হয়েছে মি. রুহুল আমিন মোল্লা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাইন্যান্স বিভাগ এ মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। অথচ কোম্পানি কর্তৃক স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে তার যেসকল যোগ্যতার তথ্য দেখানো হয়েছে তা 5 Qualification of Independent Director এর ধারের কাছেও নেই।

কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড ২০১৮ এর ৩ এর (b) নং অনুচ্ছেদের

(i) নং ধারায় বলা আছে একজন ব্যবসায়িক নেতা ( Business Leader) চাইলে স্বাধীন পরিচালক নিয়োগপ্রাপ্ত হতে পারেন। অর্থ্যাৎ যিনি পূর্বে একজন প্রবর্তক বা পরিচালক ছিলেন কিংবা তালিকাবিহীন বা তালিকাভুক্ত কোন কোম্পানিতে নূন্যতম পরিশোধিত মূলধন ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটি টাকা যার আছে বা যিনি কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি কিংবা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক চেম্বার অফ কমার্স বা ব্যাবসায়ীক সংঘের সদস্য ছিলেন।

ii) কর্পোরেট লিডার (Corporate Leader)- যিনি পূর্বে কোন শীর্ষ পর্যায়ের নির্বাহী ছিলেন বা বর্তমানে আছেন। কিন্তু প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চেয়ে কম পদবি সম্পন্ন ব্যক্তি ইন্ডিপেন্ডেন্ড ডিরেক্টর হতে পারবেন না। অর্থাৎ যারা পারবেন তারা হলোঃ উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, অর্থ বা অ্যাকাউন্টস প্রধান, কোম্পানি সচিব, প্রধান অভ্যন্তরীণ অডিট এবং কম্পায়েন্সের প্রধান। অর্থাৎ প্রশাসনের প্রধান এবং মানবসম্পদ বা সমমানের পদ এবং একই স্তরের পদমর্যাদাপ্রাপ্ত বা বেতনভোগী কর্মকর্তাগন ইন্ডিপেন্ডেন্ড ডিরেক্টর হতে পারবেন। এবং তালিকাভুক্ত বা তালিকাবিহীন কোন কোম্পানির আইনি প্রধান পরিষেবা বা একজন প্রার্থীর সমতুল্য নূন্যতম পরিশোধিত মূলধন যার ১০০ মিলিয়ন টাকা আছে।

iii. জাতীয় বেতন স্কেল ৫ম গ্রেডের নিচে নয় এমন সরকারী বা সংবিধিবদ্ধ বা স্বায়ত্তশাসিত প্রাক্তন কর্মকর্তা বা প্রাক্তন নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচ্চতর পদের কোন কর্মকর্তা যারা অন্তত ব্যবসা, আইন, এবং অর্থনিতি কিংবা বানিজ্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেছে। এমন ব্যক্তি ইন্ডিপেন্ডেন্ড ডিরেক্টর হতে পারবেন।

iv. বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক– যার শিক্ষাগত প্রেক্ষাপট অর্থনীতি বা বাণিজ্য বা বিজনেস স্টাডিজ কিংবা আইন বিষয়ে রয়েছে। এমন ব্যক্তি ইন্ডিপেন্ডেন্ড ডিরেক্টর হতে পারবেন।

V. একজন পেশাদার অ্যাডভোকেট যিনি অন্তত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অন্তত অনুশীলন করছেন। যিনি এমন ব্যক্তি ইন্ডিপেন্ডেন্ড ডিরেক্টর হতে পারবেন।

অথবা একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট কিংবা খরচ এবং ব্যবস্থাপনা হিসাবরক্ষক বা চার্টার্ড ফিনান্সিয়াল অ্যানালিস্ট বা চার্টার্ড সার্টিফাইড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা সার্টিফাইড পাবলিক অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা চার্টার্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা চার্টার্ড সচিব বা সমমানের যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি ইন্ডিপেন্ডেন্ড ডিরেক্টর হতে পারবেন।

এবং স্বাধীন পরিচালকের উপরোক্ত ৫টি ধারায় উল্লিখিত যেকোনো ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা কমপক্ষে ১০ (দশ) বছর থাকতে হবে।

অথচ উপরোক্ত ৫ টি ধারার কোন ক্যাটাগরি থেকেই যোগ্য বিবেচিত না হয়েও দিব্যি কোম্পানির স্বাধীন পরিচালকের মত গুরত্বপূর্ন পদে নিয়োজিত রয়েছেন মোঃ রুহুল আমিন মোল্লা।

এছাড়াও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, তিনি কোম্পানির একজন নির্বাহী বেতনভুক্ত কর্মকর্তা। অথচ কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড ২০১৮ এর ২ এর (b) নং অনুচ্ছেদের (ii) ধারায় বলা আছে, কোম্পানির সাথে সংযুক্ত কোন কোম্পানির উদ্যোক্তা, পরিচালক,মনোনিত পরিচালক, কোন শেয়ার হোল্ডার, কোম্পানির সহযোগি প্রতিষ্ঠান, অথবা পারিবারিক সূত্রের জেরে কোন ব্যাক্তি কোম্পানির স্বাধীন পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত থাকতে পারবেন না ।

আবার অনুচ্ছেদের (iii) ধারায় বলা আছে, কোম্পানির কোন নির্বাহী কর্মকর্তা কোম্পানির স্বাধীন পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না । অথবা অবিলম্বে সেই কর্মকর্তা ২ বছর কোম্পানির সাথে বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে ।

ফরচুন সুজের কোম্পানি সেক্রেটারি মো: রিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়ার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ব্যাস্ততার অজুহাতে এই বিষয় এড়িয়ে যান।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে স্বাধীন পরিচালকের মত গুরত্বপূর্ন পদের নিয়োগে এই কারসাজিকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। সেই সাথে দেশের পুঁজিবাজারের ভাবমূর্তি রক্ষায় তালিকাভুক্ত সকল কোম্পানিগুলোর কর্পোরেট গভর্নেস গাইডলাইন মানতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে মনিটরিং বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষকগন।

ডিএসইর তথ্যমতে, ২৫০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধন সাপেক্ষে ২০১৬ সালে দেশের দুই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে মার্কেট এর ‘এ’ ক্যাটাগরীতে অবস্থান করছে ট্যানারী শিল্প খাতের কোম্পানি ফরচুন সুজ লিমিটেড। কোম্পানিটির বর্তমান পরিশোধিত মূলধনের পরিমান ১৬২ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

কোম্পানিটির মোট শেয়ার ১৬ কোটি ২৫ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা ৪৮৯ টি। উল্লেখিত শেয়ারের বড় অংশই কোম্পানির সাধারন বিনিয়োগকারীদের হাতে। অর্থাৎ কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৩০.৯৩ শতাংশ , প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ২১.৮৭ শতাংশ এবং বাকি ৪৭.২০ শতাংশ শেয়ার সাধারন বিনিয়োগকারিদের হাতে।

আরো খবর »

দুই কোটি টাকার জুট স্পিনার্সের ব্যাংক ঋণ ৪৯ কোটি টাকা

Arif Hasan

সূচকের কিছুটা পতনে লেনদেন

aysha akter

আজ ৭ কোম্পানির লেনদেন বন্ধ

aysha akter