খেলাধূলা জাতীয়

জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পেলেন সাতক্ষীরার ৩ কৃতিসন্তান

জাকির হোসেন আজাদী/ শহিদুজ্জামান শিমুল : দেশের ক্রীড়াঙ্গনে গৌরবময় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৮৫ ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও সংগঠককে ‘জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার’ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এখানে ক্রীড়াক্ষেত্রের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার’ পেয়েছেন সাতক্ষীরার তিন কৃতি সন্তান।

তাঁরা হলেন- বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন, সাবেক ভলিবল খেলোয়াড় ও বর্তমানে বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের কোচ শামীম আল মামুন, সাবেক ফিফা রেফারি তৈয়েব হাসান সামসুজ্জামান বাবু।

গতকাল বুধবার (১১ মে) রাজধানী ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার’ মনোনীতদের হাতে এ পুরস্কার তুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।

দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ‘জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের সভাপতিত্বে মনোনীতদের হাতে প্রধান অতিথি হিসেবে (ভার্চুয়ালি) গণভবন থেকে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে খেলোয়াড়, সংগঠকদের অবদানের স্বীকৃতিতে এ পদক প্রদান করা হয়।

দীর্ষ ৮ বছর পর এই জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার দেওয়া হলো। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সারাদেশ থেকে ৮৫জন ক্রীড়াব্যক্তিত্ব এই পুরস্কার পেয়েছেন।

জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে মনোনীত সাতক্ষীরার তিন কৃতি সন্তান ক্রীড়াক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অবদানের ফলস্বরুপ ২০১৬ সালে শামীম-আল-মামুন (ভলিবল), ২০১৭ সালে শেখ বশির আহমেদ মামুন (সংগঠক) এবং ২০১৮ সালে তৈয়েব হাসান সামছুজ্জামান বাবু (রেফারিং) হিসাবে পুরস্কার পেয়েছেন।

পুরস্কার প্রাপ্তী সম্পর্কে তৈয়েব হাসান বলেন, “মহান রাব্বুল আলামীনের প্রতি অপরীসিম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি স্পোর্টস তথা আমার রেফারিং জীবনের সর্বোচ্চ অর্জন ” জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার ” প্রাপ্তিতে। হৃদয় ছোঁয়া ধন্যবাদ ও দোয়া আমার মমতাময়ী মা এবং জীবনের সব ক্ষেত্রে সহমর্মিতা দানকারীদের প্রতি।”

শামীম আল মামুন বলেন, ‘জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার” আমার কাছে পরম সৌভাগ্যের। যা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। এই পুরস্কারের যে সম্মান সেটা যেন আমি ধরে রাখতে পারি। যে জন্য আমি আমার সাতক্ষীরা জেলাবাসীর সবার কাছে দোয়া চাই।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ বশির আহমেদ বলেন, “এই পুরস্কার প্রাপ্তি আমাকে ক্রীড়া ক্ষেত্রে নিরবিচ্ছিন্ন নিরলসভাবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। আমি বঙ্গবন্ধু কন‍্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। সেই সাথে আমার সাতক্ষীরাবাসী যারা সব সময় আমার পাশে ছিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

২০১৩ সালে থেকে ২০২০, মোট ৮ বছরের জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার এবার এক সাথে দেওয়া হলো। যেখানে মরণোত্তর পুরস্কারের জন্যও অন্তত ৪ জন মনোনীত হয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ২০১৩ সালের জন্য ৪৯টি, ২০১৪ সালের জন্য ৫৩টি, ২০১৫ সালের জন্য ৩০টি, ২০১৬ সালের জন্য ৩৩টি, ২০১৭ সালের জন্য ৩৯টি এবং ২০১৮ সালের জন্য ৫৮টি ২০১৯ ও ২০২০ সালের জন্য ৭৮টিসহ মোট ৩৪০ জন ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক আবেদন পত্র জমা দেন।

সেখান থেকেই তথ্য যাচাই বাছাইয়ের জন্য মন্ত্রণালয় মোট ৩টি কমিটি গঠন করে। যাচাই-বাছাই শেষে সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করে তারা। তালিকাটি জাতীয় বাছাই কমিটির কাছে পাঠানো হয়। জাতীয় বাছাই কমিটি ২০১৩ সালের জন্য ১১ জন, ২০১৪ সালের জন্য ১০ জন, ২০১৫ সালের জন্য ১১ জন, ২০১৬ সালের জন্য ১৩ জন, ২০১৭ সালের জন্য ১১ জন, ২০১৮ সালের জন্য ১০ জন, ২০১৯ সালের জন্য ১১ জন এবং ২০২০ সালের জন্য ৮ জনসহ সর্বমোট ৮৫ জন ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠককে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার দেয়ার সুপারিশ করে।

আরো খবর »

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

রাজধানীর প্রতিটি সড়ক ক্যামেরার আওতায় আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মমিনুলকে অধিনায়কত্ব ছাড়তে বলেছেন সুজন

Arif Hasan