সম্পাদকীয়

লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি পরিবারের ভরণপোষণের হিসাব নষ্ট করে দেয়


বাংলাদেশসহ বিশ^ব্যাপী মূল্যবৃদ্ধির কারণে অবিরাম সংকুচিত হচ্ছে জীবন মান। অর্থনীতিবিদরা বলছেন এক্ষেত্রে মুদ্রা-নীতি ব্যবস্থা প্রয়োগ করা না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন যে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির একটি নিয়মকানুন থাকা দরকার এবং সেই নিয়মের যথাযথ প্রয়োগ যদি না করা যায় তবে নিয়ম থাকলেও কোন লাভ নেই। দামের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি এবং টাকার ক্রয়মূল্যের পতনে সৃষ্টি হয় মুদ্রাস্ফীতি।
আর এ কারনে পরিবারের ভরণপোষনের হিসাব বেড়ে যায়। অর্থনীতির এমন অবস্থা বিশেষত; সীমিত আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তোলে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যানব্যুরো (বিবিএস)এর তথ্য অনুসারে, ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.০৫ শতাংশে, যা আগের মাসে ৫.৯৮ শতাংশ ছিল। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী গত অর্থবছরের ডিসেম্বরে এ হার ছিল ৫.২৯ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদরা উচ্চ মুদ্র্রাস্ফীতির প্রবণতা থেকে ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) কে স্বভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে এ নিয়ে সরকারকে সতর্ক করে আসছেন একই সঙ্গে একটি সমাধান বিবেচনার জন্য একটি কার্যকর মুদ্রানীতি প্রবর্তনের ও ব্যবস্থাপনার তাগিদ দিয়ে আসছেন।
সিপিআই বা মূল্য সূচক নির্মাণ করতে প্রতিটি আইটেমের জন্য গড় মূল্য বিবেচনা করা হয়. সারা দেশের প্রধান প্রধান বাজার থেকে প্রতি তিনটি আইটেমের মূল্য যাচাইপূর্বক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি শহুরে এলাকায় ১৫১টি খাদ্য সামগ্রীর পাশাপাশি ২৭১টি অখাদ্য আইটেমের দাম, ১৩৩টি অন্যান্য আইটেমের দামের পর্যালোচনা করা হয়। সিপিআই নির্ধারনে চারটি সময়সূচী ব্যবহার করা হয়: (ক) মাসিক গ্রামীণ খুচরা (খ) মাসিক শহুরে খুচরা (গ) মাসিক শহুরে পাইকারি এবং (ঘ) ত্রৈমাসিক বাড়িভাড়া। সকল ডাটা সাধারণত প্রতিটি বাজারে নির্বাচিত দোকান বা নির্বাচিত ইউনিট বা পরিষেবা প্রদানকারী ইউনিট সমুহ থেকে সংগ্রহ করা হয়।
এদিকে বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক সহ উন্নয়ন সহযোগীরাও মুদ্রাস্ফীতির চাপ সম্পর্কে সতর্ক করেছে কারণ তারা বাংলাদেশে সিপিআই আরও বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। তারা বলেছে যে সরকারকে মূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলেছেন আমাদেরকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে কারণ মূল্যস্ফীতি কয়েক মাস ধরে বাড়ছে। ২০২১ সালের জুলাই থেকে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে জুন মাসে এ হার ছিলো ৫.৬৪ শতাংশ। ডিসেম্বরে, খাদ্যের দাম বেড়েছে ৫.৪৬ শতাংশ এবং অ-খাদ্য আইটেম সাম্প্রতিক অতীতে রেকর্ড ৭.০ শতাংশ। ২০২০ সালের একই সময়ের মধ্যে পরিসংখ্যান ছিল ৫.৩৪ শতাংশ এবং ৫.২১ শতাংশ। এদিকে, ২০২১ সালের ক্যালেন্ডার বছরে গড় মূল্যস্ফীতি রেকর্ড করা হয়েছে ৫.৫৪ শতাংশে, যা গত বছর ২০২০ সালে ছিল ৫.৬৯ শতাংশ।
বৈশ্বিক মূল্য সূচকও বাড়ছে। চাহিদানুযায়ী সরবরাহ ঘাটতি মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়াতে পারে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারকে চাল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে বলে ধারনা করছেন তারা, কারণ সিপিআই-তে খাদ্য আইটেমের ওজন সবচেয়ে বেশি।
যেহেতু বাংলাদেশের আমদানি ইতিমধ্যেই পতনশীল রেমিট্যান্স এবং রাজস্ব আয়ের বিপরীতে প্রায় ৫৪-শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড করেছে, তাই আর্থিক ব্যবস্থাপনার ভয়াবহ চিত্র রয়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতির ব্যারোমিটারের উপর চাপ বাড়াবে, এমনটাই বলেছেন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞগণ।
তারা বলছেন যে সিপিআই কমানোর কোন স্বল্প সময়ের জায়গা নেই। খাদ্য পন্যের দ্রুত সরবরাহ এবং নিত্য প্রয়োজনীয় ও ব্যবহার্য সকল পন্যের যোগান নিশ্চিত করতে পারলেই এ অবস্থা পরিবর্তন করা সম্ভব।

আরো খবর »

নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হোক ঈদযাত্রা

উজ্জ্বল হোসাইন

বাঙালির জাতীয় উৎসব বাংলা নববর্ষ এবং বাংলা সমাজ

উজ্জ্বল হোসাইন

শতভাগ বিদ্যুতায়নের মাইলফলকে বাংলাদেশ