সারাদেশ-টুকিটাকি

গাভী পালন করে স্বাবলম্বী চুয়াডাঙ্গার গৃহবধু খালেদা খাতুন

আহসান আলম, চুয়াডাঙ্গা : নিজের কোন কন্যা সন্তান নেই। তাই গাভী গুলোকে নিজের কন্যা সন্তারের মতোই যত্ন করি। সময়মতো গোসল করাই, খাওয়াই, সন্তানকে যেভাবে লালন-পালন করতে হয় গাভীগুলোকে সেভাবেই লালনপালন করে আসছি। কথাগুলো বলছিলেন গৃহবধু খালেদা খাতুন।

চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়নের ভালাইপুর গ্রামের আসাদুজ্জামান আসাদের স্ত্রী। নিজ উদ্যোগে গাভী পালন করে আজ তিনি সাবলম্বী। বর্তমানে তার খামারে আছে ৪ টা গাভী। তার মধ্যে ৩টা গাভীর পেটে বাচ্চা। আর কয়েকমাস পার হলেই তার খামারে আরও ৩টা গাভী যোগ হবে। নতুন অতিথির আগমনে একটু খুশিই তিনি। বর্তমানে ১টা গাভীতে দুধ দেয় বলে জানান খালেদা খাতুন। আর এর থেকে বর্তমানে বছরে আয় হচ্ছে ২ লাখেরও বেশি। আগামী ৬ মাস পার হলেই বছরে আয় বেড়ে দাড়াবে ৬ লাখ টাকা। গাভীর গোবর দিয়ে তৈরী হয় জ্বালানি। সে কারনে রান্নার জন্য বাড়তি কোন টাকা খরচ হয় না বলেও তিনি জানান।

৩৮ বছর বয়সী গৃহবধু খালদা খাতুন বিভাবে সফল উদ্যোক্তা হলেন ? সরেজমিনে তার বাড়িতে গেলে সাফল্যের গল্প শোনান তিনি। ১৯৯৮ সালের ১২ জুন আসাদুজ্জামান আসাদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন খালেদা খাতুন। বর্তমানে খালেদা খাতুন-আসাদুজ্জামানের সংসারে রয়েছে ২ ছেলে। বড় ছেলে খালেদুজ্জামান চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে এবং ছোট ছেলে অরুনুজ্জামান গোকুলখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র। সংসার সামলে নিজে কিছু করার ইচ্ছা ছিল খালেদা খাতুনের। তাঁকে সহযোগীতার হাত বাড়ান স্বামী।

স্বামীকে বুঝিয়ে শুনিয়ে ভুট্রা বিক্রির ৬৪ হাজার টাকা নিয়ে ২০১৫ সালে বাছুরসহ উন্নত জাতের ১টি অস্ট্রেলিয়ান গাভী কিনে যাত্রা শুরু করেন তিনি। তাঁরপর আর পিছনে তাকাতে হয়নি খালেদা খাতুনের। এই ৫ বছরে ৭ লাখ টাকার দুধ বিক্রি করেছে বলে তিনি জানান। আগে গাভীগুলো তিনি নিজেই দেখা শোনা করতেন। তার এই উদ্যোগে সারা দিয়ে পরিবারের সকলেই এখন গাভীগুলোকে পরিচর্যা করেন। গাভীর খাবারের জন্য একবিঘা জমিতে আবাদ করেন ঘাস। ঘাস কাটার যন্ত্র ও গাভীদের থাকার পরিবেশ সবই আধুনিক মানের। অর্গানিক পদ্ধতিতে গাভীগুলোর লালন-পালন করা হয়। নিজেদের কন্যা সন্তান না থাকায় গাভীগুলোকে কন্যা সন্তারের মতোই লালন-পালন করে আসছেন তিনি। খালেদা খাতুনের ইচ্ছা, একদিন তাঁর অনেক বড় খামার হবে। সেখানে কাজ করে অনেক বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে খালেদা খাতুন জানান, গাভী পালনের পাশাপাশি একটি ছাগলের খামার করার ইচ্ছা আছে। সরকারি ভাবে কোন সহযোগীতা পেলে জেলার আধুনিক মানের একটি খামার করা ইচ্ছা আছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা বলেন, স্বামী-সংসার সামলে একজন গৃহিণীর এ সাহসী উদ্যোগ প্রশংসার। খালেদা খাতুন একজন সাহসী ও সফল খামারি হলেও তাঁর খামারে যাওয়ার সৌভাগ্য আজও হয়নি। সময় পেলে যাবো একদিন। তিনি আরও বলেন, আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে সবরকমের সহযোগীতা করার চেষ্টা করবো।

চুয়াডাঙ্গায় একদিনের ব্যবধানে ফের এক নববধূর আত্মহত্যা


আরো খবর »

মহিপুরে হিজরার ঘরে কন্যা সন্তান!

উজ্জ্বল হোসাইন

গাজীপুরে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

উজ্জ্বল হোসাইন

অনিয়ম দূর্নীতি প্রতিবাদ করায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় জিডি

উজ্জ্বল হোসাইন