Corporate Sangbad | Online Bangla NewsPaper BD
আইন-আদালত

পোরজনা আশ্রমের দুই সেবাইতকে স্থায়ী প্রবেশাধিকার নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে মামলা

সেলিম রেজা, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী গৌরাঙ্গ ভজন আশ্রম, আশ্রমে রয়েছেন একজন গুরুদেব ও দুইজন সেবাইত। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সকল অনুষ্ঠান এখানে স্বাধীনভাবে পালন করা হয়। এ আশ্রমে দেশ-বিদেশ থেকে ভক্ত বা দর্শনার্থীরা আসেন তাদের এখানে থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থা করা হয় আশ্রমের পক্ষ থেকে। থাকা বা খাওয়ার জন্য আলাদা কোন পয়সা অতিথিদের কাছ থেকে নেয়া হয় না। তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থাও করা হয়ে থাকে। হিন্দু-মুসলমান কোন ভেদাভেদ থাকে না এখানে। সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতায় সকল অনুষ্ঠানগুলো হয় মুখরিত। এভাবেই চলে আসছিল যুগের পর যুগ। হঠাৎ করে নেমে আসে এক কালো মেঘ এই আশ্রমের উপর। গত ৭ ডিসেম্বর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় সংসার ত্যাগী ষাটউদ্ধ দুই জন সেবাইত শ্রীমতি মঞ্জু রানী দাসী ও শ্রীমতি চিত্রা রানী দাসী কে।

পোরজনা আশ্রমের দুইজন সেবাইতকে স্থায়ী প্রবেশাধিকার নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে মামলা করেছেন ৬জন পরিচালক হিসাবে দাবিকৃতরা এতে আশ্রমের ভক্তদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ভক্তই বলছে এদের স্বার্থ কি ?

অনুসন্ধানে ও মামলার সূত্রে জানা যায়, শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ ভজনাশ্রম পক্ষে সেবাইত শ্রীশ্রীমৎ বংশীদাস গোস্বামী তদপক্ষে (শ্রীমান সুকুমার চন্দ্র বসাক, শ্রীমান নিত্যানন্দ ঘোষ, শ্রীমান বিনয় কুমার চাকী, শ্রীমান গোপীনাথ বসাক, শ্রীমান কৃঞ্চপদ ঘোষ এবং শ্রী পরম কুমার ঘোষ) ৬ জন পরিচালক হিসাবে দাবি করে গত ২ ডিসেম্বর সিনিয়ার সহকারি জজ আদালতে তিনজনকে বিবাদী করে মামলা করেন। এই মামলার ২নং ও ৩নং আসামী হলেন তারা। তারা (সংসার ত্যাগী) দুজন সেবাইত জীবনদশায় করেনি বিয়েসাধী, সেবাইত হিসাবেই নিজেদের জীবন যৌবন পার করেছেন গৌরাঙ্গ ভজনে। তারা নাকি আবার ভাড়াটিয়া মাস্তান বাহিনী দিয়ে আশ্রমের উন্নতমানের পাকা ওয়াল দেওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেছেন বাদীদের। মাস্তান বাহীনি দিয়ে আশ্রম ও বাদীগণের অপূরণীয় ক্ষতিও করতে পরেন তারা। এমনি (৫নং কলামে) লিখিত অভিযোগ দিয়ে মামলা করেছেন ৬জন পরিচালক হিসাবে দাবিকৃত বাদীগণ। তারা এটা চেয়েছেন সংসারত্যাগী দুজন সেবাইত যেন আশ্রমে স্থায়ীভাবে প্রবেশ করতে না পারে। যারা জীবন যৌবন ত্যাগ করলো ঐ আশ্রমে থেকেই গোরাঙ্গ ভজনে তাছারাও অসুসন্ধানে ওঠে আসে আশ্রমের বর্তমান গুরুদেব এবং এই দুজন সেবাইত এর নামেই আশ্রমের সকল সম্পত্তি উইল করা আছে। মামলার ৬নং কলাম থেকে আরও জানা যায় তারা নাকি আশ্রমের ক্ষতি সাধন এবং লুটপাট করবে এটা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন। তাই ৬জন পরিচালক হিসাবে দাবিকৃতরা তাদের আশ্রমে প্রবেশে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন আদালতে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অন্য চিত্র, কথা হয় বাদীপক্ষের সাথে। পরিচালক হিসাবে দাবীকৃত ১নং বাদী শ্রীমান সুকুমার চন্দ্র বসাক কথা হলে তিনি বলেন এ বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানিনা ৩নং বাদী আমাকে সই দিতে বলেছে তাই সই দিয়েছি। আপনারা তার সাথে কথা বলেন। আমরা যাই ২নং বাদি শ্রীমান নিত্যানন্দ ঘোষের বাড়ী সেখানে গিয়ে জানা যায় তিনি প্রায় ৪বছর যাবৎ অসুস্থ এবং বিছানা সজ্জা। তিনি আশ্রমের কোন দায়িত্বে নাই। বর্তমানে তিনি এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী হাসপাতালে ভর্তি আছেন এমনটিই জানান তার পুত্রবধু। তারপর কথা হয় ৪নং বাদী শ্রীমান গোপীনাথ বসাক এর সাথে তিনিও অসুস্থ এই বলে প্রতিবেদকে বলেন সামগ্রী বিষয়ে ধরতে গেলে আমিও তাদের সাথে মামলা করেছি। বাবা বংশীরাজ মহারাজ আমাদের নামে একটা পাওয়ার অফ এট্যানি করে দিয়ে যান সেই মূলে আমি তাদের সাথে মামলা করি। তিনি-তো তাদের (বর্তমান গুরুদেব ও ২জন সেবাইত)’র নামে ১৫/০৭/২০০৯ সালে দলিল করে দিয়েছেন বাবা বংশীরাজ মহারাজ। তখন প্রতিবেদক এর উত্তর না দিয়ে অন্য কথা বলতে থাকে। এরমধ্যেই চলে আসেন যার কথা মত অনেকেই সই করেছেন সেই ৩নং বাদী শ্রীমান বিনয় কুমার চাকী। তার সাথে আসেন ৬নং বাদি শ্রী পরম কুমার ঘোষ। অন্যের জায়গায় আপনারা ওয়াল তুলবেন কিভাবে এমন প্রশ্নে জবাবে ৩নং বাদি শ্রীমান বিনয় কুমার চাকী পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথা বললেও এড়িয়ে যান প্রতিবেদকদের করা প্রশ্ন। তাই তাদের কাছ থেকে কোন প্রশ্নেরই সদত্তর পাওয়া যায়নি।

তিনি এও বলেন, বাবা বংশীরাজ মহারাজের নিষেধ আছে পিসিদের(দুই সেবাইত) বিরুদ্ধে কোন কথা বলা যাবে না। তাহলে আপনারা তাদের নামে মামলা করলেন কেন এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দেন নি প্রতিবেদককে বিনয় কুমার চাকী। মুঠোফোনে প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় মামলার ৫ নং বাদি শ্রীমান কৃঞ্চপদ ঘোষের সাথে তিনিও এড়িয়ে যান প্রতিবেদেকের প্রশ্ন।

প্রতিবেদকের কথা হয় দুই সেবাইত শ্রীমতি মঞ্জু রানী দাসী ও শ্রীমতি চিত্রা রানী দাসী সাথে, তারা কান্নাজরিত কন্ঠে তারা বলেন দেশ স্বাধীন হওয়ার তিন মাস পর থেকে এই আশ্রমে আছি। খেয়ে না খেয়ে এই গৌরাঙ্গ ভজন আশ্রমে বাবা বংশীদাস মহারাজের সেবা যতœ ও গৌরাঙ্গ ভজন করেছি। কখনো এই আশ্রমের বাহিরে যাইনি বা বাহিরের জগৎ সম্পর্কেও আমরা জানিনা। আজ সেই বয়সে আমাদের কাঠগড়ায় দাড়াতে হলো। অন্যের আমাদের গালি গালাজ শুনতে হয় এই বলেই কান্নায় ভেঙ্গে পরেন।

এ বিষয়ে বিবাদীগনের আইনজীবী মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান বিবাদী ৩জন আশ্রমে প্রবেশ করে প্রাচীর নির্মানে যেন বাধা প্রধান করতে না পারে সেই মর্মে এই মামলায় বিবাদীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে বিবাদীগনের আপত্তি দাখিলের পরে সেই নিষেধাজ্ঞার আদেশ বাতিল করে মহামান্য আদালত।

এ বিষয়ে পোরজনা গৌরাঙ্গ ভজন আশ্রমের আহবায়ক ও শাহজাদপুর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা বিনয় কুমার পাল বলেন, বাবা বংশীদাস মহারাজ তিনজনকেই সেবাইত হিসাবে সমান অধিকার দিয়ে গেছেন। পরিচালক দাবিকৃত বিনয় কুমার চাকী গং কুটকৌশলে দুই দিদির (সেবাইত) বিরুদ্ধে দাদাজি মহারাজসহ কিছু এলাকার মানুষকে ক্ষ্যপাইয়া তুলেছে। এবং পরিচালক হিসাবে বিনয় কুমার চাকী গং যে দলিল পেশ করছে তা কোন আইনেই টিকবে না। আগামী তারিখে মহামান্য আদালত অবশ্যই মামলাটি খারিজ করে দিবে।

আরো খবর »

মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা চেষ্টার মামলায় মেয়র মকছুদ কারাগারে

উজ্জ্বল হোসাইন

আবরার হত্যা: ফাঁসির ১৭ আসামির জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ

উজ্জ্বল হোসাইন

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন হতে বাধা নেই: হাইকোর্ট

উজ্জ্বল হোসাইন