Corporate Sangbad | Online Bangla NewsPaper BD
কর্পোরেট মিরোর

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ বনাম সাধারণ জনগণ

মোঃ আলীমুজ্জামান : কাষ্টমস আইন অনুযায়ী ইনভয়েস মূল্য আমলে না নিয়ে রেফারেন্স মূল্যে পন্য শুল্কায়ন করলে উহার প্রভাব পন্য মূল্যের উপর কতভাবে পরে সেটা আসলে ভেবে দেখার বিষয়। বাংলাদেশ আমদানী নির্ভর দেশ, এখানে নিজস্ব রপ্তানী বলতে চা, চামরা ও পাটজাত দ্রব্য ছাড়া অন্য কিছু তেমন ভাবে উল্লেখযোগ্য নয়। বৃহৎ যে রপ্তানীখাত রেডিমেট গার্মেন্টস সেটার উপর ব্যাক টু ব্যাক এলসি এর মাধ্যমে আমদানী করতে হয়। এবার আসল কথায় আশা যাক, বিভিন্ন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাচামাল ও সরাসরি ফিনিস পন্য আমদানী কালে সরকার অধিক রাজস্ব অহরোন করতে গিয়ে আমদানীকৃত পন্য শুল্কায়ন করতে বিগত তিন মাসের আমদানী করা অধিক মূল্যকে রেফারেন্স ধরে পন্য শূল্কায়ন করা বর্তমানে নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে। যার প্রতিবাদ আমরা কেউ করি না কারণ উৎপাদক বা ফিনিস পন্যের আমদানী কারকের তো সমস্যা নাই, তিনি সহজভাবে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি করে দিয়ে ভোক্তার নিকট থেকে আদায় করে নিবেন।

আমাদের জাতিগত অভ্যাস হলো যে কোন বিষয় নিয়ে শুধু সমালোচনা করতে পারা বা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে অধিক পছন্দ করি। আর সাধারণ মানুষও সে সমস্ত তুখোড় সমালোচকদের কথায় দুইদিন নেচে আবার চুপ হয়ে যাই। সমস্যা সমাধান করার কোন ওয়ে আউট করি না। যদিও কাষ্টমস কর্মকর্তা বা সরকার মনে করেন যে প্রত্যেক ব্যবসায়ী আন্ডার ইনভয়েস করে মাল আমদানী করেন বিধায় রেফারেন্স মূল্যে শুল্কায়ন করতে বাধ্য হচ্ছেন। আসলে কি তাই? যদি বলি যিনি উক্ত সময়ের যে অধিক মূল্যের ইনভয়েস মূল্যকে রেফারেন্স হিসাবে নিয়ে কম ইনভয়েসের পন্য শুল্কায়ন করছেন, তিনি যে এই অধিক পরিমান দেখানো মূল্য বিদেশে পাচার করেন নাই সেটা কি উক্ত কর্মকর্তা প্রমান করে দেখেছেন বা চেষ্টা করেছেন? আসলে যা কিছু হোক না কেন কেষ্ট বেটা চোর, এ প্রবাদ টা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অধিক মানান সই। আসলে আমরা নাম জানি যার, দাড়ি ধরি তার।

আসলে আমাদের দেশে যে কোন কারণে যত সহজে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি করা যায়, পৃথিবীর আর কোথায়ও এত সহজে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি করার নজির আছে বলে মনে হয় না। সকল জায়গায় প্রফেসণ্যালিজম ও জবাব দিহিতার অভাবের কারনে এগুলো করে অতিসহজে সবাই পার পেয়ে যাচ্ছেন। একজন কাষ্টমস কর্মকর্তা চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন যে, খুব সহজে অনলাইনে ঢুকলে যে কোন পন্যের বাজার মূল্য জানা যায়। আসলে উনার মাথায় থেকে রাজস্ব বৃদ্ধি ও ব্যক্তি সুবিধার বাহিরে বাকী সব চিন্তা করার লষ্ট মেমোরীতে চলে গিয়েছে। যদি উনি উনার অফিসিয়াল দায়িত্ব ও কাজের ইমপ্যাক্ট বুঝতেন বা এর প্রভাব যে উনার ব্যক্তি জীবন বা আত্মীয় স্বজন সহ আপামর জন সাধারণের উপর প্রভাব ফেলবে তা জানতেন তাহলে কাজটা করার আগে একবার হলেও চিন্তা করতেন। চেষ্টা করতেন শুল্কায়নের আগে পণ্যটির সঠিক মূল্য জেনে তারপর সেভাবে ব্যবস্থা নিতেন।

আমদানীকৃত পন্য হোক সেটা কাচামাল বা ফিনিস, সঠিক মূল্যে শুল্কায়ন করা যে কত গুরুত্বপূর্ণ বা দ্রব্য মূল্যের উপর কতভাবে প্রভাব বিস্তার করে সেটার একটা উপস্থাপন দিলে আপনাদের বুঝতে সুবিধা হবে। ধরা যাক কোন প্রতিষ্ঠানের কাচামালের ইনভয়েস মূল্য প্রতি টন ৫০ ডলার। সেটার বিপরীতে ব্যাংক থেকে এলসি এর মাধ্যমে পরিশোধও করা হয় ৫০ ডলার হিসাবে এবং আর্ন্তজাতিক বাজার মূল্যও ৫০ ডলার। কেউ একজন সেটা ৬০ ডলারে আমদানী করলে, এমন হতে পারে পরিমান কম বা বিদেশে টাকা পাচার করতে এমন টা করা হয়েছে। সেই রেফারেন্স মূল্য ৬০ ডলারে কাচামাল শুল্কায়ন করার ফলে ব্যবসায় পর্যায়ে দ্রব্য বৃদ্ধি পাবে ৮.৭৩% হারে। বিষয়টি এখানেই শেষ হলে তাতে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি এখানে থেমে যেত কিন্ত অন্য দিকে ভ্যাট আইনে বলা হয়েছে যে মূল্যে পন্যটি শুল্কায়ন করা হয়েছে সেটা হবে পন্যটির ক্রয় মূল্য হবে। সে অনুসারে মূসক ৪.৩ দাখিল করলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায় অরো ৩.৩৪% হারে। শুধুমাত্র এই শুল্কায়নের ফলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায় ১২.০৭% হারে। যদিও কাষ্টমস আইনে বলা আছে যে, কর্মকর্তার মেধা ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

বিগত দুই বছর করোনার কারণে সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার মান নামতে নামতে তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে সেটা মাথায় না রেখে আবার বৃদ্ধি করা হল ডিজেল এর দাম। সেই পূর্বের ন্যায় কোন ইমপ্যাক্ট চিন্তা করা ছাড়া। একবারও চিন্তা করা হল না সকল মূল্য ডিজেল এর সাথে সমন্বয় করলে কাচাবাজার থেকে শুরু করে সকল কিছু গিয়ে পরবে সেই সাধারণ জনগনের উপর। পেট্রোল বা অকটেন এর মূল্য বৃদ্ধি করে সমন্বয় করলে সেটার প্রভাব সাধারণ জনগনের উপর পরত না অন্যদিকে আর্ন্তজাতিক বাজারে শুধু ডিজেল এর দাম বারে নাই, বেড়েছে সকল পেট্রোলিয়াম জাতীয় পণ্যের দাম।

একটা গল্প দিয়ে শেষ করি, এক গ্রামে এক চোর ধরা পরেছে, তাকে বলা হল এখন তোমাকে মারা হবে দেখি কত মার খেতে পার? চোরটি প্রশ্ন করল বেধে মারবেন নাকি খোলা রেখে মারবেন ? সমবিত জনতা জানতে চাইল দুই এর পার্থক্য কি হবে? উত্তরে চোরটি বলল যদি বেধে নেন তাহলে আপনারা যতক্ষণ পারেন আর যদি ছাড়া রাখেন তাহলে একটাও মারতে পারবেন না।

লেখক : লিড কন্সালটেন্ট, দ্যা রিয়েল কন্সালটেশন

আরো খবর »

উচ্চ মধ্যবিত্তের মাঝে জনপ্রিয় করতে পারলে শক্তিশালী হবে পুঁজিবাজার

helal shazwal

বেটার বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন-বিবিএফ বিডা ব্রান্ডিং বাংলাদেশ শীর্ষক গোলটেবিল অনুষ্ঠিত

helal shazwal

বিশ্বসভায় দেশের সাফল্যগাথা তুলে ধরলেন বিবিএফ চেয়ারম্যান প্রফেসর মাসুদ এ খান

helal shazwal