Corporate Sangbad | Online Bangla NewsPaper BD
আইন-আদালত শিরোনাম শীর্ষ সংবাদ

আমিনবাজারে ৬ ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা: ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক : নয় বছর আগে শবে বরাতের রাতে সাভারের আমিনবাজারে ছয় ছাত্রকে ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগে করা মামলায় ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ইসমত জাহান এ রায় ঘোষণা করেন।

এই মামলার ৬০ আসামির মধ্যে ৪৭ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১৩ জনকে অন্য ধারায় ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ১৯ জনের যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়েছে, আসামিদের মধ্যে মারা গেছে তিনজন আর পলাতক আছেন ৬ জন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আব্দুল মালেক, সাঈদ মেম্বার, আব্দুর রশিদ, ইসমাইল হোসেন রেপু, জমছের আলী, মীর হোসেন, মজিবুর রহমান, আনোয়ার হোসেন, রজ্জব আলী, আলম, মোহাম্মদ রানা, আব্দুল হানিফ, আসলাম মিয়া।

যাবজ্জীবন প্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শাহিন আহমেদ, ফরিদ খান, রাজিব হোসেন, ওয়াসিম, সাফফার, সেলিম, মনির, আলমগীর, মোবারক হোসেন, অখিল খন্দকার, বসির, রুবেল, নুর ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, টুটুল, মাসুদ, মোখলেস, তোতন ও সাইফুল।

এর আগে রায় উপলক্ষ্যে কারাগারে থাকা ৪৪ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

গত ২২ নভেম্বর ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ইসমত জাহান রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন। মামলায় ৯২ সাক্ষীর মধ্যে ৫৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ রায় দেওয়া হলো।

নিহত ৬ ছাত্র হলেন- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ম্যাপললিফের এ লেভেলের ছাত্র শামস রহিম শামীম (১৮), মিরপুর বাংলা কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র তৌহিদুর রহমান পলাশ (২০), একই কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র ইব্রাহিম খলিল (২১), উচ্চমাধ্যমিক বিজ্ঞান বিভাগের প্রথমবর্ষের ছাত্র কামরুজ্জামান কান্ত (১৬), তেজগাঁও কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথমবর্ষের ছাত্র টিপু সুলতান (১৯) ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) বিবিএ দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র সিতাব জাবির মুনিব (২০)।

ঘটনার পর নিহতদের বিরুদ্ধেই ডাকাতির অভিযোগ এনে গ্রামবাসীর পক্ষে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন আব্দুল মালেক নামে এক বালু ব্যবসায়ী। অন্যদিকে ছয় কলেজছাত্র হত্যাকাণ্ডে ৬০০ গ্রামবাসীকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন।

২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি র্যাব সদরদপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন আহমেদ ৬০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ওই বছরের ৮ জুলাই মামলার ৬০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জশিট) গঠন করেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. হেলালউদ্দিন।

চার্জশিটভুক্ত ৬০ আসামি হলেন—ডাকাতি মামলার বাদী আব্দুল মালেক, সাঈদ মেম্বর, আব্দুর রশিদ, ইসমাইল হোসেন রেফু, নিহর ওরফে জমশের আলী, মীর হোসেন, মজিবর রহমান, কবির হোসেন, আনোয়ার হোসেন, রজুর আলী সোহাগ, আলম, রানা, আ. হালিম, ছাব্বির আহম্মেদ, আলমগীর, আনোয়ার হোসেন আনু, মোবারক হোসেন, অখিল খন্দকার, বশির, রুবেল, নূর ইসলাম, আনিস, সালেহ আহমেদ, শাহাদাত হোসেন রুবেল, টুটুল, অখিল, মাসুদ, নিজামউদ্দিন, মোখলেছ, কালাম, আফজাল, বাদশা মিয়া, তোতন, সাইফুল, রহিম, শাহজাহান, সুলতান, সোহাগ, লেমন, সায়মন, এনায়েত, হায়দার, খালেদ, ইমান আলী, দুলাল, আলম, আসলাম মিয়া, শাহীন আহমেদ, ফরিদ খান, রাজীব হোসেন, হাতকাটা রহিম, মো. ওয়াসিম, সেলিম মোল্লা, সানোয়ার হোসেন, শামসুল হক ওরফে শামচু মেম্বার, রাশেদ, সাইফুল, সাত্তার, সেলিম ও মনির। আসামিদের মধ্যে কবির হোসেন ও রাশেদসহ তিনজন মারা গেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৭ জুলাই শবে বরাতের রাতে সাভারের আমিন বাজারের বড়দেশি গ্রামের কেবলার চরে বেড়াতে যায় ৭ বন্ধু। ওই সময় ডাকাত সাজিয়ে তাদের ৬ জনকে পিটিয়ে হত্যা করে এলাকাবাসী। ওই ঘটনায় তাদের মধ্যে থাকা আল আমিন অল্পের জন্য বেঁচে যায়।

ঘটনার পর নিহতদের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ এনে গ্রামবাসীর পক্ষে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন বালু ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক। তদন্তে ডাকাতির মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয় এবং ছয় ছাত্রকে হত্যার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে সাভার থানায় একটি মামলা করে। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলাটি র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি র‌্যাব ৬০ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে একটি অভিযোগপত্র জমা দেয়। অভিযোগপত্রে সাক্ষী করা হয় ৯২ জনকে।

আরো খবর »

সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তুলতে ভারতের সাথে কাজ করবে বাংলাদেশ

উজ্জ্বল হোসাইন

জাতিসংঘে ৭১’র গণহত্যাসহ মুম্বাই হামলার বিচার দাবি ভারতের

উজ্জ্বল হোসাইন

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা চায় বাংলাদেশ

উজ্জ্বল হোসাইন