29 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, অগাস্ট ৫, ২০২১
Corporate Sangbad | Online Bangla NewsPaper BD
কর্পোরেট সংবাদ

এফডিআরে বিনিয়োগ করে ফেসে যাচ্ছে বিআইএফএফএল

বিশেষ প্রতিবেদক : সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের (বিআইএফএফএল) বেশকিছু ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এফডিআরে বিনিয়োগ করেছে ৫৫০ কোটি টাকা। কোম্পানিটি এফডিআরে বিনিয়োগ করে ফেসে গেছে। কেননা তাদের বিনিয়োগকৃত ৫৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করতে পারছে না। ফলে কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন মানদণ্ডে বিআইএফএফএলের পারফরম্যান্স নিম্নমুখী রয়েছে। মূলত অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যেই গড়ে তোলা হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু কোম্পানিটি তা না করে এফডিআরে বিনিয়োগ করে বসে আছে। কোম্পানিটির নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান সাইফুল শামসুল আলম অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসও বিষয়টি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে মতামত দিয়েছে। কোম্পানির আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

নিরীক্ষকের মতামত অনুসারে, তিন মাস মেয়াদি স্থায়ী আমানত হিসেবে ১২টি ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিআইএফএফএলের ৫৫৫ কোটি ৯০ লাখ টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। এর মধ্যে বিডি ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টে ৮ কোটি ৫৯ লাখ, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডে (বিআইএফসি)৫৯ কোটি ৫৩ লাখ, পদ্মা ব্যাংক লিমিটেডে ১১২ কোটি ৭২ লাখ, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডে ৬১ কোটি ৩১ লাখ, ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেডে ২০ কোটি ৮৫ লাখ, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকে ৪৪ কোটি ৩৩ লাখ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডে ৭৯ কোটি ৪৫ লাখ, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডে ৬০ কোটি ৭০ লাখ, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেডে ২৯ কোটি ১৩ লাখ, প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডে ২৫ কোটি, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডে ১৬ কোটি ২১ লাখ এবং ইউনিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেডে ৩৮ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকও এই এফডিআরে বিনিয়োগকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সঞ্চিতি রাখার ক্ষেত্রে ছাড় দেয়ার পাশাপাশি এফডিআরের অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য বিআইএফএফএলকে পরামর্শ দিয়েছে।এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সের কাছ থেকে ১৪ লাখ ৭৫ হাজার, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের কাছ থেকে ৭ লাখ ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের কাছ থেকে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

বিআইএফএফএলের অন্যান্য বিনিয়োগের মধ্যে ৫টি বিদ্যুৎ কোম্পানির প্রেফারেন্স শেয়ারে ১৮৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে রাজ লংকা পাওয়ারে ২৪ কোটি ২৪ লাখ, ডরিন পাওয়ার হাউজ অ্যান্ড টেকনোলজিসে ৪০ কোটি, এসিই অ্যালায়েন্স পাওয়ারে ৩৫ কোটি, কুশিয়ারা পাওয়ারে ৫৭ কোটি, ভৈরব পাওয়ারে ২০ কোটি এবং সামিট গাজীপুর-২ পাওয়ারে ১০ কোটি টাকা, কম্পিউটার সোর্স লিমিটেডের কমার্শিয়াল পেপারে ২৫ কোটি টাকা আইডিএলসি জিরো কুপন বন্ডে ১৪ কোটি ৩৪ লাখ এবং আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের জিরো কুপন বন্ডে ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া শীর্ষ ঋণখেলাপির তালিকায় থাকা কম্পিউটার সোর্স বিআইএফএফএলের বিনিয়োগের অর্থ পরিশোধ করেনি।

প্রেফারেন্স শেয়ার, কমার্শিয়াল পেপার এবং জিরো কুপন বন্ডের বিপরীতে বিআইএফএফএলের মোট ১৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমার্শিয়াল পেপারে ৫ কোটি ৮৭ লাখ, কম্পিউটার সোর্সের কমার্শিয়াল পেপারে ৩ কোটি ৪১ লাখ এবং আইডিএলসি ও আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির বন্ডে ৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।

২০১১ সালে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা করে বিআইএফএফএল। বর্তমানে তা আরো বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩০৮ কোটি টাকায়। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির সম্পদের বিপরীতে রিটার্ন ছিল ৪ শতাংশ। যা ২০১৯ সাল শেষে কমে মাত্র ১.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ইকুইটি বিনিয়োগ করা সরকারের রিটার্নের পরিমাণও ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির ইকুইটির বিপরীতে রিটার্নের পরিমাণ ছিল ৪.৭০ শতাংশ। যা ২০১৯ সাল শেষে কমে ১.৯১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিআইএফএফএলের মুনাফা মার্জিনের পরিমাণও ক্রমেই কমতির দিকে। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা মার্জিন ছিল ৫৩.৭৪ শতাংশ। যা ২০১৯ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ২০.৫৮ শতাংশে। ২০১৯ সালে এসে প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৩৮ শতাংশে । যেখানে এর আগের ২০১৮ সাল শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ০.৩ শতাংশ। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটির মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা। গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত বিআইএফএফএল ৯৫টি প্রকল্পে ৭ হাজার ১০৮ কোটি টাকার ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ৭০টি প্রকল্পে ৩ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা ছাড় করেছে। দেশে অবকাঠামো খাতে আর্থিক সহায়তা বা প্রকল্প ‍ঋণে ব্যয় করার প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য হলেও প্রতিষ্ঠানটি প্রথম দিকে কিছু প্রতিষ্ঠানে ঋণ দিয়ে সেগুলোকে ঝুকিপূর্ণ মনে করে ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যারা লিকুইডিটি বা তারল্য সংকটে আছে মার্কেটে চলমান রেটের চেয়ে বেশি রেট দিয়ে এ কোম্পানির কাছ থেকে এফডিআর এর নামে একটি বড় অংশ বের করে নিয়েছে। অথচ সবচেয়ে বড় পরিশোধিত মূলধন সরকারের কাছ থেকে পাওয়ার পরেও শুধুমাত্র ফান্ডের অর্থের সঠিক পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা না থাকার কারনে এবং জবাবদিহিতা না থাকায় এ প্রতিষ্ঠানে সরকারের পুরো বিনিয়োগই ঝুকির মধ্যে রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইএফএফএলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এসএম আনিসুজ্জামান ও সিএফওর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। কোম্পানি সেক্রেটারি মো: মনিরুল ইসলাম খান এফসিএস এর মোবাইলে পাওয়া যায়নি।


আরো খবর »

সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে ইফাদ গ্রুপ

Polash

ফেডারেল ইনস্যুরেন্স এর ৩৩ বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

Polash

অনন্য সব ফিচারের স্যামসাং মাইক্রোওয়েভ ওভেন

Polash