17 C
Dhaka
জানুয়ারী ২১, ২০২১
Latest BD News – Corporate Sangbad | Online Bangla NewsPaper BD
তথ্য-প্রযুক্তি

চলতি বছর প্রযুক্তি দুনিয়া কাঁপাবে যেসব উদ্ভাবন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : চলতি বছর যে প্রযুক্তিগুলো আলোচিত হবে এবং ভূমিকা রাখবে; তারই একটি তালিকা তৈরি করার প্রয়াস করলাম।

এডজ কম্পিউটিং: তথ্যের প্রোসেস আরও দ্রুত করার অত্যাধুনিক একটি উপায় কম্পিউটিং। গত কয়েক বছর ধরেই ইন্টারনেট অব থিংগের কারণে ডিভাইসের উপরে আরও বেশি তথ্যকে প্রোসেস করার প্রয়োজন হয়ে পড়ছিল। এই এডজ কম্পিউটিং সেই কাজগুলো আরও সহজতর করে ফেলেছে। সনাতন পদ্ধতিতে যেখানে ডিভাইস থেকে সার্ভারে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে; সেখানে এই এডজ কম্পিউটিং ব্যাপারটি আরও দ্রুত সম্পন্ন করে। এ এডজ কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার আমরা ২০২১ সালে আরও বেশি দেখতে পাবো।

ফাইভ-জি মোবাইল নেটওয়ার্ক: এটি ৫ম প্রজন্মের নতুন ধরনের একটি মোবাইল নেটওয়ার্ক। ২০২০ সাল থেকে অনেক দেশে এটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হলেও আমরা এ বছরে এর বিস্তার দেখতে পাবো। এ সংযোগে ল্যাটেন্সি খুব কম এবং ডাটা ট্রান্সফার দ্রুত হয়। ফলে ৮কে রেজ্যুলেশনের ভিডিওগুলো বাফার ছাড়াই মোবাইলে উপভোগ করতে পারবেন। ৫জি নেটওয়ার্কের ডাউনলোড স্পিড ৪জি নেটওয়ার্কের থেকে ১০০ গুণ বেশি। ডাউনলোড স্পিড ১০০০ এমবিপিএস থেকে ১০ গিগাবাইট হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলতে কোনো যন্ত্রের নিজস্ব বুদ্ধি বা চিন্তাশক্তির ক্ষমতাকে বুঝায়। মানুষ ও পশু-পাখির মধ্যে যে চিন্তা করার ক্ষমতা থাকে, একটি যন্ত্রের সেই চিন্তা করার সক্ষমতা। ফলে যন্ত্রটি নিজেই নিজের মত চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। যদিও অনেকই এ প্রযুক্তিকে মানবজাতির জন্য হুমকি হিসাবে মনে করে। তবে মনে রাখতে হবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু তথ্যভিত্তিক রুটিন কাজগুলোর ক্ষেত্রে মানুষের কাজগুলোকে সহজ করে তুলতে পারে। মানুষের মত ডায়নামিকভাবে সব কিছু এ বুদ্ধিমত্তা দিয়ে করা সম্ভব নয়। এ বছর এর ব্যাপক প্রয়োগ দেখতে পাবো বিশেষ করে স্বাস্থসেবা, ব্যাংকিং, খুচরা বিক্রি, মেনুফ্যাকচারিংয়ে আরও প্রয়োগ দেখতে পাবো।

ইন্টেলিজেন্ট অ্যাপস: মোবাইলের জগতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে, যাকে আমরা বলছি বুদ্ধিমান অ্যাপস। যেসব মোবাইল অ্যাপস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযুক্ত থাকছে; সেগুলোকেই বলছি বুদ্ধিমান অ্যাপস। দেখতে খুব সাধারণ মনে হলেও এ অ্যাপগুলোর পেছনে আছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। খুব সাধারণ সুইফট কি-বোর্ড, যা দ্রুত মোবাইলে টাইপ করতে ব্যবহার করি; তা একটি ইন্টেলিজেন্ট অ্যাপস। কিংবা যখন কোনো সাইটের সাপোর্ট বটের সাথে সাপোর্ট সংক্রান্ত কোনো কথোপথন করছেন; তখন কিন্তু কোনো মানুষ এর উত্তর দিচ্ছে না। একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমস্যাটির সম্ভাব্য উত্তর তার ডাটাবেস থেকে খোঁজ করে আপনাকে জানাচ্ছে। আপনি মোবাইলে যে সিরি বা গুগল অ্যাসিস্টেন্ট-এর সাথে কথা বলছেন, তা-ও কিন্তু বুদ্ধিমান অ্যাপস। এ বছরে এ ধরনের আরও স্মার্ট অ্যাপস দেখতে পাবো।

নিরাপদ ইন্টারনেট: বর্তমানে যে ইন্টারনেট ব্যবহার করছি, তা কিন্তু সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। একে হ্যাক করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন কিন্তু একেবারেই অসম্ভব নয়। কিন্তু একেবারেই হ্যাক করা যাবে না এমন ইন্টারনেট তৈরি করছেন বিজ্ঞানীরা। কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন ইন্টারনেট তৈরির কাজ হচ্ছে। সাধারণত যখন তথ্য আদান-প্রদান করি; তখন ইলেকট্রন ব্যবহার করি। কিন্তু কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে ইলেকট্রনের পরিবর্তে প্রোটন ব্যবহৃত হবে। এর মধ্যে তথ্যকে সংযুক্ত করে প্রেরণ করা হবে। যা হ্যাক করা যাবে না। গত কয়েক বছর ধরে পরীক্ষাগারে এ ধরনের ইন্টারনেট তৈরি হলেও এ বছর এ নতুন ধরনের নিরাপদ ইন্টারনেটের বাণিজ্যিক প্রয়োগ দেখতে পাবো।

ডিজিটাল হেলথকেয়ার: যেসব তথ্যপ্রযুক্তি বর্তমান স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে যেমন টেলিমেডিসিন, ডিজিটাল মেডিসিন, ভার্চুয়াল ডাক্তার, ভার্চুয়াল রোগী ইত্যাদি। সংক্রমণ ও নিরাপত্তার ভয় আছে, পরিবহন করে যাওয়া কঠিন- সেই ক্ষেত্রে দেখেছি কীভাবে এ ডিজিটাল প্রযুক্তিগুলো স্বাস্থ্যসেবাকে আমাদের ঘরে পৌঁছে দেয়। এ বছর এর আরও প্রয়োগ দেখতে পাবো। এগুলো ছাড়াও অনলাইন ভিত্তিক কাজ ও শিক্ষার প্রসারের কারণে নতুন নতুন প্রযুক্তি ও প্লাটফর্ম এ বছর দেখতে যাবে।


আরো খবর »

‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২’ এর কাজ শুরু

উজ্জ্বল

বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ড্রোন উন্মোচন

উজ্জ্বল

বিশ্বের প্রথম এসএমএসে যা লেখা ছিল

উজ্জ্বল