14 C
Dhaka
জানুয়ারী ২৭, ২০২১
Latest BD News – Corporate Sangbad | Online Bangla NewsPaper BD
ধর্ম ও জীবন

আজান ও ইকামতের ফজিলত

মুয়াজ্জিনরা আজান দেন। মানুষকে সালাত বা নামাজের উদ্দেশে ডাকেন। তারা নিজেদের পক্ষ থেকে নয় আল্লাহর পক্ষ থেকে আহ্বান জানান। হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি : শয়তান সালাতের আজানের শব্দ শুনে পলায়ন করতে করতে রাওহা পর্যন্ত ভেগে যায়। আমাশ বলেন : আমি আবু সুফিয়ানকে রাওহা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এ স্থানটি মদিনা থেকে ৩২ মাইল দূরে অবস্থিত। (মুসলিম, হা/৮৮০)।

হজরত আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি : যে কোনো মানুষ, জিন অথবা যে কোনো বস্তুই যতদূর পর্যন্ত মুয়াজ্জিনের আওয়াজ শুনবে, সে কেয়ামতের দিন তার জন্য সাক্ষ্য দেবে। (বোখারি হা/৩০৫৩)।

হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যখন সালাতের আজান দেওয়া হয়, তখন শয়তান পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে। বাতকর্ম করতে করতে দ্রুত পলায়ন করে, যেন সে আজানের শব্দ শুনতে না পায়। আজান শেষ হলে সে পুনরায় ফিরে আসে। আবার যখন ইকামত দেওয়া হয়, তখন সে পলায়ন করে। ইকামত শেষ হলে সে পুনরায় ফিরে আসে এবং মুসল্লির মনে সংশয় সৃষ্টি করতে থাকে। সে তাকে বলে, এটা স্মরণ কর, ওটা স্মরণ কর। অথচ এ কথাগুলো সালাতের আগে তার স্মরণও ছিল না। শেষ পর্যন্ত মুসল্লি এমন এক বিভ্রাটে পড়ে যে, সে বলতেও পারে না, সে কত রাকাত সালাত আদায় করেছে।

হজরত ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি ১২ বছর আজান দেয়, তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত হয়ে যায় এবং তার জন্য তার প্রত্যেক আজানের বিনিময়ে লেখা হয় ষাট নেকি এবং প্রত্যেক ইকামাতের বিনিময়ে লেখা হয় ৩০ নেকি। (ইবনে মাজাহ হা/৭২৮)।

হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মুয়াজ্জিনের কণ্ঠস্বর যতদূর পর্যন্ত যায় তাকে ততদূর ক্ষমা করে দেওয়া হয়। তাজা ও শুষ্ক প্রতিটি জিনিসই (কেয়ামতের দিন) তার জন্য সাক্ষী হয়ে যাবে। আর কেউ জামাতে হাজির হলে তার জন্য ২৫ ওয়াক্ত সালাতের সওয়াব লেখা হয় এবং এক সালাত থেকে আরেক সালাতের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (আবু দাউদ হা/৫১৫)।

বারাআ ইবনে মাজিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ইমাম হচ্ছেন জিম্মাদার এবং মুয়াজ্জিন (ওয়াক্তের) আমানতদার। হে আল্লাহ! ইমামদের সঠিক পথপ্রদর্শন করুন এবং মুয়াজ্জিনদের ক্ষমা করে দেন। (তিরমিজি হা/২০৭)।

হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি আজান শুনে দোয়া করে, হে আল্লাহ! এ পরিপূর্ণ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের রব! মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওসিলা ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী করুন এবং তাঁকে সেই মাকামে মাহমুদে পৌঁছে দিন যার অঙ্গীকার আপনি করেছেন। কেয়ামতের দিন সে আমার শাফায়াত লাভের অধিকারী হবে।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসুল! মুয়াজ্জিনরা তো আমাদের ওপর মর্যাদার অধিকারী হয়ে যাচ্ছে। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : মুয়াজ্জিনরা যেরূপ বলে থাকে তোমরাও সেরূপ বলবে। অতঃপর আজান শেষ হলে (আল্লাহর কাছে) দোয়া করবে। তখন তোমাকে তাই দেওয়া হবে। তোমার দোয়া কবুল হবে। (আবু দাউদ হা/৫২৪)।

হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন (মসজিদে নববীতে) এমন একটি (খেজুর গাছের) খুঁটি ছিল যার সঙ্গে হেলান দিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়াতেন। (অর্থাত্ দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন), এরপর যখন তাঁর জন্য মিম্বর স্থাপন করা হলো তখন আমরা খুঁটি থেকে ১০ মাসের গর্ভবতী উটনীর ক্রন্দন করার আওয়াজ শুনতে পেলাম। এমনকি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বর থেকে নেমে এসে খুঁটির ওপর হাত রাখলেন, তখন খুঁটিটি কান্না বন্ধ করল। (সহিহ বোখারি, হাদিস নং ৯১৮)।

হজরত সাইব ইবনে ইয়াজিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : যখন মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা বৃদ্ধি পেল তখন হজরত উসমান (রা.) জুমার ছানি আজানের নির্দেশ দেন। এর আগে জুমার দিন ইমাম যখন মিম্বরে বসতেন, শুধু তখন আজান দেওয়া হতো। (সহিহ বোখারি, হাদিস নং ৯১৫)।

হজরত সায়িব ইবনে ইয়াজিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর ও উমর (রা.) এর যুগে জুমার দিন ইমাম যখন মিম্বরে বসতেন, তখন জুমার প্রথম আজান দেওয়া হতো। এরপর যখন হজরত উসমান (রা.) খলিফা হলেন এবং লোকের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেল তখন তিনি জুমার তৃতীয় আজানের নির্দেশ দেন। (যাওরা নামক স্থান থেকে এ আজান দেওয়া হতো)। (সহিহ বোখারি, হাদিস নং ৯১৬)।

লেখক : মুফতি তরিকুল ইসলাম আল আযহারী (ইসলামী গবেষক)।


আরো খবর »

মহানবীর (সা.) ১৪০০ বছর আগের যে বাণী সত্য প্রমাণ পেল বিজ্ঞানীরা

উজ্জ্বল

মুসলিম উম্মাহর অধঃপতন থেকে উত্তোরনের উপায়

Tanvina

শীতকাল মুমিনের জন্য ইবাদতের বসন্তকাল

Sultan