25 C
Dhaka
জানুয়ারী ২৬, ২০২১
Latest BD News – Corporate Sangbad | Online Bangla NewsPaper BD
আর্কাইভ জাতীয় শিরোনাম শীর্ষ সংবাদ

২০২১ সালের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জ ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা। সে অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ১০টি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। মহামারি করোনাকালেও অনেকটাই এগিয়ে গেছে এসব মেঘা প্রকল্পের কাজ। দেশপ্রেমিক ও সাহসী নেতা না হলে দেশি-বিদেশি নানামুখী ষড়যন্ত্র ও কুটচাল এর মধ্যে এত বড় বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া সম্ভব হত না। যে দশটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন, সেগুলো কমিশনিং হলে আমূল পাল্টে যাবে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি। বেড়ে যাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি।

গত অক্টোবর পর্যন্ত বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা বহুমুখী সেতুর ৮২ শতাংশ অগ্রগতি হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তদেশীয় যোগাযোগের লক্ষ্যে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। এ প্রকল্প ২০২২ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-খুলনা পথে ২১২, ঢাকা-যশোর পথে ১৮৪ এবং ঢাকা-দর্শনা পথে দূরত্ব কমবে ৪৪ কিলোমিটার। পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত হয় দোহাজারি-রামু-কক্সবাজার গুমদুম রেলপথ। ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মেগা প্রকল্পগুলোর অন্যতম মেট্রোরেল। ২০২৪ সালে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। পায়রা সমুদ্রবন্দর দেশের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের অনগ্রসরতা, আমদানি বৃদ্ধি এবং বন্দরের ভবিষ্যৎ ধারণক্ষমতা বিবেচনায় প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা ইউনিয়নে দুটি ৬০০ মেগাওয়াট করে মোট ১২০০ মেগাওয়াট মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে।

ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে বাগেরহাটের রামপালে মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দেশের প্রথম সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হবে কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপে। বন্দরটি হলে প্রতিবেশী নেপাল, ভুটান ও ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্য তা ব্যবহার করতে পারবে। সাংগু গ্যাসক্ষেত্র শেষ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাস সংকট বিরাজ করছে। এ সংকট নিরসনে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির লক্ষ্যে মহেশখালী উপকূলে দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের ক্ষমতাসম্পন্ন একটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। টার্মিনাল থেকে মূল ভূখন্ডে গ্যাস আনতে ৯১ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হবে।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ পৃথিবীর ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক। মাত্র ৫০ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক বাজেটকে টপকে বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেট এখন ৫ লাখ কোটি টাকা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ শুরুর মধ্য দিয়ে ৩২তম দেশ হিসেবে বিশ্ব পরমাণু ক্লাবে ঢুকে গেছে বাংলাদেশ। দুটি সাবমেরিন কেনার মাধ্যমে বিশ্বের ৪১তম দেশ হিসেবে সাবমেরিনের অধিকারী হয়ে গেল বাংলাদেশ।

মানুষের জীবন ও জীবিকা সচল রাখতে সব ধরনের নির্দেশণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দরিদ্র কৃষক ও কৃষির উৎপাদন বাড়াতে ৫ হাজার কোটি টাকা ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের জন্যও বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৫ কোটি টাকা। মসজিদের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন, মাদ্রাসার শিক্ষক, নন-এমপিও শিক্ষক, গার্মেন্ট শ্রমিক, গ্রাম-পুলিশ, প্রতিবন্ধী, দুস্থ সাংবাদিকরাও বাদ পড়েননি।

দরিদ্র মানুষের জন্য বাড়ানো হয় ভিজিএফ, ভিজিডির বরাদ্দের পরিমাণ। ঈদের আগে প্রতি পরিবারকে ২ হাজার ৫০০ করে ১ হাজার ২৫০ কোটি নগদ টাকা সহায়তা করা হয়। শিশুদের জন্যও খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। রেশন কার্ডের আওতায় ১০ টাকা দরে চাল বিক্রি করা হয়। এতে ৫ কোটি মানুষ উপকৃত হয়। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, করোনাকালে দেশে খাদ্য সংকট দেখা দেবে, কিন্তু শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বের কারণে কোনো সংকট সৃষ্টি হয়নি।

বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে বিপর্যস্ত বাংলাদেশও। অদৃশ্য এই শক্তির মোকাবিলার পাশাপাশি ছিল প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় আম্পান। করোনা, আম্পান ও বন্যার মধ্যেও সরকারের দক্ষ মনিটরিংয়ের কারণে বাজার পরিস্থিতিও ছিল সাধারণ মানুষের নাগালে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন মজুদদারদের বিরুদ্ধে।

করোনা চলাকালে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ১৯টি প্যাকেজে ১ লাখ ৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে বড়, মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যেমন প্রণোদনা পেয়েছেন, বাদ যাননি করোনাযোদ্ধা চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরাও। করোনায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নিয়োগ দেওয়া হয় চিকিৎসক। নিশ্চিত করা হয় চিকিৎসা সুরক্ষাসামগ্রীও। তাদের জন্যও ঘোষণা করা হয় স্বাস্থ্যবিমা বা প্রণোদনা।

সরকারের সুদৃঢ় পরিকল্পনা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা যদি সরকারের দোষ নিয়ে থাকি তাহলে উন্নয়নটা চোখে পড়বে না, তাই আমাদের উচিত নিজস্ব চিন্তাশক্তি দিয়ে কথা বলা। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বদ্ধ পরিকর।

আরও পড়ুন : একক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ না দেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


আরো খবর »

সারাদেশে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

উজ্জ্বল

নির্মাণ কাজের জন্য প্রশিক্ষিত শ্রমিক ও প্রকৌশলী প্রয়োজন : এলজিআরডি মন্ত্রী

উজ্জ্বল

দেশে করোনায় আরও ১৪ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৫১৫

উজ্জ্বল