21 C
Dhaka
জানুয়ারী ২৫, ২০২১
Latest BD News – Corporate Sangbad | Online Bangla NewsPaper BD
খেলাধূলা শিরোনাম শীর্ষ সংবাদ

সাবেক ফুটবলার বাদল রায় আর নেই

স্পোর্টস ডেস্ক : বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক এবং সংগঠক বাদল রায় আর নেই। রোববার (২২ নভেম্বর) বিকেলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিলো ৭৫ বছর।

তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। বেশ কয়েক দিন ধরেই পেটে ব্যথাসহ নানা উপসর্গ নিয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন বাদল রায়।

এর আগে ২০১৭ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তার শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যায়।

১৯৮১ ও ১৯৮৬ সালে মোহামেডানের অধিনায়ক ছিলেন বাদল রায়। ’৮৬-তে তিন বছর পর মোহামেডানের লিগ জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯৮২ সালে আবদুস সালাম মুর্শেদীর ২৭ গোলের পেছনে বড় অবদান ছিল বাদলের। নিজে গোল করার মতো অবস্থানে থেকেও আবাহনীর কাজী সালাউদ্দিনের ২৪ গোলের রেকর্ড ভাঙার জন্য সালাম মুর্শেদীকে দিয়ে গোল করিয়েছেন। শুধু মোহামেডান নয়, জাতীয় দলেও বাদল রায় ছিলেন অপরিহার্য ফুটবলার। ১৯৮২ দিল্লি এশিয়াডে তার জয়সূচক গোল রয়েছে ভারতের বিপক্ষে। ইনজুরির জন্য বাদল রায়ের ক্যারিয়ার খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি।

বাদল রায় খেলোয়াড়ি জীবন থেকেই ছিলেন রাজনীতি সচেতন। ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯১ সালে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান বাদল রায়। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের ক্রীড়া কমিটির সহ-সম্পাদক পদে ছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী ছিলেন বেশ ক’বার।

খেলা ছাড়ার পর সংগঠক হিসেবে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান বাদল রায়। নিজের ক্লাব মোহামেডানের ম্যানেজার ও পরিচালকের দায়িত্বেও ছিলেন। ১৯৯৬ সাল থেকে ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত হন। যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন দুই মেয়াদে। পরবর্তীতে ২০০৮-২০ সাল পর্যন্ত সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সহ-সভাপতি, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনেও গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন বাদল রায়।

ক্রীড়াঙ্গনের কোনো অন্যায়-অনিয়ম হলে প্রতিবাদ করতেন বাদল রায়। অসুস্থ্য ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া সংগঠকদের সাহায্যে এগিয়ে যেতেন সবার আগে।

জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পাওয়া ফুটবলার আবদুল গাফফার বলেন, বাদল আমার প্রায় অর্ধ শতাব্দীর বন্ধু। ওর মতো ভালো মানুষ ক্রীড়াঙ্গনে বিরল। বাদলের জন্য সবাই দোয়া করবেন। যেন আল্লাহ ওকে দ্রুত সুস্থ করে দেন।

বাদল রায় ২০১৭ সালে স্ট্রোক করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাদল রায়কে সিঙ্গাপুরে নিয়ে চিকিৎসা করানোর ব্যবস্থা করেন। বন্ধুর পাশে সিঙ্গাপুরেও ছুটে গিয়েছিলেন আবদুল গাফফার। স্ট্রোক করার পর থেকেই নানাবিধ শারীরিক জটিলতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন বাদল রায়। তবে তাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে বাফুফের কর্মকাণ্ড। ২০১২ ও ২০১৬ নির্বাচনে কাজী সালাউদ্দিনের সঙ্গে একই প্যানেলে ছিলেন।

২০১৬ সালে বাফুফে সভাপতি হিসেবে সালাউদ্দিনের জয়ের পেছনে বাদল রায়ের অবদান অনেক। অথচ সভাপতি হওয়ার পর বাদল রায়ের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান পদ কেড়ে নেন সালাউদ্দিন। গত বছর ক্যাসিনো ঝড়ে মোহামেডান ক্লাব যখন লণ্ডভণ্ড, তখন বাদল রায়ই অসুস্থ শরীরে মোহামেডানের হাল ধরেছেন।

পরবর্তীতে ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচনে ফুটবলকে দুর্নীতিমুক্ত করতে কাজী সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন এই ফুটবলার। নির্বাচনী ভেন্যুতে উপস্থিত না থেকেও ৪০ ভোট পেয়েছেন। হয়তো স্বাভাবিক অবস্থায় নির্বাচন হলে বাদল রায়ই হতেন বাফুফের সভাপতি।


আরো খবর »

দেশে পৌঁছেছে সেরামের ৫০ লাখ করোনার টিকা

উজ্জ্বল

কাশিমপুর কারাগারের নতুন জেলার রীতেশ চাকমা

উজ্জ্বল

সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণায়ও মনোনিবেশের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

উজ্জ্বল