21 C
Dhaka
জানুয়ারী ২৫, ২০২১
Latest BD News – Corporate Sangbad | Online Bangla NewsPaper BD
আইন-আদালত আর্কাইভ

বিজিবির ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলায় এনজিও কর্মীর বিরুদ্ধে সমন জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজারের টেকনাফে নারী এনজিও কর্মীর বিরুদ্ধে বিজিবির ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলায় আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ। রোববার (২২ নভেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। পরে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন বিচারক।

আদালতে বিজিবির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুল করিম ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জিয়া উদ্দিন আহমেদ।

অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুল করিম সাংবাদিকদের জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে ব্লাস্ট নামের এনজিও কর্মী ফারজানা আক্তার বিজিবির মতো একটি বাহিনীর মানহানি করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে সেটি উঠে এসেছে। পরবর্তী তারিখে মামলার শুনানি হবে।

উল্লেখ্য, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধীনস্থ দমদমিয়া বিওপিতে কর্মরত জেসিও-৭৮৩৬ নায়েব সুবেদার মোহাম্মদ আলী মোল্লা এবং তার সঙ্গীয় একটি চৌকষ টহলদল গত ৮ অক্টোবর দমদমিয়া চেকপোষ্টে সরকারী নিয়ম মেনে তল্লাশী কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিল। পরবর্তীতের সাড়ে ১০টায় লেদা হতে টেকনাফগামী একটি সিএনজি চেকপোষ্টের নিকট আসলে তল্লাশীর জন্য থামানো হয়। সিএনজিতে আরোহিত সর্বমোট ৫ জন যাত্রীকে তল্লাশী করার উদ্দেশ্যে বিজিবি টহলদল সিএনজি হতে নামার জন্য যাত্রীগণকে অনুরোধ করে। আরোহিত অন্যান্য যাত্রীগণ তল্লাশী কার্যক্রমে বিজিবিকে সহায়তা করার জন্য সিএনজি হতে নামলেও ফারজানা আক্তার (২৬) সিএনজি হতে নামতে অপারগতা প্রকাশ করে। বিজিবিকে তল্লাশী কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান না করে উল্টো বিজিবি টহলদলের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে তল্লাশী করার কারণ জিজ্ঞাসা করে। বিরুপ আচরণের কারণে বিজিবির টহলদল উক্ত ব্যক্তিকে সম্ভাব্য ইয়াবা পাচারকারী হিসেবে সন্দেহ করে। সারাদেশে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে উর্দ্ধতন সদর দপ্তরের নির্দেশনা পালনার্থে সন্দেহভাজন ইয়াবা পাচারকারী হিসেবে উক্ত চেকপোষ্টের মহিলা তল্লাশী কক্ষে কর্তব্যরত মহিলা সৈনিকগণ দ্বারা তাকে তল্লাশী করা হয়।

তল্লাশী কার্যক্রম পরিচালনাকালীন সময়ে উক্ত যাত্রীর সাথে সরকারী নিয়ম বর্হিভূত কিংবা কোন ধরণের অপেশাদার আচরণ করা হয়নি। পরবর্তীতে উক্ত ব্যক্তির নিকট কোন প্রকার মাদকদ্রব্য/অবৈধ পণ্য না পাওয়ায় ১০টা ৩৬ মিনিটে তাকে সসম্মানে দমদমিয়া চেকপোষ্ট হতে ছেড়ে দেওয়া হয়। দমদমিয়া চেকপোষ্ট হতে যানবাহনে আরোহণ পরবর্তীতে ফারজানা আক্তার তার চাকুরীস্থলে যাতায়াতের জন্য গাড়ী বরাদ্দ করা হয়নি বিধায় অন্যান্য সাধারণ নাগরিকের ন্যায় বিজিবি চেকপোষ্টে তল্লাশীর সম্মুখীন হওয়ার অভিযোগ করে মোবাইল ফোনে তার কর্তৃপক্ষের সাথে অত্যন্ত উচ্চ এবং রাগতস্বরে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ করে (উপস্থিত স্বাক্ষীগণের স্বাক্ষ্য অনুযায়ী)।

পরবর্তীতে ৯ অক্টোবর আনুমানিক ১১ টায় বিজিবি চেকপোষ্টে দায়িত্বরত প্রহরীগণ কর্তৃক তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে মর্মে মামলা রেকর্ডের জন্য টেকনাফ থানায় যান তিনি। উল্লেখিত অভিযোগের স্বপক্ষে উক্ত নারী প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে সক্ষম না হওয়ায় টেকনাফ থানা কর্তৃক তার মামলা রেকর্ড করা হয়নি।

পরবর্তীতে উক্ত ব্যক্তি একই দিনে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গমন করে নিজেকে একজন ধর্ষিতা হিসেবে দাবি করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের One Stop Crisis Centre (OSCC) এ ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন মর্মে জানা যায়। ফারজানা আক্তার চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় গত ১১ অক্টোবর জাতীয় পত্রিকা “দৈনিক যুগান্তর”এর ১৬ পৃষ্ঠায় ৫ম কলামে “কক্সবাজারে চেকপোষ্টে ব্লাস্ট কর্মীকে ধর্ষণ”শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। উক্ত সংবাদটি বিজিবি’র মত স্বনামধন্য বাহিনীর বিরুদ্ধে জনমনে নেতিবাচক মনোভাব তৈরী করার পাশাপাশি বিজিবির শতবর্ষের অর্জিত সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে। দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদটি অবলোকন করে বহুল প্রচারিত অনলাইন পত্রিকা bdnews24.com এবং বার্তা বাজার পত্রিকাতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদের বিষয়ে প্রচুর আলোচনা হয়। বিগত ১৩ অক্টোবর ‘দৈনিক যুগান্তর’পত্রিকাটি “কক্সবাজারে চেকপোষ্টে ব্লাস্ট কর্মীকে ধর্ষণ” শিরোনামে ভুল ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে।

প্রকাশ্য দিবালোকে অসংখ্য যানবাহন ও যাত্রীর উপস্থিতিতে দমদমিয়া বিজিবি চেকপোষ্টে সাড়ে ১০টায় হতে ১০টা ৩৬ মিনিটে অর্থাৎ সর্বমোট ০৬ মিনিটে একজন নারীর ধর্ষিত হওয়ার বিষয়টি সম্পর্ণরুপে বাস্তবতা বিরোধী একটি দাবি (চেকপোষ্ট হতে তল্লাশী কক্ষে হেঁটে যাওয়া এবং তৎপরবর্তীতে ধর্ষিত হয়ে নিজের পরিহিত কাপড় গুছিয়ে সর্বমোট ০৬ মিনিটের মধ্যে উক্ত কক্ষ হতে বের হওয়া)। উল্লেখিত নারী নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য ‘উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে’ এবং কর্মস্থলে যাতায়াতের সুবিধার জন্য গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ গ্রহণের উদ্দেশ্যকে অধিক জোরালো করার নিমিত্তে সরকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ও অভিযোগ আনয়ন করতঃ জনসমক্ষে এবং মিডিয়ার সহানুভূতিকে চতুরতার মাধ্যমে নেতিবাচকভাবে ব্যবহার করে বিজিবির মতো পেশাদার ও স্বনামধন্য বাহিনীকে হেয় করার অপচেষ্টা করেছেন। উক্ত বিষয়টি ইতিমধ্যে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অভ্যন্তরীণ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মত মিথ্যা অপবাদ ও প্রোপাগান্ডা করা এবং তা জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে প্রকাশ করার মাধ্যমে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর মত দেশের একটি স্বানামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের অপূরণীয় ক্ষতির কারণে ফারজানা আক্তার এর বিরুদ্ধে গত ১০ নভেম্বর জেসিও-৭৮৩৬ নাঃ সুবেঃ মোহাম্মদ আলী মোল্লা বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আদালত নং-০৪, সদর, কক্সবাজার এ দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ৫০০ ধারা মোতাবেক একটি ফৌজদারী মামলা দায়ের করেন (সি আর মামলা নং-২৯৭/২০২০ (টেকনাফ) তারিখ ১০ নভেম্বর ২০২০)।

সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ উক্ত মামলাটির প্রয়োজনীয় তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন (স্বাক্ষীদের জবানবন্দিসহ) ০৭ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে দাখিল করার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, টেকনাফ মডেল থানা, টেকনাফকে ইতিমধ্যে নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (২২ নভেম্বর) তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।


আরো খবর »

ফ্রন্টলাইন জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ড পেলেন মাসুদ রুমী

Polash

চট্টগ্রামে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

উজ্জ্বল

কাশিমপুর কারাগারের নতুন জেলার রীতেশ চাকমা

উজ্জ্বল