দারিদ্র্য ঘুচাতে লাশ হয়ে ফিরলেন শার্শার যুবক মুন্না

Posted on May 25, 2023

বেনাপোল প্রতিনিধি : মুন্না হোসেন (২২)। ছোট বেলায় সবার মতো সেও স্বপ্ন দেখতেন লেখাপড়া শিখে বড় হয়ে মানুষের মতো মানুষ হবেন। করবেন বড় চাকরি। মা-বাবা ও দুটি বোনের সংসারে হাসি ফোটাবেন। সুখে শান্তিতে কাটবে তাদের দিন। এই স্বপ্ন নিয়ে তিনি এগিয়েও যাচ্ছিলেন। কিন্তু স্বপ্ন পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালো দারিদ্রতা। লেখাপড়ার পাশাপাশি সংসারে বাবাকে সাহায্য সহযোগিতা করতে কখনো নিজেদের চায়ের দোকানে আবার কখনো বাইরে শ্রমিকের কাজ করতে হয়েছে। উপার্জিত অর্থ তুলে দিতেন বাবা-মায়ের হাতে। কিন্তু সেটি বেশীদিন সম্ভব হয়ে উঠেনি। এসএসসির গন্ডি না পেরোনো মুন্নাকে মাঝপথে মনের মধ্যে পোষণ করা সেই স্বপ্ন যাত্রা থামাতে হয়েছে। দারিদ্রতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পরিবারের ইচ্ছাতেই এবার নতুন স্বপ্নের জাল বুনতে শুরু করলেন তিনি। বাড়ির আশেপাশে ও এলাকার অনেকেই বিদেশ গিয়ে অর্থ উপার্জন করে পরিবারে বেশ স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। প্রবাসীদের পরিবার সবাই খুব সুখে শান্তিতে আছেন। এটা ভেবেই নিজ পরিবারের সহায় সম্বল ও ধার দেনা করে মুন্না গত প্রায় ৫ মাস পূর্বে উন্নত জীবনের আসায় স্বপ্ন পূরণের দেশ মালয়েশিয়াতে পাড়ি জমান। সেখানে নিজেকে প্রায় প্রস্তুত করে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন।

এরই মাঝে গত ১৪ মে রোববার মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে একটি নির্মাণাধীন দুই তলা ভবনে কর্মরত অবস্থায় অসাবধানতা বসত হঠাৎ নিচে পড়ে গিয়ে মারাত্মক ভাবে আহত হন। এ সময় তার সহকর্মীরা দ্রুত তাকে সেখাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ মে শুক্রবার তিনি মারা যান। দারিদ্রতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে উন্নত জীবনের আসায় ছোট বয়সে মালয়েশিয়াতে গিয়ে লাশ হয়ে ফেরা যশোরের শার্শার লক্ষণপুর গ্রামের মিলন হোসেনের ছেলে মুন্না হোসেন (২২)।

নিহতের সহকর্মী প্রবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচ মাস আগে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে মালয়েশিয়া যান মুন্না হোসেন (২২)। সেখানকার পেনাং শহরের হকলি নামের একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন। কাজরত অবস্থায় ১৪ মে রোববার তিনি নির্মানাধীন ভবনের দুই তলা থেকে পড়ে গিয়ে মাথা এবং বুকে মারাত্মক ভাবে আঘাত প্রাপ্ত হন। সেখান থেকে তাকে অন্য প্রবাসীরা দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং সেখানে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ মে শুক্রবার সকাল দশটার দিকে এই প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তার এই অকাল মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সব স্বপ্ন, উন্নত জীবনের আসা এবং পরিবারের দায়িত্ব সব কিছুর যেন মৃত্যু ঘটলো।

মালয়েশিয়া প্রবাসী সোহান ও ইস্রাফিল বিন ইউছুপ মুঠোফোনে জানান, মুন্নার মরদেহ দেশে পাঠানোর সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।এদিকে পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তান প্রবাসে তার এমন আকর্ষিক মৃত্যুতে বাবা-মা, বোন, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসি সবার মাঝে যেন শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে। এমন করুণ মৃত্যু যেন কেউ মেনে নিতে পারছেন না।বুধবার (২৪ মে) সকালে তার মরদেহ ঢাকা এসে পৌছে। সন্ধ্যায় মরদেহ নিজ বাড়িতে এসে সেখানে এক হৃদয় বিদারকের সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। রাতে জানাজা নামাজ শেষে স্হানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয় মুন্নাকে। লক্ষণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারা খাতুন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।