27.5 C
Dhaka
সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯
Latest BD News – Corporate Sangbad | Online Bangla NewsPaper BD
বিনোদন

এটিএম শামসুজ্জামান ও পপির জন্মদিন আজ

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক : বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান ও আরেক প্রিয়মুখ সাদিকা পারভিন পপির জন্মদিন আজ। এটিএম শামসুজ্জামান ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। এবার পালিত হবে তার ৭৮তম জন্মবার্ষিকী।

এটিএম শামসুজ্জামানের সিনেমায় যাত্রা সহকারী পরিচালক হিসেবে। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। এরপর বিভিন্ন পরিচালকের সঙ্গে সহকারী হিসেবে কাজ করেন। তাদের মধ্যে খান আতাউর রহমান, কাজী জহির, সুভাষ দত্ত অন্যতম। ১৯৬৫ সালে সর্বপ্রথম সিনেমার জন্য চিত্রনাট্য লেখেন। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনি লিখেছেন। ১৯৬৫ সাল থেকে কৌতুকাভিনেতা হিসেবে সিনেমায় অভিনয় শুরু করেন। নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘এতটুকু আশা’ সিনেমায় সর্বপ্রথম পান বিক্রেতা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এরপর ১৯৭৬ সালে প্রয়াত দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। এ সিনেমায় খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করেই অভিনয় জগতে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ফলে পরিচালকরাও তাকে একের পর এক খলনায়ক চরিত্রে কাস্ট করতে থাকেন।

এছাড়া খল চরিত্রে তার অভিনীত আরও কিছু উল্লেখযোগ্য সিনেমা হলো অশিক্ষিত, গোলাপী এখন ট্রেনে, পদ্মা মেঘনা যমুনা, স্বপ্নের নায়ক প্রভৃতি। খলনায়কের পাশাপাশি কৌতুক অভিনেতা হিসেবেও বেশ সফলতা পান। বিশেষ করে জলছবি, যাদুর বাঁশি, রামের সুমতি, ম্যাডাম ফুলি, ভণ্ড, চুড়িওয়ালা, মন বসে না পড়ার টেবিলে’সহ বিভিন্ন সিনেমায় সফল অভিনয় করেন। এছাড়াও বেশ কিছু চলচ্চিত্রে তিনি পার্শ্ব-চরিত্রে অভিনয় করেন। অনন্ত প্রেম, দোলনা, অচেনা, মোল্লা বাড়ির বউ, হাজার বছর ধরেসহ আরও অনেক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। সিনেমার পাশাপাশি অসংখ্য নাটকেও অভিনয় করেন।

১৯৬৩ সালে টিভি নাটকে তার অভিষেক। প্রথম নাটক বিশিষ্ট টিভিব্যক্তিত্ব ও নাট্যকার আশকার ইবনে শাইখ পরিচালিত ‘লাঠিয়াল বাহিনী’। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটক রঙের মানুষ, ভবের হাট, ঘর কুটুম, বউ চুরি, নোয়াশাল, শতবর্ষে দাদাজান প্রভৃতি। দায়ী কে, ম্যাডাম ফুলি, চুড়িওয়ালা, মন বসে না পড়ার টেবিলে ও চোরাবালি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক’। অভিনয় ছাড়াও তিনি নিজের দেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও নিজের জীবন কাহিনি নিয়ে একটি বই লিখেছেন। শিল্পকলা একাডেমি থেকে প্রকাশিতব্য এ বইয়ের নাম ‘শিল্প সংস্কৃতি ও আমার শিল্পী জীবন’। দেশের শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে লেখার পাশাপাশি এতে উঠে এসেছে তার শিল্পী জীবনের কথা। একটি শিক্ষিত পরিবারে জন্ম নিয়েও কীভাবে তাকে পরিবার থেকে বের হয়ে যেতে হয়েছে, কীভাবে তাকে শিল্পী হিসেবে পরিণত হতে হয়েছে তা তুলে ধরেছেন। বয়সজনিত কারণে বর্তমানে তার কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।

১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার ভোলাকোটে। আর ঢাকায় থাকেন সূত্রাপুর থানার দেবেন্দ্রনাথ দাস লেনে। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার পগোজ স্কুল, কলেজিয়েট স্কুল ও রাজশাহীর লোকনাথ হাই স্কুলে। ম্যাট্রিক পাস করেন ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট হাইস্কুল থেকে। তারপর জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হন। তার বাবা নূরুজ্জামান ছিলেন নামকরা উকিল এবং মা নুরুন্নেছা বেগম। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার স্ত্রীর নাম রুনি জামান।

অন্যদিকে, চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভিন পপি ১০ সেপ্টেম্বর খুলনার শিববাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে ১৯৯৭ সালে বাংলা চলচ্চিত্রের প্রিয়দর্শিনী এই নায়িকার আর্বিভাব ঘটে।

মুন্নুজান স্কুলে পড়াশোনাকালীন ১৯৯৫ সালে লাক্স আনন্দ বিচিত্রা ফটোসুন্দরী হিসেবে মিডিয়ায় তার অভিষেক ঘটে। চলচ্চিত্রে আসার আগে তিনি শহীদুল হক খান পরিচালিত ‘নায়ক’ নাটকে চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে প্রথম অভিনয় করেন।

এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। দেখতে দেখতে চলচ্চিত্রে তার পথচলার বিশ বছর পেরিয়েছে। অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি তিনবার। কুলি থেকে আজকের সোনা বন্ধু’তে তাঁর উপস্থিতি যেন এখনো সেই একইরকম। বর্তমানে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি ছোটপর্দাতেও নিয়মিত অভিনয় করছেন পপি।

শুধু চলচ্চিত্রেই নয় বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে তার উপস্থিতি ছিলো একজন আকর্ষনীয় মডেল’রই মতো। ছোটপর্দায় মাঝে মাঝে যেসব নাটক-টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন, সেখানেও তিনি হয়েছেন নন্দিত। তাই সংস্কৃতির পথে তার পথচলা ছিলো সবসময়ই নান্দনিক, প্রশংসনীয়। একজন মানুষ হিসেবে খুব সহজে আপন করে নেওয়ার মতোই একজন মানুষ পপি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আরো খবর »

মুক্তি পেল ‘সাপলুডু’র ট্রেলার 

*

ঢাকায় আসছেন নারগিস ফাখরি

*

শিল্পী সমিতির নির্বাচন ১৮ অক্টোবর

*