34.2 C
Dhaka
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
Latest BD News – Corporate Sangbad | Online Bangla NewsPaper BD
আর্কাইভ কর্পোরেট সুশাসন শিরোনাম

বাজেট প্রণোদনায় পুঁজিবাজারে বইতে পারে সুবাতাস

sir

জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট পাস করা হয়েছে। এ বাজেট সোমবার (১ জুলাই) থেকে কার্যকর হয়েছে। বাজেট হচ্ছে একটি দেশের পরবর্তী বছরের উন্নয়নের রোডম্যাপ বা রূপরেখা। এই বিবেচনায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রণীত বিগত দিনের বাজেট এবং বাজেট মূল্যায়নে ও বাস্তবায়নে এ সত্যের প্রতিফলন পাওয়া যায়। এ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যেই জনকল্যাণমূলক বাজেট। এ বাজেট বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছানোই তার সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে গত ১৩ জুন, দেশের ৪৮তম বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারের বাজেটের মূল আকার ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এরমধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাবদ ব্যয় করা হবে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। বাজেটের ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। অনুমোদিত বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮.২ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫.৫ শতাংশ।

প্রণোদনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বিনিয়োগকারীদের। বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিমত, প্রণোদনায় কিছুটা কাটছাঁট করা হলেও এটা পুঁজিবাজারবান্ধব হয়েছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা ভেবে প্রধানমন্ত্রী এই প্রণোদনা দিয়েছেন। প্রণোদনা কার্যকর হলে কোম্পানিগুলোর মধ্যে নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার প্রবণতা বাড়বে। অনেক কোম্পানি রয়েছে যারা পুঁজিবাজারে এসে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে মগ্ন থাকেন। তারা সবসময় বোনাস লভ্যাংশ দিতে চান। এবার প্রধানমন্ত্রী যে প্রণোদনা দিয়েছেন তাতে এসব বন্ধ হবে। এই প্রণোদনা পুঁজিবাজারের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। সব মিলিয়ে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা যায়।

প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছিল, কোনো কোম্পানি বোনাস লভ্যাংশ দিলে ওই লভ্যাংশের ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর প্রদান করতে হবে। চুড়ান্ত বাজেটে এখানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবনায় কোনো কোম্পানি যদি নগদের থেকে বেশি বোনাস লভ্যাংশ দেয় তাহলে ঘোষিত লভ্যাংশের ওপর ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। পাশাপাশি কোনো প্রতিষ্ঠান যদি নগদ লভ্যাংশ না দিয়ে শুধু বোনাস লভ্যাংশ দেয় তা হলেও ওই কোম্পানিকে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদান করতে হবে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এতে বিনিয়োগকারীরা তাদের প্রত্যাশিত প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান উৎসাহিত করতে স্টক ডিভিডেন্ডের ওপর ১০ শতাংশ করারোপ করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ জুন) বাজেটের ওপর আলোচনায় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘শেয়ারবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ আমাদের ভাবতে হবে। কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীও নগদ লভ্যাংশ প্রত্যাশা করে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমি প্রস্তাব করছি যে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি যে পরিমাণ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করবে, কমপক্ষে তার সমপরিমাণ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করতে হবে। যদি কোম্পানির ঘোষিত স্টক লভ্যাংশের পরিমাণ নগদ লভ্যাংশের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে স্টক লভ্যাংশের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।’

এদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির নির্দিষ্ট বছরের মুনাফার ৭০ শতাংশের বেশি রিটেইন আর্নিংস, রিজার্ভ বা সারপ্লাস হিসাবে রাখলে তার ওপর ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। অর্থাৎ ৭০ শতাংশের বেশি রিজার্ভে রাখার ক্ষেত্রে, পুরো অংশের ওপরে ১০ শতাংশ কর দিতে হবে।

এছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো থেকে প্রাপ্ত ডিভিডেন্ড আয়ের করমুক্ত সীমা দ্বিগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ বিনিয়োগকারী তথা সামগ্রিক পুঁজিবাজার উন্নয়নে এই করমুক্ত আয়ের সীমা ২৫ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর দ্বৈতকর প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বাজেট আলোচনায় সমাপনী টানতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে যোগ দিলেও অসুস্থতার কারনে তার অনুরোধে অর্থ বিল ২০১৯ সংসদে উপস্থাপন করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আমাদের প্রত্যাশা থাকবে জনকল্যাণে ঘোষিত বাজেটে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি, উন্নযন, অগ্রযাত্রার রোডম্যাপ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হবে। তা হলেই বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশিত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। তাছাড়া আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজেও গত দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা কালে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে সফলতা অর্জন করেছেন। এ কারণে আজ বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূতি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য মেয়ে প্রধানমন্ত্রীর যে অভিপ্রায় বা স্বপ্ন, তা পূর্ণ হবে। এ জন্য আমাদের নৈতিক দায়িত্ব হবে, যে যার অবস্থান থেকে প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া।

আরও পড়ুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আরো খবর »

আমরা পুঁজিবাজারকে সুশাসন দেব: অর্থমন্ত্রী

*

ক্ষমা চাইলেন গোলাম রাব্বানী

*

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে কেউ ছাড় পাবে না: সেতুমন্ত্রী

*