34.2 C
Dhaka
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
Latest BD News – Corporate Sangbad | Online Bangla NewsPaper BD
আইন-আদালত শিরোনাম শীর্ষ সংবাদ

সিরাজসহ ১৬ জনের প্রাণদণ্ড চেয়ে চার্জশিট দাখিল

রাফি

ডেস্ক রির্পোট: ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে নিপীড়নের পর পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাসহ ১৬ জনের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রাণদণ্ডের সুপারিশ করে মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেয়া হয়েছে। আজ বুধবার (২৯ মে) দুপুর ২টার দিকে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে চার্জশিটটি জমা দেয়া হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্তাকর্তা শাহ আলম এই চার্জশিট জমা দেন। ঘটনার এক মাস ২১ দিনের মাথায় মামলাটির চার্জশিট দেয়া হল। চার্জশিটে ১৬ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বুধবার যে চার্জশিট জমা দেয়া হতে পারে সেটি মঙ্গলবারই জানানো হয়েছিল। ধানমণ্ডিতে পিবিআই সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার জানান, ৭২২ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। তিনি হত্যাকাণ্ডের সময় জেলে থাকলেও তার নির্দেশনায়ই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

বাকি আসামিরা হলেন- সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন (৫৫), সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ আলম (৫০), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন (১৯), হাফেজ আবদুল কাদের (২৫), আফছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মণি (১৯), উম্মে সুলতানা পপি (১৯), আবদুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন মামুন (২২), মোহাম্মদ শমীম (২০) ও মহিউদ্দিন শাকিল (২০)।

পিবিআইপ্রধান জানান, নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার মিশনে সরাসরি অংশ নেন পাঁচজন।

এছাড়া এ হত্যার ঘটনায় বিভিন্নভাবে যারা জড়িত, তাদের আসামি করা হয়েছে। আমরা আশাবাদী আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে। অভিযোগপত্রেও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, চার্জশিটে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে আসামি করা হচ্ছে নুসরাতকে হত্যার ‘হুকুমদাতা’ হিসেবে। তার নাম থাকছে আসামির তালিকার ১ নম্বরে।

এ ছাড়া ওই মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহসভাপতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমীন এবং সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ আলম ওই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা নেয়া এবং তা বাস্তবায়নে অর্থসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন বলে উল্লেখ থাকছে অভিযোগপত্রে।

এতে বলা হয়েছে, তদন্তে ১৬ আসামির বিরুদ্ধে নুসরাত জাহান রাফিকে অগ্নিদগ্ধ করে হত্যা করা এবং হত্যার পরিকল্পনায় অংশগ্রহণ ও হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করার অপরাধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৪(১) ও ৩০ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

বনজ কুমার মজুমদার জানান, ২৬ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানি করেন।

রাফি এর প্রতিবাদ করেন এবং এ বিষয়ে রাফির মা শিরীন আক্তার মামলা করলে পুলিশ অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।

ওই মামলা প্রত্যাহার করার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছিল নুসরাত ও তার পরিবারকে। কিন্তু মামলা তুলে না নেয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার একটি ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে রাফির গায়ে আগুন দেয় বোরকা পরা কয়েকজন। আগুনে শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়া রাফি ১০ এপ্রিল রাতে হাসপাতালে মারা যান। তিনি বলেন, রাফির গায়ে আগুন দেয়ার পর ৮ এপ্রিল তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান অধ্যক্ষ সিরাজকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

রাফির মৃত্যুর পর তা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আর দেশজুড়ে বিক্ষোভ-প্রতিবাদের মধ্যে মামলার তদন্তভার থানা পুলিশ থেকে দেয়া হয় পিবিআইয়ের হাতে।

আরও পড়ুন:
হাইকোর্টে অবকাশকালীন বেঞ্চ গঠন
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে হাইকোর্টে তলব

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আরো খবর »

আমরা পুঁজিবাজারকে সুশাসন দেব: অর্থমন্ত্রী

*

ক্ষমা চাইলেন গোলাম রাব্বানী

*

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে কেউ ছাড় পাবে না: সেতুমন্ত্রী

*