28.9 C
Dhaka
মে ১২, ২০২১
Corporate Sangbad | Online Bangla NewsPaper BD
আর্কাইভ ধর্ম ও জীবন

প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদতের মাস ‘মাহে রমজান’

মাহে রমজান

আল্লাহর শোকর! আমরা এমন একটি মাস অতিবাহিত করছি, যার প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদতে গণ্য। রোজাদারের নি:শ্বাস ছাড়াও ইবাদত। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ যথাক্রমে কালেমা, নামাজ, রোযা, হজ, যাকাত প্রভৃতি যেমন আল্লাহর ফরজ ইবাদত, মাহে রমযানে আল্লাহর নিয়ামত উপভোগ করে শুকরিয়া আদায় করাও অনুরূপ ইবাদত।

এটি এমন একটি মাস যে মাসে নিরবচ্ছিন্নভাবে ইবাদত করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কু-প্রবৃত্তি মানুষকে আল্লাহর ইবাদত করা থেকে সর্বদা বিরত রাখতে চেষ্টা করে। ইবাদত হলো নামাজ-রোজা ইত্যাদির সঙ্গে যুগপৎ সৎকাজ করা। ‘ইবাদত’ শব্দটি আরবি ‘আবদ’ থেকে উদ্ভূত; এর অর্থ হলো দাস ও গোলাম। অর্থাৎ আল্লাহর দাসত্ব বা আনুগত্য করা এবং তার কাছে আত্মসমর্পণ করা। আরও সুস্পষ্ট করে বলতে গেলে, তিনি যা করতে বলেছেন তা করা এবং যা করতে নিষেধ করেছেন তা না করাই হলো ইবাদত।

তাই সিয়াম সাধনার মাধ্যমে কু-প্রবৃত্তিগুলো দমন করে আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার ও ইবাদত-বন্দেগি সম্পন্ন করতে সচেষ্ট হতে হবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘আমি জিন ও মানুষকে আমারই ইবাদত করবে এ জন্য সৃষ্টি করেছি।’ (জারিআত, আয়াত: ৫৬)। রমযান মাসে রোযা রাখাই ইবাদত, কারণ তা আল্লাহর হুকুম। হাদিস শরিফে রোযাকে ইবাদতের দরজা বলা হয়েছে। রমযান মাসে ইবাদত-বন্দেগির গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে প্রিয়নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘হে লোক সকল! তোমাদের ওপর একটি মর্যাদাপূর্ণ মাস ছায়া বিস্তার করেছে। এ পবিত্র মাসের একটি রাত বরকত ও ফজিলতের দিক থেকে হাজার মাস থেকেও উত্তম।

এ মাসের রোযাকে আল্লাহ তাআলা ফরজ করেছেন এবং এর রাতগুলোয় আল্লাহর সম্মুখে দাড়াঁনোকে নফল ইবাদত রূপে নির্দিষ্ট করেছেন। যে ব্যক্তি রমযানের রাতে ফরজ ইবাদত ছাড়া সুন্নত বা নফল ইবাদত করবে, তাকে এর বিনিময়ে অন্যান্য সময়ের ফরজ ইবাদতের সমান সওয়াব প্রদান করা হবে। আর যে ব্যক্তি এ মাসে কোনো ফরজ আদায় করবে, সে অন্যান্য সময়ের ৭০টি ফরজ ইবাদতের সমান পুণ্য লাভ করবে।’ (বায়হাকি)। নবী করিম (সা.) মাহে রমযানে দিনে রোযা রাখতেন আর রাতে দীর্ঘক্ষণ ইবাদত-বন্দেগি করতেন। অবস্থাসম্পন্নদের জন্যে রমযান মাসে পবিত্র ওমরা পালন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। রমযানের ওমরা আদায়ে জিয়ারতে হজের মতো সওয়াব হাসিল হয়। এ জন্য মুসলমান রোযাদারেরা রমজান মাসে অনেক কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে ওমরা পালন করতে পারেন। হাবীবে খোদা (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছ থেকে মানুষের আমল বা কাজ সাত রকমের।

দুই রকমের কাজ এমন যে তার ফল কাজের সমান। আর এক রকমের কাজের ১০ গুণ সওয়াব রয়েছে। এ রকমের কাজের সওয়াব ৭০০ গুণ। আরেক রকমের কাজের সওয়াব আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। প্রথম দুটি হলো: যে ব্যক্তি একাগ্রচিত্তে আল্লাহর ইবাদত করে, কাউকে তার সঙ্গে শরিক করে না এবং এ অবস্থায় আল্লাহর কাছে উপস্থিত হয়, তার জন্য জান্নাত অনিবার্য। আর যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজ করার ইচ্ছা করে কিন্তু কাজটা করে না, সে ওই কাজ করার এক গুণ সওয়াব পায়।

আর যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজ করে, সে তার কাজের ৭০০ গুণ পর্যন্ত সওয়াব পায়। আর রোজা আল্লাহর জন্য হয়ে থাকে। এর সওয়াবের পরিমাণ আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না।’ (বায়হাকি)। মাহে রমজানে ইবাদত-বন্দেগিতে মানুষ এত অধিক মশগুল হয়ে পড়েন যে, সব ধরনের পানাহার ও ভোগ-বিলাসিতা পরিত্যাগ করে রোযাদার ব্যক্তি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল ও দোয়া-ইস্তেগফার করে থাকেন।

এতদ্ব্যতীত নফল নামাজ আদায়, ইফতারের পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম শেষে মসজিদে দীর্ঘ জামাতের সঙ্গে খতমে তারাবিহ নামাজ আদায় এবং শেষ রাতে নিদ্রা ত্যাগ করে সেহেরি খাওয়া, তাহাজ্জুদ নামাজ ও ফজরের নামাজ আদায় করেন। যেমন রমযান মাসে দান-সাদকা প্রদানের ক্ষেত্রেও মানুষের মনে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। ফলে মাহে রমজানে ইবাদত-বন্দেগিতে নবপ্রেরণার উদ্রেক ঘটে নিঃসন্দেহে।


আরো খবর »

বায়তুল মুকাররমে ঈদের ৫টি জামাত

উজ্জ্বল

সৌদিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর বৃহস্পতিবার

Tanvina

করোনায় আরও ৩৩ জনের মৃত্যু

উজ্জ্বল