ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে রাজধানীর প্রবেশমুখ গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকেই কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশসহ ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে চলমান শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবেন।
আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রীয় সম্পদ, মানুষের জানমালের যেন ক্ষতি না হয় সে লক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে। ইতোমধ্যে বিজিবি সদস্যরা মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। এ ছাড়া অনন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে শ্রমিকদের দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। অন্যদিকে পরিস্থিতি শান্ত করতে ও মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে আলোচনা চলছে। আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করা বন্ধ এবং শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা। এ ছাড়া বিভিন্ন অজুহাতে কারখানা কর্তৃপক্ষের ইচ্ছেমতো শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদেও তারা আন্দোলন করছেন।
এর আগে গতকাল রোববার সাভারের আশুলিয়া ও ঢাকার মিরপুরে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে আশুলিয়ার অন্তত ৫০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সেদিন সকাল থেকে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও মিরপুর-১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। এতে ওই এলাকার যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা গত কয়েকদিন যাবৎ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশ বক্স, কারখানা গুদাম ও একটি গাড়িতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।
এতে আহত হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও শ্রমিক। হামলা হয়েছে সাংবাদিকের ওপরও। আটকরা হয়েছেন বেশ কয়েকজন। আন্দোলনের কারণে প্রায় ৩০০ কারখানা সাময়িক ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।