Corporate Sangbad
শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি

এইচএসসিতে ১ বা ২ বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ১ মাসের মধ্যে পরীক্ষার সুযোগ

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ন ·

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য এক বছর অপেক্ষার ভোগান্তি কমাতে বড় ধরনের বিশেষ সুযোগ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব শিক্ষার্থীকে এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে আগামী এক মাসের মধ্যে শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় এই বিশেষ সুযোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, "সাধারণত এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে তাকে পরবর্তী বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। পরের বছরের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে পরীক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি চাইলে সব বিষয়েও অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে। তবে এক বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে একজন শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। এতে তার শিক্ষাজীবনের স্বাভাবিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মানসিক চাপও তৈরি হয়।"

তিনি আরও জানান, এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় শুধুমাত্র এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের জন্যই এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে শনিবার সকাল ১১টায় চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। আর দেশজুড়ে মোট জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।

এ বছর ঢাকা বোর্ডে পাশের হার ৬১.৮৩ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৪৪.৮৪ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৪৫.৯৮ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৪৮.০৪, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫২.০৭ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৪৫.০৬ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৫০.৯০ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৪৪.৯২ শতাংশ, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫১.৪৪ শতাংশ, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ৬১. ০৭ শতাংশ এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৪৯. ৪৩ শতাংশ।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এই আকস্মিক ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি তাদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করবে।

এর আগে, সারা দেশে একযোগে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। ৮ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করে পরে গ্রহণ করা হয়। ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এ বছর ১১টি বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। এবার ছাত্রদের চেয়ে ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।

এ বছর দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৯ বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন অংশ নেন।

এদিকে, আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে আগামী ১ নভেম্বর থেকে। শিক্ষার্থীরা অনলাইন পদ্ধতিতে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত দিকনির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।