Corporate Sangbad
সারাদেশ

নরসুন্দরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, ঘাতককে পুলিশে দিল জনতা

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ন · ময়মনসিংহ ব্যুরো

ময়মনসিংহের ভালুকায় পূর্ববিরোধের জেরে সেলুন ব্যবসায়ী (নরসুন্দর) রবীন্দ্র ঋষিকে (৪৩) উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যার পর দক্ষিণ হবিরবাড়ী এলাকার এনপলি কারখানার সামনের একটি লিচুবাগানে হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনকে (২২) ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া মোড় এলাকার নোমান কম্পোজিট মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত সাদ্দামকে রাত ৮টার দিকে দক্ষিণ হবিরবাড়ী এলাকার এনপলি কারখানার সামনের একটি লিচুবাগানে ঘোরাফেরা করতে দেখে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

নিহত রবীন্দ্র ঋষি ময়মনসিংহ জেলার সীমান্তবর্তী ধোবাউড়া উপজেলার উত্তরপাড়া এলাকার রঞ্জিত ঋষির ছেলে। তিনি ভালুকার জামিরদিয়া তরিফ মুন্সী মোড় এলাকায় কাশেম মিয়ার বাসায় ভাড়া থাকতেন এবং সেখানে সেলুনের ব্যবসা করতেন। আর অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন একই এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের সেলুনে ছিলেন রবীন্দ্র। এ সময় সেখানে গিয়ে তার ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান সাদ্দাম। প্রাণ বাঁচাতে সেলুন থেকে বেরিয়ে সাদ্দামের বাবার দোকানে আশ্রয় নেন রবীন্দ্র। সেখানেও তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে গেলে সেখানেও তার পিছু নেন হামলাকারী। একপর্যায়ে বাড়িটির উঠানে তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করা হয়। পরে  অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সাদ্দামের বিরুদ্ধে রবীন্দ্র ঋষির নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে উত্ত্যক্ত করা ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে প্রায় তিন মাস আগে স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়েছিল। তাদের ধারণা, ওই বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

নিহতের স্ত্রী সূচিত্রা বলেন, সাদ্দাম নেশার জন্য প্রায়ই তার স্বামীর কাছ থেকে টাকা নিতেন। সেলুনে চুল কাটানোর পর টাকা না দেওয়ার ঘটনাও ঘটত। সম্প্রতি বকেয়া টাকা পরিশোধ না করা এবং সাদ্দামকে আর চুল কাটতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের বিরোধ বাড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলামও বলেন, পুরোনো বিরোধ, মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে সালিশ এবং টাকা-পয়সা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। কিছুদিন আগেও রবীন্দ্রকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত সাদ্দামকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।