Corporate Sangbad
শেয়ারবাজার

ডিএসইর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ তালিকা থেকে মুক্ত ডোরিন পাওয়ার

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ন ·

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘গোয়িং কনসার্ন’ বা ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির তালিকা থেকে অবশেষে মুক্তি পেয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি ডোরিন পাওয়ার জেনারেটিং অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেড।

সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটির ব্যবসার স্থায়িত্ব বা অস্তিত্ব নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করেননি নিরীক্ষক। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে কোনো ধরনের শর্তযুক্ত মতামত (কোয়ালিফাইড ওপিনিয়ন) দেওয়া হয়নি। এর প্রেক্ষিতেই ডিএসই তাদের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকা থেকে ডোরিন পাওয়ারের নাম সরিয়ে নিয়েছে।

যে কারণে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় ছিল ডোরিন পাওয়ার
২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ‘ম্যাটেরিয়াল আনসার্টেনটি রিলেটেড টু গোয়িং কনসার্ন’ শীর্ষক একটি অনুচ্ছেদ ছিল। এর প্রেক্ষিতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (মার্জিন) বিধিমালা অনুযায়ী ডিএসই কোম্পানিটিকে নন-মার্জিনেবল সিকিউরিটিজ এবং গোয়িং কনসার্ন ঝুঁকিসম্পন্ন কোম্পানির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

মূলত বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে ডোরিন পাওয়ারের ৬৬ মেগাওয়াট সক্ষমতার তিনটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) মেয়াদ শেষ হওয়াকে কেন্দ্র করে মূল কোম্পানির (একক) আর্থিক বিবরণীতে ওই পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান হুদা ভাসি চৌধুরী অ্যান্ড কোং।

তবে গ্রুপের তিনটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান (সাবসিডিয়ারি) দীর্ঘমেয়াদি (২০৩১ ও ২০৩৭ সাল পর্যন্ত) চুক্তির আওতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখায় গ্রুপ পর্যায়ে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনিশ্চয়তা ছিল না। ডোরিন পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ডিএসই ও বিএসইসির কাছে আবেদন জানালেও তাৎক্ষণিকভাবে সুরাহা মেলেনি। দীর্ঘ দিন ‘এ’ ক্যাটাগরিতে থাকা একটি কোম্পানিকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখায় সে সময় বাজারসংশ্লিষ্টদের মাঝে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছিল। এবার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চূড়ান্ত নিরীক্ষায় কোনো ঝুঁকি না থাকায় এ বিতর্কের অবসান ঘটলো।

আর্থিক সূচকে জোরদার প্রবৃদ্ধি: মুনাফা বেড়েছে ৫৮%
ঝুঁকিপূর্ণ তালিকা থেকে মুক্তির পাশাপাশি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডোরিন পাওয়ারের সবকটি আর্থিক সূচকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে:

শেয়ারপ্রতি আয় (EPS): সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৫.০৩ টাকা, যা আগের অর্থবছরে (২০২৪-২৫) ছিল ৩.১৯ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ইপিএস বেড়েছে প্রায় ৫৭.৬ শতাংশ বা ৫৮%।

শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (NOCFPS): আলোচ্য সময়ে এনওসিএফপিএস দাঁড়িয়েছে ১৮.৯৬ টাকা, যা আগের বছর ছিল ১১.৭৮ টাকা। এতে নগদ প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬১ শতাংশ।

শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (NAV): ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭.১২ টাকা, যা আগের বছরে ছিল ৫২.৪৫ টাকা।

১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা
উত্তম আর্থিক পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার সুপারিশ করেছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। অর্থাৎ ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতি শেয়ারের বিপরীতে শেয়ারহোল্ডাররা ১.৫০ টাকা করে লভ্যাংশ পাবেন। আগের অর্থবছরে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল।

এজিএমের তারিখ:

ডোরিন পাওয়ারের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৪ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশ করা লভ্যাংশসহ প্রাসঙ্গিক বিষয় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

এক নজরে ডোরিন পাওয়ার:

২০১৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ডোরিন পাওয়ারের পরিশোধিত মূলধন ১৮১ কোটি ১১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট ১৮ কোটি ১১ লাখ ১৮ হাজার ৯০১টি শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৬৬.৬১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৬.৯০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৬.৪৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। তালিকাভুক্তির পর থেকে কোম্পানিটির শেয়ার ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হচ্ছে।