তুরস্কের ফেজ হোল্ডিংয়ের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান বেকোর সহযোগী কোম্পানি সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল ঘোষণা করেছে।
২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখে কোম্পানি ৪.৪ বিলিয়ন টাকা রাজস্ব অর্জন করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের ৪.১ বিলিয়ন টাকার তুলনায় ৬.৫৪ শতাংশ বেশি। তবে ভোক্তন ইলেকট্রনিকস বাজারে স্থবিরতার কারণে বিক্রয় প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি।
প্রান্তিকটিতে কোম্পানির মোট মুনাফার হার সামান্য বেড়েছে। তবে ক্রেতাদের মূল্যসংবেদনশীলতার কারণে বিক্রয় ব্যয় বৃদ্ধির পুরোটা পণ্যের দামে সমন্বয় করা সম্ভন হয়নি। আগের প্রান্তিকের তুলনায় পরিচালন মুনাফা প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। কোম্পানির কর-পূর্ব লোকসান দাঁড়িয়েছে ৭০৯.৪ মিলিয়ন টাকা, যেখানে গত বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ৪২৮.৯ মিলিয়ন টাকা। লোকসানের প্রধান কারণ ছিল ২,০৪৮.৮ মিলিয়ন টাকার নিট সুদ বাবদ ব্যয়।
দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ, স্থানীয় সরবরাহব্যবস্থা সুদৃঢ় করা, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কোম্পানি ২০২২ সাল বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোনে একটি অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপনে বিনিয়োগ শুরু করে। ১ লাখ ৩৫ হাজার বর্গমিটারের বেশি এলাকাজুড়ে স্থাপিত এ কারখানার মাধ্যমে কোম্পানির ৯০ শতাংশের বেশি পণ্য স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নকালে স্থানীয় মুদ্রার উল্লেখযোগ্য অবমূল্যায়নের কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ইউরোপের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে প্রভাবিত করেছে। অর্থনীতি এখনো এসব প্রভাব পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এসব অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত আর্থিক সুফল পেতে সাময়িক বিলম্ব হলেও কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায়
কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতে পরিচালনা পর্ষদ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এর অনুমোদন সাপেক্ষে প্রতিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সর্বোচ্চ ২৫০ মিলিয়ন প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২,৫০০ মিলিয়ন টাকা সংগ্রহের সুপারিশ করেছে। এসব শেয়ার প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে কেবল উদ্যোজন শেয়ারহোল্ডারের কাছে ইস্যু করা হবে। সংগৃহীত অর্থ বিদ্যমান ঋণ পুরঅর্থায়ন, ঋণভার হ্রাস এবং চলতি মূলধনের চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হবে।
উল্লিখিত উদ্যোগসমূষ দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে সিঙ্গার বাংলাদেশের অঙ্গীকারকে আরও সুসংহত করবে। স্থানীয় উৎপাদন সম্প্রসারণ, রপ্তানি বাজারের উন্নয়ন, পণ্যের উদ্ভাবন এবং গ্রাহক সন্তুষ্টি আরও সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে কোম্পানি প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
মাল্টি ব্র্যান্ড কৌশল এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের ভিত্তিতে সিঙ্গার বাংলাদেশ গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখতে বদ্ধপরিকর।