Corporate Sangbad
অর্থ-বাণিজ্য

এলপিজি নিয়ে জনগণকে জিম্মির চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৫ অপরাহ্ন ·

এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) নিয়ে বাজারে কারসাজি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা ধর্মঘটের মাধ্যমে জনগণকে জিম্মি করার চেষ্টা করা হলে সরকার তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে বলে সতর্ক করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, "এলপিজি একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। এর সঙ্গে দেশের লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা জড়িত। এ পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত করে জনস্বার্থবিরোধী পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

বৈঠকে বিশ্বব্যাপী চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশের বাজারে এলপিজির সরবরাহ ও মূল্য সহনীয় রাখতে সরকার সচেষ্ট। এ নিয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে এটি সরকারের তৃতীয় বৈঠক। আগামী ২০ অক্টোবর আবারও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে সরবরাহ ও মূল্যের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার কৌশল নির্ধারণ করা হবে।

ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার এলপিজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে এবং তাদের সরকারের অবস্থান জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এলপিজি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হওয়ায় এটির সরবরাহ নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজি করা, জনগণকে জিম্মি করা কিংবা ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি দিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হলে সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ডিলার ও বিক্রেতাদের সাম্প্রতিক ধর্মঘটের হুমকির বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত ফর্মুলা অনুযায়ী প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "ব্যবসায়ীদের কোনো যৌক্তিক দাবি বা সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। কিন্তু অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন, ১৯৫৬ অনুযায়ী এলপিজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানো, বাজার প্রভাবিত করা বা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কোনো স্বার্থান্বেষী মহলকে জনস্বার্থবিরোধী কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হবে না।"

সরকার ও এলপিজি অপারেটরদের মধ্যকার আলোচনার মাধ্যমে বাজারে সম্ভাব্য সংকট নিরসন এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।