সিরাজগঞ্জ জেলার সব উপজেলার ১৫৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নবম ও দশম শ্রেণির ৮৫২ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও সম্মাননা সনদ দিয়েছে খাজা মোজাম্মেল হক (রহ.) ফাউন্ডেশন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে বেলকুচি উপজেলার সোহাগপুর নতুন পাড়া আলহাজ্ব সিদ্দিক উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও প্রধান অতিথি খাজা টিপু সুলতান শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তি ও সম্মাননা সনদ তুলে দেন।
সিরাজগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার (ভারপ্রাপ্ত) গনপতি রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরিন জাহান, বেলকুচি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. শহিদুল হাসান, সিরাজগঞ্জ জেলার শিক্ষা অফিসার খন্দকার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জ মোক্তারুজ্জামান।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সোহাগপুর নতুন পাড়া আলহাজ্ব সিদ্দিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম সরকার (সোহেল)। স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মেহেদী মাসুদ।
অনুষ্ঠানে জেলার শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, আমন্ত্রিত অতিথি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাজা টিপু সুলতান ফাউন্ডেশনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সবাইকে ভালো মানুষ হয়ে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি সত্য কথা বলা, প্রতারণা না করা, অন্যের বৈধ অধিকারকে নিজের স্বার্থের চেয়ে প্রাধান্য দেওয়া এবং আত্মশুদ্ধি অর্জনের কথা বলেন।
ফাউন্ডেশনের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের প্রধান সমন্বয়কারী আরমান খানের উপস্থাপনায় মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান মেধায় মাতি অনুষ্ঠিত হয়। এটি অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল।
ফাউন্ডেশনের বৃহত্তর উত্তর অঞ্চলের প্রধান সমন্বয়কারী ছায়েদুল ইসলাম ভুঞা রোমেলের সার্বিক সমন্বয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ সোহেল হোসেন ইবনে বতুতা, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রধান সমন্বয়কারী মো. শাহজাহান, বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলের প্রধান সমন্বয়কারী মেজবাউল আলম রিপন এবং উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মো. শামছুল আলমসহ অন্যান্য উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যরা।
ফাউন্ডেশনটি ২০০১ সাল থেকে দেশজুড়ে বৃত্তি প্রদান কার্যক্রমের পাশাপাশি আরও দুটি মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ঢাকার শ্যামলীবাগ, শ্যামলী এবং শ্রীমঙ্গলের জান্নাতুল ফেরদৌস কমপ্লেক্সে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসাপত্র প্রদান কেন্দ্রের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া শুধু খাজা শাহ ইউনুছ আলী এনায়েতপুরী (রহ.)-এর নেছবতভুক্ত অসচ্ছল কর্মক্ষম ভক্তদের মধ্যে ছাদকা-ই-জারিয়া হিসেবে এককালীন মূলধন প্রদান করা হয়ে থাকে।