Corporate Sangbad
আইন-আদালত

আদালতের নির্দেশে সেলিম খান ও শান্ত খানের মরদেহ উত্তোলন

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন ·

আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণপিটুনিতে নিহত চাঁদপুরের আলোচিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তার ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে প্রথমে সেলিম খানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। এরপর তার ছেলে শান্ত খানের মরদেহও উত্তোলন করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য সেগুলো চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর ময়নাতদন্তের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

সেলিম খান চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান ‘শাপলা মিডিয়া’র স্বত্বাধিকারী ছিলেন। তার ছেলে শান্ত খান চলচ্চিত্রে অভিনয় করতেন।

সেলিম খানের বিরুদ্ধে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাজস্ব ফাঁকিসহ একাধিক মামলা থাকার কথাও জানা যায়।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সন্ধ্যায় এলাকা ছাড়ার সময় সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খান একটি গাড়িতে ছিলেন। চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ফরক্কাবাদ বাজার এলাকায় বিক্ষোভের মুখে পড়ার পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও পরে বাগড়া বাজার এলাকায় তাদের গাড়ি আটকে যায়। সেখানে গণপিটুনিতে তারা নিহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের মরদেহ উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই পরিস্থিতিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছিল। পরে লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

ঘটনার সময় থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানা যায়। পরে এই মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করে।