Corporate Sangbad
সারাদেশ

পানিতে ভাসমান ড্রামের ভেতর থেকে লাশ উদ্ধারের রহস্য উদ্‌ঘাটন, গ্রেপ্তার ১

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ন · ময়মনসিংহ ব্যুরো

ময়মনসিংহের বেগুনবাড়ি স্লুইসগেট এলাকায় খাল থেকে ড্রামে বস্তাবন্দি নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর (৫০)এর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার পর হত্যা রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় প্রধান আসামি শামীম মিয়াকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পিবিআই জানায়, ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জের ধরে স্বর্ণের কারিগর ও অটোরিকশার মালিক নিরঞ্জন ধরকে হত্যা করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। গ্রেফতার শামীম মিয়া (৩৮) নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার কৃষ্টপুর এলাকার জালাল মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ সদর থানার বেগুনবাড়ি স্লুইসগেট এলাকায় খাল থেকে একটি ড্রামের ভেতর বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি নিরঞ্জন ধরের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সবিতা রানী ধর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, নিহত নিরঞ্জন ধর পেশায় স্বর্ণের কারিগর ছিলেন। পাশাপাশি তার চারটি অটোরিকশা ছিল। এসব অটোরিকশা ময়মনসিংহের খাগডহর এলাকার সততা গ্যারেজে রাখা হতো। ওই গ্যারেজের ম্যানেজার ছিলেন শামীম মিয়া। প্রায় দুই বছর ধরে নিরঞ্জনের সঙ্গে শামীমের পরিচয় ছিল। অটোরিকশা গ্যারেজে রাখার সুবাদে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে শামীমের বাসায় নারীদের নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কোন এক সময় শামীমের একটি আপত্তিকর ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন নিরঞ্জন। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে শামীমের কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা আদায় করেন তিনি। পরিবারের কাছে ভিডিওটি প্রকাশের হুমকি দিয়ে আরও টাকা দাবি করতেন নিরঞ্জন।

তিনি আরও বলেন, পারিবারিক ব্যয় ও ঋণের চাপে থাকা শামীম এভাবে টাকা দিতে দিতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর নিরঞ্জন আবারও শামীমের ভাড়া বাসায় গিয়ে টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে দু'জনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হলে শামীম ঘরে থাকা শিল দিয়ে নিরঞ্জনের মাথায় আঘাত করেন। পরে তার মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে বঁটি দিয়ে মাথার স্পর্শকাতর স্থানে একাধিক আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই নিরঞ্জনের মৃত্যু হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, হত্যার পর মরদেহটি চটের বস্তায় ভরে দুই পাশে বেঁধে একটি বড় নীল রঙের চালের ড্রামের মধ্যে রাখেন শামীম। পরে মরদেহ গুমের পরিকল্পনা করেন তিনি। বাসার মালামাল সরানোর কথা বলে ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর ইজিবাইকচালক হানিফ মিয়াকে ডেকে আনেন। রাত ৮টার দিকে ড্রামটি ইজিবাইকে তুলে বেগুনবাড়ী স্লুইসগেট এলাকায় নিয়ে গিয়ে খালে ফেলে দেওয়া হয়।

মিজানুর রহমান বলেন, গ্রেফতার হওয়ার পর শামীম এই হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার দেখানো মতে ভাড়া বাসা থেকে হত্যায় ব্যবহৃত শিল ও বঁটি উদ্ধার করা হয়। তাকে আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের প্রক্রিয়া চলছে।