Corporate Sangbad
জাতীয়

সরকারের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: মাহদী আমিন

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ন ·

সরকারের নাম ভাঙিয়ে কেউ কোনো অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তৎপর রয়েছে। কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না এবং আইন নিজস্ব গতিতে চলবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

রাজধানীর মিরপুরে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে সাম্প্রতিক হামলা-ভাঙচুর প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নাম বা সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে কেউ পার পাবে না। মিরপুরের ঘটনায় ইতোমধ্যেই ৯ জনকে দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও জানান, যেকোনো অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শুরু থেকেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের মুখোমুখি করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

দেশের শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মাহদী আমিন বলেন, দুষ্কৃতকারীরা যেকোনো পরিচয় ব্যবহারের চেষ্টা করুক না কেন, তাদের অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে।

বোয়িং কেনার চুক্তি প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ড. মাহদী আমিন বলেন, এটি কোনো পক্ষের ওপর চাপিয়ে দেয়ার বিষয় নয়। দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, বোয়িংয়ের কাছ থেকে এ সিদ্ধান্ত বেশ আগে থেকেই নেয়া হয়েছিল। এ সংক্রান্ত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। তবে দুই পক্ষ এবং দুই দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং চুক্তি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকার ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক সিভিল নিউক্লিয়ার কোঅপারেশন নিয়েও একটি মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, এ সফর শুধু যুক্তরাষ্ট্র কিংবা জাতিসংঘকেন্দ্রিক ছিল না। প্রধানমন্ত্রী ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। এসব আলোচনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থ ও জনকল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট এবং অর্থনৈতিক সংকট সমাধানের বিষয়েও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেছেন, তাদের সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে কার্যকরভাবে একসঙ্গে কাজ করে এসব সমস্যার সমাধান করা যায় কীভাবে, তা নিয়েও কথা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, বিশ্বের যেসব দেশ ও সংগঠন মানবাধিকার এবং বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিয়ে কাজ করে, তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তারা বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, খুব স্বল্পকালীন এ সফরে বহু বছর পর বাংলাদেশ থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন সরকারপ্রধান দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সফরে প্রধানমন্ত্রী যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছেন, সেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এসব বিষয় ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ সফরে শুধু বাংলাদেশের কথাই বলেননি, বিশ্ব শান্তির কথাও বলেছেন। ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন। এটি শুধু বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেয়ার সময় বাংলাদেশ সেখান থেকে ওয়াকআউট করেছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।