ময়মনসিংহ নগরের কৃষ্টপুর রেলওয়ে কলোনিতে মাদকবিরোধী সভায় মাদক ব্যাবসার প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত সাবেক যুবদল নেতা রাজা মিয়া (৪৫) মারা গেছেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত রাজা মিয়া ময়মনসিংহ মহানগর যুবদলের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি স্থানীয় বউ বাজারে মাছের ব্যবসা করতেন।
নিহতের পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে একদল দুর্বৃত্ত রাজা মিয়ার ঘরে ঢুকে বাঁশের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় তার মাথায় রড দিয়ে আঘাত করা হয় এবং কানে রড ঢুকিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় রাজা মিয়ার স্ত্রী জোসনা আক্তার কোতোয়ালি মডেল থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারিরা আওয়ামী লীগের ছত্রছায়া দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারি চালিয়ে আসছে। মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় রাজা মিয়ার ওপর হামলা চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি স্থানীয় কবির ও তার সহযোগীদের এলাকাতে মাদক ব্যাবসা করতে নিষেধ করেন রাজা মিয়া। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত ২২ সেপ্টেম্বর সকালে কৃষ্টপুর এলাকায় নিজ ঘরে শুয়ে থাকা অবস্থায় রাজা মিয়ার ওপর ১৫-২০ জনের একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। হামলার সময় শাবল দিয়ে রাজা মিয়ার মাথায় তীব্র আঘাত করলে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় আইসিইউ বেড খালি না থাকায় পুনরায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
রাজা মিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কবীর হোসেন (৩৫), মো. বিনু মিয়া (৪৫) ও মোঃ নিশাত (২০)।তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত ব্যক্তি মারা যাওয়ায় মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। এতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হবে। আটক তিন আসামিকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে এবং আগের অভিযোগটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।
এদিকে, ময়মনসিংহ মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের হোসেন শাকিল বলেন, রাজা মিয়া দলের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন এবং তিনি কোনোভাবেই মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। আমরা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।