Corporate Sangbad
জাতীয়

দায়িত্বে অবহেলা বা ফ্যাসিবাদীদের সহায়তা করলে কঠোর ব্যবস্থা

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ন ·

রাষ্ট্র ও জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ বাহিনীকে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া রাষ্ট্রদ্রোহের সঙ্গে জড়িত কাউকেও ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ ও সেবামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ অনুষ্ঠানে মোট ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে বিপিএম ও পিপিএম পদক প্রদান করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক ভিত্তি, জন-আকাঙ্ক্ষা এবং দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর গঠিত সরকারের ভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী। দেশবাসী একটি জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী দেখতে চায়। অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশ বাহিনীর শক্তি আগের চেয়ে বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তবে জনগণের শান্তি বিনষ্ট হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে সরকার প্রয়োজনে আরও কঠোর হতে বাধ্য হবে।

অনুষ্ঠানে কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি পুলিশের ভেতরে থাকা কেউ কেউ গোপনে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সংবাদ দিয়ে বা নানা উপায়ে সহযোগিতা করছে—এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বাহিনীকে আরও বেশি আন্তরিক ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে কিছু পুলিশ সদস্যের দায়িত্ব পালন না করা ও অবহেলার ঘটনা নজরে এসেছে। এসব ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশ সদস্যদের নিজেদের সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে। তবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্য ছাড় পাবেন না।

বিগত দিনের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি অতীতে অন্যান্য বাহিনীর মতো পুলিশ বাহিনীকেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপব্যবহার করেছে। পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং অনেকে অবৈধ নির্দেশ মানতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমান সরকার আর এই সংস্কৃতি দেখতে চায় না। তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে আইজিপি পর্যন্ত সবার কাছে সরকারের একটাই পরিষ্কার বার্তা—সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পুলিশকে পেশাদার ও কঠোর হতে হবে।

যাঁরা অতীতে এক মাসে ১৪০০ মানুষকে হত্যা করেছে, দেশের জনগণ তাদেরকে আর কখনো ফিরে ডাকবে না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই নারকীয় ঘটনার জন্য তারা এখন পর্যন্ত বিন্দুমাত্র দুঃখ প্রকাশ করেনি। সরকার বর্তমানে তাদের আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর এবং নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম।