Corporate Sangbad
সারাদেশ

মমেকে আগুন আতঙ্কে দু'জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার এমপির

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ন · ময়মনসিংহ ব্যুরো

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আটতলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর পরিদর্শনে এসে দুর্ঘটনাস্থল না দেখেই হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এম ইকবাল হোসেইন। এ সময় ঘটনার মুখোমুখি হওয়া মানুষের সঙ্গেও কথা বলেননি তিনি।

তবে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কেউ মারা যায়নি—শুরুতে এমন দাবি করা হলেও এবার আগুনের আতঙ্কে দু'জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। তিনি দাবি করেছেন, বাকি দু'জন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পদদলিত বা অগ্নিদগ্ধ হয়ে কেউ মারা যায়নি।

এদিকে গতকাল প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জারি করা সফরসূচিতে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১০টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উপস্থিতি ও পরিদর্শনের কথা উল্লেখ ছিল। তবে প্রতিমন্ত্রীর গাড়িবহর হাসপাতালে পৌঁছায় দুপুর ১১টা ১০ মিনিটে।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক জাকিউল ইসলামসহ চিকিৎসক নেতারা প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনে পরিচালকের কক্ষে নিয়ে যান। অসুস্থতাজনিত কারণে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহা. জাকির হোসেন সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

এ সময় সদর আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, হাসপাতাল প্রশাসন এবং চিকিৎসক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতাল পরিচালকের কক্ষে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে দুপুর ১২টা ২২ মিনিটে বের হন প্রতিমন্ত্রী। নিজের গাড়িতে ওঠার সময় তিনি জানান, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে কীভাবে ম্যানেজমেন্ট ভালো করা যায়, সে সব বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

সাংবাদিকরা অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের ঘটনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে জবাব দেন সদর আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

এ সময় তিনি পদদলিত হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, পাড়া লেগে (পদদলিত হয়ে) কেউ মারা যায়নি। তারা আগুন আতঙ্কে সেন্সলেস হয়ে গিয়েছিল, তারা মারা গেছে।  অভিভাবকের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আমরা ওইদিন ক্লিয়ার করে দিয়েছি। যে নিউজটা আসছে ছয়জন মারা গেছে, এর মধ্যে এখনো একজন চিকিৎসাধীন আছে।

একপর্যায়ে সংসদ সদস্য বলেন, ছয় জনের মৃত্যুর খবর আমার মিথ্যা প্রমাণিত করেছি। যারা মারা গেছে তাদের দু'জন স্বাভাভিক মৃত্যু, দু'জন আগুন আতঙ্কে মৃত্যু। নো পদদলিত মৃত্যু। পদদলিতও না, অগ্নিদগ্ধও না।

পদদলিত হয়ে মারা গেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি হয়েছে। তারা তদন্ত করার পর যেটা বের হবে তখন প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে পারবো। দোয়া করেন যেন সবকিছু ভালো থাকে।

হাসপাতালে চারগুণ রোগীর চাপ ও বিভিন্ন মেশিন নষ্ট থাকা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটার সলিউশন একদিনে হবে না। আমরা ট্রাই করছি, ফিউচারে কী হবে এগুলো নিয়ে কথাবার্তা বলেছি। এরপর একটি বড় সভা করা হবে। ইঞ্জিনিয়ারদের বলেছি এটা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কী কী প্ল্যান করা দরকার তারা করুক, তখন বলতে পারবো। এখন আমি নিজেই জানি না, বলবো কীভাবে।

তবে নিহতদের স্বজনদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের পর আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ির মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ফুলবাড়িয়ার শাহজাহান মনির (৪৫), রমজান আলী (৩৮), তারাকান্দার কুলসুম আক্তার (৩৫) এবং নেত্রকোনার পূর্বধলার হাজেরা বেগম (৫০) রয়েছেন বলে দাবি তাঁদের।

স্বজনদের অভিযোগ, অগ্নিকাণ্ডের সময় নিরাপদে বের হওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের ১১ নম্বর লিফটে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

অগ্নিকাণ্ডের পর রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করেন। এ সময় হতাহতের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সামনে আসে। মৃত্যুর সংখ্যা ও কারণ নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিভ্রান্তি নিরসনে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।