Corporate Sangbad
শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি

বাংলা-ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে সামঞ্জস্য আনা হবে : শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২১ অপরাহ্ন ·

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যে মাধ্যমেই পড়াশোনা করুক না কেন, তাদের মৌলিক জ্ঞান, দক্ষতা ও শেখার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করা জরুরি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার রেডিসন হোটেলে অক্সফোর্ড একিউএ ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস আয়োজিত ‘স্কুল লিডারস কনফারেন্স ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, শুধু বিশ্বের সেরা শিক্ষাচর্চা অনুসরণ করাই সরকারের লক্ষ্য নয়। একদিন বাংলাদেশ থেকেই যেন বিশ্বের অন্য দেশগুলো শিক্ষা ব্যবস্থার সেরা চর্চা অনুসরণ করে, সেটিই সরকারের স্বপ্ন। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় সময়, অর্থ ও কঠোর পরিশ্রমে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষার্থী ইংরেজি মাধ্যম, বাংলা মাধ্যম কিংবা অন্য কোনো ধারায় পড়াশোনা করুক— তার মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন। ভালো ও তুলনামূলক কম ভালো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য থাকবে, তবে কারিকুলাম ও শিক্ষার মৌলিক মানে বড় ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়।

প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক বিষয়গুলোতে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয়ের সময় ও কার্যকর শিখন ঘণ্টা, শ্রেণিকক্ষের আয়তনের তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষকসহ এসব ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করা জরুরি। কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়া শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষের দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়।

প্রযুক্তি ও আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের প্রাথমিক শিক্ষায় কার্যক্রমভিত্তিক শিখন ও খেলাধুলার মাধ্যমে শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান অভিজ্ঞতা এবং লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এলএমএস) কার্যকর ব্যবহার থেকেও সরকার শিক্ষা নিতে চায়।

নতুন কারিকুলাম প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের সময় আমরা চাই না কেউ বলুক, তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। আপনাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। কারিকুলাম, অবকাঠামো, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি— এই চার ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একটি সমতাভিত্তিক অবস্থানে আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। 

অক্সফোর্ড একিউএ এর বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহীন রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন-বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন। অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা এবং ঢাকার বিভিন্ন ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।