আগামী সপ্তাহে ভারতে ১৮তম অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাতে সন্তুষ্ট নয় ঢাকা। তবে ভারতে সরকারপ্রধানের দ্বিপক্ষীয় সফর হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনারের বাইরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান হুমায়ুন কবির।
হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অনুকূল পরিবেশ হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন।
দিল্লি সফরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বহুপক্ষীয় ফোরামে অংশগ্রহণের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফরে জোর দেয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় সফর ও আলোচনার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছি। যখন পরিবেশ অনুকূল হবে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় থাকবে, তখন দ্বিপক্ষীয় সফর হবে। এখানে তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই।’
আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অংশগ্রহণের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে ওই আমন্ত্রণপত্রে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ না করে শুধুমাত্র বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়, যা ভালোভাবে নেয়নি ঢাকা।
গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়ন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জাতীয় স্বার্থ যেখানেই জড়িত, সেখানেই আমরা গুরুত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করব। আনন্দবাজার পত্রিকা যাই বলুক না কেন, আমি আমার দেশের স্বার্থ ও আনন্দের কথা ভাবব।’
বাণিজ্য ইস্যুতে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলাপ-আলোচনা চলছে। তবে এই মুহূর্তে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা নতুন আপডেট দেয়ার মতো কিছু নেই।’
রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান নিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এই ধরনের জটিল বিষয়ে তো হুট করে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়া যায় না। ধৈর্য ধরতে হবে, তবে কূটনৈতিক তৎপরতা দ্রুত গতিতে চালাতে হবে। আমরা আগামীকালই এটা সমাধান করে ফেলব—এমন দাবি হয়তো করা যাবে না, তবে আমরা আশাবাদী যে দ্রুতই একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে আমরা এগিয়ে যেতে পারব।’
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর নেতাদের পাশাপাশি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও অংশ নেবেন। ব্রিকসের ২০২৬ সালের চেয়ারম্যান ভারত। নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সম্মেলনে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর নেতাদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। ভারতের এবারের ব্রিকস সভাপতিত্বের মূল প্রতিপাদ্য, ‘স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নির্মাণ’।
সম্মেলনে অভিন্ন অগ্রাধিকারের বিষয়ে ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করবেন নেতারা।
ভারতের সভাপতিত্বে এ বছর দেশটির ২৫টির বেশি শহরে ৩৫০টিরও বেশি বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও আর্থিক এবং সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ—এই তিনটি মূল ক্ষেত্রে ব্রিকসের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্ব বাস্তবভিত্তিক ও উন্নয়নমুখী ফলাফলের দিকে সহযোগিতা এগিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি।
ভারত ব্রিকসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং এর আগে ২০১২, ২০১৬ ও ২০২১ সালে তিনবার জোটটির সভাপতিত্ব করেছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি দেশটি চতুর্থবারের মতো ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব নেয়। এ বছর ব্রিকস প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পূর্তিও হচ্ছে।