Corporate Sangbad
জাতীয়

গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন, মৃত্যু বা ৫ বছর নিখোঁজে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে বিল পাস

প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন ·

জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’-এ জোরপূর্বক গুমের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। গুম হওয়া কোনো ব্যক্তি মারা গেলে অথবা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকলে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।”

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল পাসের জন্য সংসদে উপস্থাপন করেন।

জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলে জোরপূর্বক গুমকে আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপস-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অপরাধ প্রতিরোধ, বিচার, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সুরক্ষার জন্য এতে একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

বিল অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সরকারি কর্তৃপক্ষ বা বাহিনীর অনুমোদন, সহায়তা বা সম্মতিতে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক, অপহরণ বা অন্য কোনোভাবে তার স্বাধীনতা হরণ করার পর তা অস্বীকার করলে অথবা ওই ব্যক্তির অবস্থান, অবস্থা বা পরিণতি গোপন করলে এবং এর মাধ্যমে তাকে আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করলে তা জোরপূর্বক গুম হিসেবে গণ্য হবে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে আদালত তল্লাশি পরোয়ানা জারি করতে পারবেন। অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল প্রমাণ গ্রহণ এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, হুইসেলব্লোয়ার ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার বিধানও রাখা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার, ঘটনার সত্যতা জানার এবং নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি সম্পর্কে জানার অধিকার থাকবে।

বিলে একটি বিশেষ তহবিলের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করা হবে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ওই ব্যয় বহন করবে।

নিখোঁজ ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জীবনধারণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য তার সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তির সুবিধার্থে নিখোঁজ সনদ দেওয়ার বিধান রয়েছে।

এছাড়া জোরপূর্বক গুমের ঘটনায় একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তদন্ত ও বিচার—উভয় কার্যক্রমই সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার বিধান করা হয়েছে।