Corporate Sangbad
জাতীয়

৯ম পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ন ·

অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের ৯ম পে-স্কেল প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যা চলতি বছরের জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকাল ৫টায় সচিবালয়ে নতুন এক নম্বর ভবনের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এদিন বিকেল ৫টায় বৈঠকটি শুরু হয়।

বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত ‘বেতন ও চাকরি কমিশন, ২০২৬’ এবং এ-সংক্রান্ত সচিব কমিটির সুপারিশের আলোকে নতুন বেতন স্কেল ও ভাতাদি নির্ধারণের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। পরে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি অনুমোদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকেই নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে, কিন্তু তা ভেঙে ভেঙে দেওয়া হবে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে। প্রজ্ঞাপন জারি করতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো অনুযায়ী, সর্বোচ্চ বেতন (গ্রেড-১) ছিল ৭৮ হাজার টাকা ও সর্বনিম্ন (গ্রেড-২০) ৮ হাজার ২৫০ টাকা। নতুন বেতন কাঠামোতে তা গড়ে ১০০ শতাংশেরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদিত নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী, গ্রেড-১ এর জন্য ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০তম গ্রেডের জন্য নির্ধারিত বেতন ২০ হাজার টাকা। নতুন পে স্কেল অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৪২ ও সর্বনিম্ন ১০০ শতাংশ বেতন বাড়বে। এছাড়াও ৯ম পে-স্কেল অনুযায়ী প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালু হতে যাচ্ছে। যার আওতায় মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা দেয়া হবে।

জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে অক্টোবর থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে পারেন। তবে নতুন কাঠামো কার্যকর ধরা হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে। ফলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর-এই তিন মাসের বেতন পুনর্নির্ধারণ করে বকেয়া অর্থ পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ গেজেট প্রকাশে দেরি হলেও বেতন বৃদ্ধির কার্যকর তারিখ পিছিয়ে যাচ্ছে না।

মন্ত্রিসভার পর আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং পে-স্কেলের মূল বিষয়গুলো এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি অনুমোদিত হওয়ার পর প্রস্তাবটি প্রয়োজনীয় যাচাই ও পর্যালোচনার (ভেটিং) জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই প্রজ্ঞাপন জারির চূড়ান্ত পথ উন্মুক্ত হবে।

দেশের সার্বিক আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা ও বাস্তবায়নের কৌশল বিবেচনা করে সচিব কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। অর্থাৎ, কমিশনের মূল সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা হচ্ছে। একইসঙ্গে ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলের মূল বেতন ও ভাতাগুলো চার ধাপে বাস্তবায়িত হবে।

প্রথম ধাপ : চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের ৩০ শতাংশ কার্যকর করা হবে।

দ্বিতীয় ধাপ : আগামী বছরের জানুয়ারি (বছরের শুরু) থেকে আরও ৩৫ শতাংশ কার্যকর করা হবে।

তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপ : মূল বেতনের অবশিষ্ট অংশ পরবর্তী অর্থবছরের জুলাইয়ে ও এরপর ওই একই অর্থবছরের জানুয়ারিতে ভাতাগুলো বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হতে পারে।