দেশে সারের কোনো সংকট নেই, বরং চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ক্ষেত্র বিশেষ বিতরণ প্রক্রিয়ার কিছু সমস্যা আছে, এই সাময়িক সমস্যা দূর করতে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সার পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কৃষকদের যেন কোনো ভোগান্তি না হয়, সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রচুর সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট সরকারি ক্রয় কমিটির বৈঠকে ৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর এক সপ্তাহ আগে কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে আরও ১ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন সার ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।’
দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুতের তথ্য দিয়ে উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে দেশে ইউরিয়া ৪.৮২ লাখ টন, টিএসপি ৩.৬৯ লাখ টন, ডিএপি ৩.৬৮ লাখ টন এবং এমওপি ১.৪৬ লাখ টনসহ মোট ১৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সারের মজুত সংরক্ষিত রয়েছে। এর পাশাপাশি আরও বিপুল পরিমাণ সার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানির অপেক্ষায় ও চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
বিতরণ ব্যবস্থার অসংগতি ও কতিপয় স্থানে সাময়িক সংকট নিয়ে তিনি বলেন, সরকার কৃষক ও জনগণের স্বার্থে বিতরণ ব্যবস্থায় সুনির্দিষ্ট কিছু পরিবর্তন আনছে। কিছু ডিলার সময়মতো বরাদ্দকৃত সার না তোলায় যে সাময়িক অস্থিরতা দেখা গেছে, তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বদলি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।
পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ সার পরিবহন সম্পন্ন হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনা ও এলনিনো’র মতো প্রাকৃতিক অনিশ্চয়তার ঝুঁকি সামনে রেখে সরকার দেশকে খাদ্য নিরাপত্তার বলয়ে রাখতে আগেভাগেই সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ সুনিশ্চিত করছে।
ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।