Corporate Sangbad
জাতীয়

সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দমনে জিরো টলারেন্স: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ন ·

সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রগুলোকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা হবে।

শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। এ সময় মন্ত্রীদ্বয় চিকিৎসকদের কাছ থেকে তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢামেক হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সারাদেশে, বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটনসহ অন্যান্য মেট্রো এলাকায় যারা চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী—তাদের অতিশীঘ্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হেফাজতে নিতে বা আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের তৎপরতা সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, গত ১৭ আগস্ট রাতে অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমান শান্তিনগরে নিজের চেম্বার থেকে বের হওয়ার পর এই চক্রের হামলার শিকার হন। ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) তৎপরতায় মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে ঘটনাস্থল থেকে, একজনকে লক্ষ্মীপুর থেকে, একজনকে যাত্রাবাড়ীর দনিয়া থেকে এবং অন্যজনকে সাঁতারকুল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে মন্ত্রী জানান, চক্রের মূল হোতা বিদেশে থাকাকালীন হুন্ডি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরে এই অপরাধ চক্র গড়ে তোলে। বড় বড় হাসপাতাল, খ্যাতিমান চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও ধনাঢ্য পেশাজীবীদের টার্গেট করে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পরবর্তীতে শারীরিক হামলা চালিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। চাঁদাবাজি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

অপরাধে সহযোগিতাকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা অপরাধীদের তালিকার পাশাপাশি এসব চাঁদাবাজির সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত থাকলে বা সহায়তা করলে তাদের তালিকাও প্রস্তুত করছি।”

স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এছাড়া কোনো চিকিৎসক নিজস্ব চেম্বার বা ক্লিনিকে বিশেষ নিরাপত্তা ঝুঁকি বোধ করলে পুলিশকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চিকিৎসকরা নিজেদের নিরাপত্তায় শর্ত সাপেক্ষে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র বা লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলে সরকারের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মো. শফিকুল ইসলাম এবং ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে একই চক্রের হুমকির শিকার অপর চিকিৎসক ডা. এ কে এম আমিনুল হককে দেখতে যান।