Corporate Sangbad
জাতীয়

সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন, ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ন ·

ঐতিহাসিক ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অত্যন্ত সুন্দর ও সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এ তথ্য জানান।

সিইসি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আমাদের যতরকম প্রস্তুতি প্রয়োজন তা আমরা সম্পন্ন করেছি। আমাদের প্রস্তুতির মধ্যে কোনো ঘাটতি নেই। এই নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা পাচ্ছি। আমাদের বিশ্বাস, সুন্দর একটা নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারব।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিকে বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে। সুতরাং এটা একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এটা আমার জন্য একটা ভাগ্যের ব্যাপার।

সিইসি বলেন দেশবাসী, পুরা জাতি এবং বিশ্ববাসী জানে আমাদের একজন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। আপনারা সবাই জানেন, ১৯৯১ সালে প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। এরপরে কিন্তু আর হয়নি। একারণে আমরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে অভ্যস্ত না। সংসদ সচিবালয় যেখানে গভীরভাবে ইনভলভ থাকেন উনারাও এই ধরনের কার্যক্রম করে অভ্যস্ত না। তারপরও আমরা যত রকমের এক্সারসাইজ সম্ভব এবং দরকার সেটা করেছি। যাতে করে আমাদের পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনো গ্যাপ না হয়।

তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের আইনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা আছে। আইন এবং বিধিমালার আলোকে আমরা দেখেছি যে কয়েকটা স্তরে এই কার্যক্রমটাকে ভাগ করা যায়। এক নম্বর হচ্ছে যদি জাতীয় সংসদের সেশনে থাকে তাহলে এক ধরনের ব্যবস্থা। আর যদি সেশনে না থাকে তা হলে আরেক ধরনের ব্যবস্থা। এখন আমাদের জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলছে না। অধিবেশন ডাকতে হবে, এমনও না। শুধু নির্বাচনের জন্য একটা বৈঠক আহ্বান করলেই চলে। আইনের আছে এটা নির্বাচনী কর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া আছে। উনি একটা বৈঠক আহ্বান করবেন। সংসদ সদস্যরা ভোট দিবেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছি। আমাদের ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৩৪৯ জন। ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট হবে। এখানে আমাদের রাষ্ট্রপতি একজন ভোটার। প্রধানমন্ত্রী ভোটার, স্পিকার ভোটার, তেমনি বিরোধী দলের নেতাও ভোটার।

সিইসি জানান, প্রথম দিকে যখন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার এবং বিরোধী দলীয় নেতা ভোট দিবেন তখন লাইভ টেলিকাস্ট হবে। তারপরে আমরা ৫টার সময় ভোট গণনা শুরু করলে আবারও লাইভ টেলিকাস্ট হবে।

পরবর্তী সময়ে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে ভোট গণনা কার্যক্রম শুরু হবে। সেই সঙ্গে ভোট গণনা ও চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার মুহূর্তটিও বিটিভিতে সরাসরি প্রচার করা হবে বলে জানান তিনি। 

সংসদ সদস্যরা যেহেতু ভোটার, ভোট দিয়েই চলে যাবেন এমন না, তারা উপস্থিত থাকতে পারবেন। এমনকি উনারা ভোট গণনার সময়ও থাকতে পারবেন। এটা খুব স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হবে। সুতরাং এখানে কারোও কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়।

কোন প্রার্থী কতটি ভোট পেল, কতটি ভোট বাতিল বা নষ্ট হলো, সংখ্যাগুলো সব বিস্তারিত আমি ঘোষণা করব। যিনি বিজয়ী হবেন বা যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাবেন, তার নাম ঘোষণা করে দিব। এরপর গেজেট প্রকাশ করব।