Corporate Sangbad
শেয়ারবাজার

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৫ জনের বেতন অবনমন

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ন ·

চাকরি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের আরো পাঁচজন কর্মকর্তার বেতন অবনমন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) অনুষ্ঠিত বিএসইসির কমিশন সভায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে গত ২৩ জুলাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর (শোবিজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বাধ্যতামূলক অবসরের শাস্তি পাওয়া ১৭ কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন—

নির্বাহী পরিচালক: রেজাউল করিম
পরিচালক: আবুল হাসান ও মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মজুমদার
অতিরিক্ত পরিচালক: নজরুল ইসলাম ও মোল্যা মো. মিরাজ উস সুন্নাহ
যুগ্ম পরিচালক: রাশেদুল আলম
উপপরিচালক: নান্নু ভূঞা, কাজী মো. আল-ইসলাম, সহিদুল ইসলাম, বনী ইয়ামিন খান ও তৌহিদ হাসান
সহকারী পরিচালক: আমিনুল হক খান, আবদুল বাতেন ও সাজ্জাদ হোসেন
ব্যক্তিগত কর্মকর্তা: আবু ইউসুফ, কাওসার পাশা ও সমীর ঘোষ

এছাড়াও চলতি বছরের শুরুতে বিএসইসির পরিচালক আবু রায়হান মো. মোহতাছিন বিল্লাকেও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল।

অন্যদিকে, নিয়মের ব্যত্যয়ের কারণে বিএসইসির ৫ কর্মকর্তার বেতন অবনমনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

তারা হলেন—সহকারী পরিচালক: জনি হোসেন, রায়হান কবির, তরিকুল ইসলাম ও মাকসুদ মিলা

লাইব্রেরিয়ান: সেলিম রেজা

বরখাস্ত হওয়া একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল বিএসইসির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তে কথা তাদের জানানো হয়। তবে বরখাস্তের আনুষ্ঠানিক চিঠি তারা আজ বুধবার হাতে পেয়েছেন। অনেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এই চিঠি গ্রহণ করেন।

বাধ্যতামূলক অবসরের শাস্তি পাওয়া এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিএসইসি ঠিক কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট নন। তার দাবি, এ ধরনের শাস্তি পাওয়ার মতো কোনো অপরাধ তিনি করেননি। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে বিএসইসির কয়েকজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনায় সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। এ নিয়ে কর্মকর্তা এবং কমিশন কর্তৃপক্ষের মধ্যে বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিরও উদ্ভব হয়েছিল।

বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ মার্চ বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও অন্য কমিশনারদের কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রেখে নাজেহালের ঘটনায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে মোট ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নিয়েছে বিএসইসি। ২২ কর্মকর্তার মধ্যে ১৭ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে এবং ৫ জনের বেতন সর্বনিম্ন স্তর বা গ্রেডে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়।

গত বছরের ৬ মার্চ রাজধানীর শেরেবাংলা থানায় বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ ও নাজেহালের ঘটনায় ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত গানম্যান আশিকুর রহমান বাদী হয়ে ওই মামলা করেছিলেন।

ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি এ ঘটনায় সরকারি বিধি অনুযায়ী তদন্ত ও বিভাগীয় মামলা রুজু হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেই তদন্ত এবং অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এরপর নানা প্রক্রিয়া শেষে সরকারের পক্ষ থেকে মোট ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএসইসিতে নির্দেশনা পাঠানো হয়।

এই ২৩ কর্মকর্তার মধ্যে ২২ জনের বিরুদ্ধে গতকাল ব্যবস্থা নিয়েছে বিএসইসি। অন্য কর্মকর্তা আগেই অন্য আরেক অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।